বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিনাজপুরের বিরামপুরে সরকারি জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মান বন্দরে তিতাসের অধিগ্রহনকৃত জমি রক্ষা পেলনা মাসুম চেয়ারম্যানের হাত থেকে অপরিকল্পিতভাবে ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় অবরূদ্ধ পরিবারটি পীরগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে অধ্যক্ষ খলিলের মতবিনিময় নওগাঁর মহাদেবপুরে গলা পায়ের রগ কাটা মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যাক্তিকে উদ্ধার আলোচিত যুবলীগ নেতা মিলনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় চারজনের আদালতে আত্মসমার্পণ বিশ্বম্ভরপুরে চেয়ারম্যান রনজিতের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ফুলবাড়ীতে ফেন্সিডিল-গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক শোকাহত মতিউরের পরিবারের পাশে চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিল দিনাজপুরের হাকিমপুর নর্ব নিবাচিত পৌর মেয়রকে গণ সংর্বধনা

গ্রাম পুলিশদের সম্মান ও সম্মানী কোনোটাই নেই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৯ বার পঠিত
ফাইল ফটো

॥ মোশাররফ হোসেন মুসা ॥
প্রহর’ শব্দ থেকে প্রহরী শব্দটি এসেছে। প্রাচীন বাংলায় জাগানিয়া ( সদা সতর্ককারী), প্রহরী( ৩ ঘন্টায় এক প্রহর), অষ্ট প্রহরী(২৪ ঘন্টা পাহারারত) ইত্যাদি নামে গ্রাম পুলিশের অস্তিত্ব ছিল। মোঘল আমলে তারা পাশবন, নিঘাবন ও চৌকিদার নামে পরিচিত ছিল। তারা গ্রাম এলাকা পাহারা সহ রাস্তাঘাটও পাহারা দিত।

স্থানীয় শাসনের সুবিধার্থে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রশাসনিক ইউনিট সৃষ্টি করে; যেমন, পঞ্চায়েত, ইউনিয়ন, থানা, মহকুমা, জেলা, পৌরসভা ইত্যাদি। কিন্তু স্থানীয় শাসন শুরু হয় পাড়া/ মহল্লার আইন-শৃঙ্খলার রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে। বৃটিশ শাসনের পুর্বে তৎকালীন ভারত বর্ষে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা( পাঁচ জনের শাসন) প্রচলিত ছিল। তখন গ্রামগুলো স্বয়ং সম্পূর্ণ ছিল।

রাজা/সম্রাট/সুলতানের কার্যালয় ( সরকার) ছিল খুবই দূরবর্তী প্রতিষ্ঠান। সেজন্য গ্রামের লোকেরা নিজস্ব অর্থায়নে পাহারাদার নিযুক্ত করতো। চৌকি থেকে ‘চৌকিদার’ শব্দটি এসেছে। বৃটিশ সরকার গ্রাম চৌকিদারি আইন, ১৮৭০ প্রণয়নের মাধ্যমে তাদেরকে আইনী স্বীকৃতি দেয়। তাদের কোমর বন্ধনী ও টুপিতে বৃটিশ রাজের মনোগ্রাম থাকায় সকলে তাদেরকে সমীহ ও মান্য করতো( ‘মোর দাদা চহিদার, মুই আইনের মানুষ’ বাক্যটি ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই)।

এরপর পাকিস্তান আমলে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ’ ১৯৫৯ এর প্রেক্ষিতে তাদের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে দফাদার ও মহল্লাদার রাখা হয়। তখন তাদের বেতন ছিল পঞ্চাশ টাকা; যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সমান। স্থানীয় সরকার( ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর মাধ্যমে তাদের নাম গ্রাম পুলিশ রাখা হয় এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বিষয়ক কার্যাবলী নির্দিষ্ট করা হয়। স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী বিধিমালা, ২০১১ জারীর মাধ্যমে তাদের চাকুরির শর্ত ও পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে গ্রাম পুলিশদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও শর্তাবলী স্থানীয় সরকার( ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনী গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে একজন দফাদার ৭ হাজার ও একজন মহল্লাদার ৬ হাজার পাঁচশত টাকা বেতন পান( যার অর্ধেক ইউনিয়ন পরিষদ ও বাকী অর্ধেক সরকার বহন করে)।

