মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে খোলা আকাশের নিচে চাকুরির প্রস্তুতির

জে. ইতি, হরিপুর প্রতিনিধি (ঠাকুরগাঁও)ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ৫১ বার পঠিত

২১-এর ৪, ২২-এর ২, ২৩-এর ১, ২৪–এর ২, ২৫-এর .. মাঠের কোণে বলিষ্ঠ উচ্চারণে এমন সুর শুনে থমকে দাঁড়ান অনেক পথচারী। ব্যস্ততার মধ্যেও একটুখানি দাঁড়িয়ে লোহার গ্রিলের ফাঁকে উঁকি দিয়ে সুরের উৎস খোঁজেন কেউ কেউ। উৎসের সন্ধান পেয়ে একটুখানি মুচকি হেসে চলতে শুরু করেন পথচারীরা। এটি মূলত চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শেষে বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্র মিলিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড়মাঠে ৬০ জনের একটি দলকে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। বৃত্তাকারে বসা সবার হাতে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তরপত্র। আর তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলিষ্ঠ উচ্চারণে সঠিক উত্তরটি বলে দিচ্ছেন একজন। বাকিরা নিজ নিজ উত্তরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছেন। সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

বয়স ২২ থেকে ২৬ বছর। একই মাঠে কয়েকটি দল দেখা গেল। যাঁরা সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার পাঠ নিয়েও আলোচনা করছিলেন।

দল বেঁধে চাকরির পরীক্ষার এমন প্রস্তুতিকে তাঁরা বলছেন স্টডি গ্রুপ। গ্রুপের মূল দায়িত্বে আছেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহেল রানা। তিনি বলেন, মাস চারেক আগে সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সম্মান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ রানা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ময়না আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী দল বেঁধে পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনিও সম্পৃক্ত হন। পরে নিজের কলেজসহ অন্য কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রুপের জন্য পরিচালনা পরিষদ গঠন ও কর্মপন্থা ঠিক করেন।

বিভিন্ন চাকরির প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা নিজেরাই তৈরি করেছেন সিলেবাস। সেই অনুসারে সপ্তাহের পাঁচ দিন শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেন। আর শুক্রবার সকালে চলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পর মূল্যায়ন পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করার দায়িত্ব পালন করেন স্টাডি গ্রুপ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা। উত্তরপত্র ছাপার জন্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেককে ১০ থেকে ১৫ টাকা দিতে হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা নিজের উত্তরপত্র নিজেই মূল্যায়ন করেন। সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়। বর্তমানে এই গ্রুপে ১৩০ জন সদস্য আছেন। তবে পরীক্ষায় নিয়মিত অংশ নেন ৬৫ থেকে ৮০ জন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাধারণত কঠিন বিষয়গুলো নিয়েই দলে আলোচনা করা হয়। যেসব বিষয় সহজে মাথায় ধরে না, তা অনেক শিক্ষার্থীই এড়িয়ে যান। ফলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। দল বেঁধে পড়ালেখায় সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা বেরিয়ে আসে। একজন একটা বিষয় বুঝতে না পারলে অন্যজন বুঝিয়ে দিতে পারেন।

‘স্টাডি গ্রুপের’ সাফল্য ইতিমধ্যে আসতে শুরু করেছে বলে জানালেন বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী। সোহেল রানা বলেন, এই দল থেকে এলজিইডিতে একজনের চাকরি হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন ১৬ জন। সামনেই বিসিএস ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। ওই সব পরীক্ষায় এই গ্রুপ থেকে অনেকেই ভালো ফল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451