সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

বরেন্দ্র অঞ্চলে ভু-গর্ভস্থের পানি হুমকির মধ্যে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩০ বার পঠিত

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলাসহ গোদাগাড়ীর কিছু অংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বেশ কিছু এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বর্তমানে ভূগর্ভস্থের পানি চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দিনের দিন ভূগর্ভস্থ’ পানির স্তর শূন্য হয়ে পড়ছে।

ফলে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে যেমন তেমনি ভাবে বাড়িতে বসানো খাবার পানির জন্য শত শত সাবমার্সেবল পাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএমডিএ) এর গভীর নলকূপ গুলো পানি সঙ্কটে ধুকে ধুকে চলছে একাধিক কৃষকরা নিশ্চিত করেন।

দিন রাত অপেক্ষা করে জমিতে মিলছে পানি বলেও অভিযোগ ভুক্ত ভোগীদের।ফলে বোরোতে সেচ দেয়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গভীর নলকূপ অপারেটর থেকে শুরু করে কৃষকেরা।

জানা গেছে, বন্ধ শুধু সাবমার্সেবল পাম্পই নয়,ভূগর্ভস্থ’র তলদেশের পানির পরিমাপ কূপ মুন্ডুমালা পৌরসভা ও বাধাইড় ইউনিয়নে একটি করে অনেক গভীরতায় বসানো ছিল,সে পরিমাপ কূপ দুইটিও পানি শূন্যে বন্ধ হয়ে অকেজো হয়ে গেছে।

চৈত্রের ধুধু খড়ায় কমে গেছে খাল-বিলের পানি। শুকনো হয়ে পড়েছে অনেক পুকুরও। এমন অবস্থায় বরেন্দ্র অঞ্চলের উচুঁ অঞ্চল গুলোতে খাওয়ার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

এরকম অবস্থা চলতে থাকলে বরেন্দ্র অঞ্চলে অদুর ভবিষ্যতে পানির চরম সংকট দেখা দিবে । এধরনের সমস্যার কথা অনেক আগে থেকেই পরিবেশ বাদিরা বলে আসছিলেন। ভূগর্ভস্থ’ পানির লেয়ার বিগত এক যুগে দ্বিগুনের বেশি নিচে নেমে গেছে। গবেষকদের কথা আজ বাস্তবে র“প নিতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।

এর আগে ২০১৫ সালে ভূ-গর্ভস্থ’ পানির স্তর ক্রমাগতভাবে নিচে নামায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ৩টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়ানকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল । কিন্তু ওই সময় তেমন গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বে- সরকারী সংস্থা ডাসকো ফাউন্ডেশন পরিচালিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (আইডাব¬ুউআরএম) নামের একটি প্রকল্প জরিপ চালিয়ে এসব এলাকাকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ঝুঁকিপুর্ণ ওইসব এলাকায় অতি জর“রিভাবে ভূ-গর্ভস্থ’ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করে বিকল্প উপায়ের মাধ্যমে পানির ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিল সংস্থাটি। তাঁরা ওই সময় বলেছিল এরকম অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই ওইসব এলাকায় মিঠা পানির তিব্র সংকট দেখা দিবে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘ ১ বছর বরেন্দ্র অঞ্চল জুড়ে জরিপ চালিয়ে সরকারেকে এমনই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন আইডাব-ুউআরএম নামের সংস্থাটি বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০১৪ সালে পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ে এই জরিপটি পরিচালনা করেন।

সুত্র মতে, সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এক যুগ আগে এসব ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ৬০ থেকে ৯০ ফিটের মধ্যে সচারচর পানি পাওয়া যেত। বর্তমানে তা ১৬০ ফিট বা তারও নিচে গিয়েই পানি মিলছে না উঠে আসে ছোট পাথর বা লালচে আকারের মাটিসহ নানান কিছু ।

ঝুঁকিপুর্ণ ওইসব পৌরসভা ৩টি হলো রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভা, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভা।

