মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন

খুলনা গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র শহিদ শেখ আবুনাসের হাসপাতাল

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬২ বার পঠিত

খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। ১৯৯৮ সালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। আর ২০১০ সাল থেকে শুরু হয় এর কার্যক্রম।

আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা জানা যায়, বিভাগের ১০ জেলাসহ আশপাশের অনেক এলাকা থেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন হাজারও রোগী। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারনে ব্যহত হচ্ছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতালের বহির্বিভাগে স্বল্প পরিসরে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। দূর-দূরন্ত থেকে আসা আনেক রোগী ফিরে যাচ্ছেন চিকিৎসা না নিয়েই। অন্যদিকে, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখনও তা পুরোপুরি চালু হয়নি। শয্যা সংখ্যা কম থাকায় রোগী ভর্তিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

তবে খুব দ্রুতই এ সব সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন হাসপাতালটির নবনিযুক্ত পরিচালক। সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে মোট ৯৩টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩৮ জন চিকিৎসক। বাকি ৫৫টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে। চীফ কনসালটেন্ট হিসাবে কার্ডিওলোজী ১, কার্ডিওথোরাসিক এন্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারী ১, নিউরোলজি ১, নেফ্রোলোজী ১ এবং অর্থোপেডিকসে ১টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র অর্থোপেডিকসে ১টি পদ ছাড়া বাকি ৪টি পদই শূন্য রয়েছে।

সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কার্ডিওলোজী ১, কার্ডিওথোরাসিক এন্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারী ২, পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারী ১, নিউরোসার্জারী ১, ইউরোলোজী ১, এ্যানেস্থেসিওলোজী ১, রেডিওলোজী এন্ড ইমেজিং ১, ব¬াড ট্রান্সফিউশন ১, কার্ডিওথোরাসিক এ্যানেস্থেসিয়া এন্ড ওটি ১ এবং প¬াস্টিক সার্জারী এন্ড বার্ন ইউনিটে ১টি পদসহ মোট ১২টি পদের বিপরীতে কার্ডিওলোজী, রেডিওলোজী এবং কার্ডিওথোরাসিক এন্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারীতে ৩ জন কর্মরত রয়েছেন। শূন্য রয়েছে ৯টি পদ।

জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসাবে কার্ডিওলোজী ১, কার্ডিওভাসকুলার এন্ড কার্ডিওথোরাসিক সার্জারী ১, নিউরোসার্জারী ১, নিউরোলজি ১, নেফ্রোলোজী ১, ইউরোলোজী ১, অর্থোপেডিকস ১, আইসিইউ ১, প্যাথলোজী ১, মাইক্রোবায়োলোজী ১, বায়োকেমিস্ট্রি ১, কার্ডিওথোরাসিক এ্যানেস্থেসিয়া এন্ড ওটি ১, কার্ডিয়াক এ্যানেস্থেসিয়া ১, কার্ডিয়াক সার্জারী ১ এবং প¬াস্টিক রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারী ১টি সহ মোট ১৫টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৮টি পদ। এছাড়াও আর পি, আর এস, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, মেডিকেল অফিসার/ সহকারী সার্জন/ সমমান (ইএমও/আইএমও) এর মোট ৬১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। বাকি ৩৪টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে। হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন দূর-দূরন্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন ৫-৬শ’ রোগী। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

বহির্বিভাগে স্বল্প পরিসরে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটির নিউরোলোজী বহির্বিভাগে রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহের শনিবার ও বৃহস্পতিবার ২ দিন বন্ধ রাখা হচ্ছে এ বিভাগ। এছাড়া নেফ্রোলোজী বহির্বিভাগে শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার রোগী দেখা হচ্ছে। এ বিভাগটি বন্ধ থাকছে রবি, সোম ও বুধবার। সপ্তাহের বেশ কয়েকদিন বিভাগগুলো বন্ধ থাকায় ফিরে যাচ্ছেন দূর-দূরন্ত থেকে আসা অনেক রোগী। এছাড়া অন্যান্য বিভাগেও চিকিৎসক না থাকায় পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

অপর দিকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার এটি একটি বড় কারণ। একজন চিকিৎসক তার নির্ধারিত সময়ে যে পরিমাণ রোগী দেখতে পারেন তার থেকে দ্বিগুণ রোগী বর্তমানে দেখা লাগছে তাদের। এতে একজন রোগী দেখার জন্য যে সময় প্রয়োজন তা তারা দিতে পারছেন না। ফলে অনেক রোগী অসন্তোষও প্রকাশ করছেন। এদিকে ২৫০ শয্যার মধ্যে হাসপাতালে চালু রয়েছে ১৭৩টি শয্যা। চালু হয়নি বাকি ৭৭টি। কার্ডিওথোরাসিক এন্ড ভাস্কুলার সার্জারী বিভাগের ৩০টি শয্যার মধ্যে চালু রয়েছে মাত্র ৫টি।

বাকি ২৫টি শয্যা এখনও চালু হয়নি। নিউরোসার্জারী বিভাগে ৩০টি শয্যার মধ্যে চালু হয়েছে ১৮টি। নিউরোমেডিসিন ও নেফ্রোলোজী বিভাগে বরাদ্দকৃত ২৫টি করে মোট ৫০টি শয্যাই চালু রয়েছে। ইউরোলোজী বিভাগে ৩০টি শয্যার মধ্যে চালু রযেছে ২৫টি শয্যা। প¬াস্টিক রিকনস্ট্রাকটিভ এন্ড বার্ন ইউনিটে ৩৫টি শয্যার বিপরীতে চালু রয়েছে ২০টি। ইলেক্টিভ অর্থপেডিকস সার্জারী বিভাগে ২৫টি শয্যার বিপরীতে চালু রয়েছে ১৫টি।

রিসিপশন বিভাগে ১০টি শয্যা বরাদ্দ থাকলেও চালু হয়নি একটিও। তবে ১০টি আইসিইউ শয্যা এবং কার্ডিওলোজী বিভাগের (সিসিইউ ও পিসিসিইউ) ৩০টি শয্যার মধ্যে সবগুলোই চালু রয়েছে। হাসপাতালে সবগুলো শয্যা পরিপূর্ণ না থাকায় দূর-দূরন্ত থেকে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আশা রোগীরা ফিরে যান বা ভর্তি হন ব্যয়বহুল বেসরকারি কোন ক্লিনিকে।

অনেক সময় রোগীরা দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকেন কখন একটি শয্যা খালি হবে। এছাড়া শয্যা না পেয়ে ফিরে যাওয়া অনেকেই বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের দালালদের ফাঁদে পড়েন। শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার এ প্রতিবেদক কে বলেন, অল্প কিছুদিন হলো আমি এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছি। আমি হাসপাতালটি ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি।

চিকিৎসক না থাকলে অবশ্যই হাসপাতালে সমস্যা হয়। এছাড়াও বাড়তি চাপ নিতে হয় কর্মরত চিকিৎসকদের। চিকিৎসক নিয়োগের ব্যাপারে সংশি¬ষ্ট দপ্তরে ২ বার আমি গিয়েছি এবং বেশ কয়েকটি চিঠি দিয়েছি। পরে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ২ জন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে এবং এই মাসের শেষের দিকে আরও চিকিৎসক দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান হাসপাতালটির পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, এ হাসপাতালের শয্যার বিষয়ে সংশি¬ষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২৪ ফেব্র“য়ারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সভায় এ বিষয় নিয়ে কমিটির সকলের সাথে আলোচনা করা হবে। খুব দ্রুতই এ সব সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন হাসপাতালটির শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451