তবে আশার কথা, মহামান্য হাইকোর্ট গত বছর ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর চুড়ান্ত শুনানী শেষে প্রায় ৪০ হাজার গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা রাজস্ব খাত থেকে ২০তম ও ১৯তম গ্রেডে দেয়ার জন্য পুর্নাঙ্গ রায় প্রদান করেন। বিভিন্ন সরকার তাদের নাম গ্রাম পুলিশ রেখেই খালাস দেন । পুর্বে তাদের যতটুকু সম্মান ও মর্যাদা ছিল বর্তমানে সেটাও নেই। চেয়ারম্যান, মেম্বর, সেক্রেটারি, থানা পুলিশ সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের হুকুম তামিল করতে তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে।

কোনো কোনো ইউনিয়নে চেয়ারম্যান-মেম্বররা তাদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ-কর্ম করিয়ে থাকে। কোনো কোনো জায়গায় চেয়ারম্যান-মেম্বর দ্বারা তাদেরকে অপদস্থ হতে দেখা যায়। সেসঙ্গে থানা পুলিশের ধমক-ধামক তো রয়েছেই। বলা যায়, সামন্ত অবশেষের অসুস্থ ঐতিহ্যে প্রত্যক্ষ শিকার তারা । প্রতি সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে তাদেরকে থানায় হাজিরা দিতে হয়। থানা পুলিশের কাছে গ্রামের অচেনা মানুষ দুর্বৃত্ত সহ আসামীদের খবর তাদের দিতে হয়। ফলে দুর্বৃত্তরা তাদেরকে শত্রু হিসেবে দেখে থাকে।

চোর-ডাকাত ও নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মী দ্বারা গ্রাম পুলিশ খুন হওয়ার বহু ঘটনা রয়েছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও গ্রাম আদালতের নোটিশ জারী, জমি জরিপ কাজ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, স্যানিটেশন কার্যক্রম, পরিবেশ রক্ষা, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক নিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সহ প্রায় সত্তর প্রকারের দায়িত্ব দেয়া আছে( সুত্রঃ গ্রাম পুলিশের প্রশিক্ষণ হ্যান্ডবুক)। উল্লেখ্য, যে সকল ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভায় রূপান্তরিত হচ্ছে, সেসব পৌরসভায় গ্রাম পুলিশের চাকুরি থাকছে না।

অন্যদিকে ২০৫০ সালের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশই পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন গ্রাম পুলিশের চাকুরির কি হবে! যদিও উন্নত বিশ্বে ‘নগর পুলিশ’ নামে আলাদা বাহিনী রয়েছে। এক্ষেত্রে দুই প্রকারের সরকার ব্যবস্থা তথা- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থাই সমাধান দিতে পারে। ইউনিয়ন সরকারে গ্রাম পুলিশরা ‘ ইউনিয়ন পুলিশ’ এবং নগরে তারা ‘নগর পুলিশ’ নামে কর্মরত থাকবে।

গ্রাম পুলিশরা ইউনিয়ন কেন্দ্রিক অপরাধীদের ধরে গ্রাম আদালতে এবং মামলার ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকা্ররে আদালতে সোপর্দ করবে । তাদের বেতন-ভাতা স্থানীয় সরকার বহন করবে। এদেশে দীর্ঘদিন এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা বহাল থাকায় মানুষের ধারণা কেন্দ্রীয় সরকারই হলো একমাত্র সরকার, স্থানীয় সরকার কোনো সরকার না।

কিন্তু স্থানীয় সরকারের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের পুলিশ একই পদমর্যাদার হয় এবং তাদের অস্ত্রও যে একই হয়, সেটা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালেই প্রমাণ পাওয়া যায়।
লেখকঃ গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক।email- musha.pcdc@ gmail.com।

(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব যা সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয় ।)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451