এছাড়া ১৫টি ইউনিয়নগুলো হলো, রাজশাহী তানোর উপজেলার বাঁধাইড, কলমা, পাঁচন্দর, গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর, পাকড়ী, গোদাগাড়ী ইউনিয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার, গোবরা তলা ও ঝিলিম ইউনিয়ন, নাচোল উপজেলার কসবা ও নেজামপুর ইউনিয়ন, ভোলাহাটের দলদলি ইউনিয়ন, গোমাস্তাপুরের পার্বতীপুর , রহনপুর, রাধানগর, ইউনিয়ন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গুলো সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচচতা ৬৫ সেন্টিমিটার। ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকাগুলোতে অতি দ্রুত গভীর নলকূপের পানি দিয়ে বোরো আবাদ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পানির রিচার্জ করতে বিদ্যমান বড় পুকুর ও খাড়িগুলো খনন করে ভূ-উপরস্থ’ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪টি পৌরসভা ও ৩৫ ইউনিয়ানকে অতি ঝুঁকিপুর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পর থেকেই এসব ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চল গুলোতে প্রায় ৪৮ টি কূপ বসিয়ে ভূ-গর্ভস্থর পানি স্তরের নিয়মিত পরিমাপ করে আসছেন ডাসকো ফাউন্ডেশন পরিচালিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (আইডাব¬ুউআরএম) নামে একটি জরিপ সংস্থা।

সংস্থাটি সর্বশেষ ২০১৮ সালে মার্চ মাসের ঝুঁকিপুর্ণ এলাকায় ৪৮ টি পরিমাপ কূপ দিয়ে ভূ গর্ভস্থর পানি স্তরের মাপ গ্রহন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভা ও বাধাইড় ইউনিয়ন এবং গোমাস্তপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নে দ্র“ত গতিতে পানি নেমে যা”েছ। ফলে এ দুই ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ভূ-তত্ব ত্ত খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান। বরেন্দ্রে অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ’ পানির স্তর নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে গবেষণা করছেন।

ড.চৌধুরী সারওয়ার জাহান জানান,বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নামাই চিন্তিত গবেষকেরা। কারণ নিচে পানি শূণ্য হলে বালি,পাথর ফাকা হয়ে পড়বে। তাতে করে সামান্য ভূমিকম্প হলেই দেবে যেতে পারে।

এ গবেষক আরও বলেন,বরেন্দ্র অঞ্চল কে বাচাতে পানির কোন বিকল্প নাই। প্রথমেই ভূ-গর্ভস্থ’ থেকে সেচ কাজে পানি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে পুকুর-খাড়ি বেশি করে খনন করতে হবে। বাসা বাড়ির ছাদের পানি ভূ-গর্ভস্থ’ ভিতরে রিফানিং করে ঢুকাতে হবে। এক কথায় বৃষ্টির পানি বেশি বেশি রির্চাজ করতে হবে।

এজন্য সরকারের পাশাপাশি এসব অঞ্চলের কৃষক,শিক্ষক,ইমানগন ও সচেতন ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। তার আগে সরকারকে এসব অঞ্চলের কৃষি জমিতে সেচ দিতে বিকল্প উপায়ে পানির ব্যবগস্থা’ করতে পারলেই সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে মনে হয়।

তানোরের মুন্ডমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, এ এলাকার প্রধান সমস্যা এখন সেচ ও খাবার পানি। একের পর এক সাবমার্সেবল নলকূপ বসিয়েও পানি সংকট সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র দুই বছর আগে বসানো সাবমার্সেবল পাম্পগুলো পানির অভাবে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।।

চৈত্র মাস পড়তে না পড়তেই পুকুরের পানি তলানিতে। তবুও পচা দুর্গন্ধ। এখন গ্রামবাসীর খাওয়ার পানির ভরসা একব্যাক্তির বাড়িতে বসানো একইঞ্চি পাইবের সাবমার্সেবল পাম্প। তাও পানির অভাবে বন্ধ হতে শুরু করেছে।

বাধাইড় ইউপি চেয়াম্যান আতাউর রহমান বলেন,তার ইউনিয়নে ১৫০টির মত সাবমার্সেবল পাম্প দিয়ে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক পাম্প তলদেশে পানি না থাকায় বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এতে ইউনিয়ন বাসির খাওয়ার পানি নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন ।

অনেক পুকুর শুকায় চৈাচির হয়ে গেছে। গরু-ছাগল,হাড়িপাতিল মাজা ঘোষা সবই করতে হচ্ছে দুরদুরান্ত থেকে কেনা আনা পানিতেই। যার ফলে গ্রামে এখন চলছে পানির হাহাকার।

তিনি আরো বলেন,বোরো মৌসুমে বেশি মাত্রায় পানি ব্যবহারের ফলে এ অঞ্চলে প্রতি বছর গড়ে দুই ফুট করে পানির লেয়ার নিচে নেমে যা”েছ। দীর্ঘ দিন ধরে এমনটি হওয়ার কারণে পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ডাসকো ফাউন্ডেশন পরিচালিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (আইডাব¬ুউআরএম) এর বরেন্দ্র অঞ্চলে দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী প্রজেক্টর জাহাঙ্গীর আলম খাঁন জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ থেকে অতিরিক্ত হারে মিঠাপানি উত্তোলনের ফলে ক্রমাগতভাবে পানির স্তর নিচে নামছে।

তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভা ও বাধাইড় ইউপি দুইটি পর্যবেক্ষন কূপ(মাপ) প্রায় ৩০০ ফুট গভীরে বসানো ছিল। চলতি বছর এ দুই কূপও পানি শূন্য হয়ে অকেজো হয়েগেছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন,তাদের সংস্থার পক্ষে সরকারে কাছে সুপারিশে অতিঝুঁকিপুর্ণ দুই ইউনিয়ন এলাকায় অতি জর“রিভাবে ভূ-গর্ভস্থ’ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করে বিকল্প উপায়ের মাধ্যমে সেচ কাজে পানির ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তার পরেও যদি সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করে তাহলে মাত্র দুই তিন বছরের মধ্যে কৃষি কাজে সেচ তো দুরের কথা খাওয়ার জন্য মিঠা পানির তীব্র সংকটে পড়বে এলাকার মানুষ। গত ৫ বছর আগে পাঠানো সুপারিশগুলো সরকার বাস্তবায়ন করলে আজ সে সঙ্কটে পড়তে হতনা বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান,বরেন্দ্র অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি উঁচু পার্বতীপুর ইউনিয়ন। এখানে সমুদ্র পৃষ্ঠের সমতল থেকে ১৩৫ ফুট উঁচু। এর পরে আছে বাধাইড় ইউনিয়ন। এ দুই ইউনিয়ন কে সেনসেটিভ জোন হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। পরের স্থানে রয়েছে, মুণ্ডুমালা পৌর

এলাকা,পাঁচন্দর,ঝিলিম,নেজামপুর ইউনিয়ন। তাই তাদের দেয়া সুপারিশ গুলো সরকারকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে পানির রিচার্জ করতে বিদ্যমান বড় পুকুর ও খাড়িগুলো খনন করে ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) গবেষক রাজ্জাকুল ইসলাম জানান, ১৯৮০ সালে এ অঞ্চলে পানির স্তর মাত্র ৩৯ ফুট নিচে ছিল। তবে ৩৬ বছরের ব্যবধানে ২০১৬ সালে ১১৮ ফুট নিচে নেমে গেছে। ১০০ থেকে ১৫০ ফুট নিচে পাতলা একটা পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশের গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ৫০০ মিলিমিটার হলেও এ এলাকায় গড় বৃষ্টিপাত মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ মিলিমিটার। বৃষ্টিপাতে ভূগর্ভস্থ’ পানির গড় পুনর্ভরণের হার দেশে ২৫ শতাংশ হলেও এ অঞ্চলে মাত্র ৮ শতাংশ। এত কিছুর পরো পল্লী বিদ্যুৎ তানোর একের পর এক ৫ হর্সের মটর বসিয়ে আরো হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

অবশ্য বিএমডিএ থেকে উপরি ভাগের পানি ধরে রাখতে উপজেলার খাস পুকুর গুলো খনন শুরু করেছে। তবে সম্প্রতি পাচন্দর ইউপি এলাকার পাকুয়া ইলামদহি খাল ব্যাপক অনিয়ম ভাবে খনন হয়েছে বলেও ওই এলাকার একাধিক ব্যাক্তিদের অভিযোগ।

অবশ্য মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান নির্বাচিত হয়েই জানিয়েছেন বড় প্রকল্পের মাধ্যমে যে ভাবেই হোক খাবার পানির সমস্যা দূর করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451