1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নজরুল অনুপ্রেরনা : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
  • ৪৫ বার পঠিত

কাজী নজরুল ইসলাম, বিদ্রোহী কবি-আমাদের জাতীয় কবি। তিনি নিপিড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রেরনা। তার লেখনীতে আগুনের ফুলকি ছেড়েছেন শাসক, শোষক এবং জমিদার-জোতদারদের বিরুদ্ধে। লেখালেখির প্রায় পুরো সময়টা জুড়ে এ কবি অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে কবিতা নামক শব্দ বোমা ফাটিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী ও তার কালজয়ি সংগীত ‘রমজানেরও রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’-্এর ৮৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম তার লেখনির মাধ্যমে জাগিয়ে তুলেছেন মানুষকে, তাই তো তৎকালীন শাসক তথা সমাজে গেড়ে বসা দুষ্টক্ষতের শিকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলতে তিনি যে পথ নির্দেশনা দিয়েছেন তা আজো আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়ে আসছে। তিনি ছিলেন মানুষের কবি। মানুষের দুঃখ দুর্দশা, হাসি-কান্না, সফলতা ব্যর্থতা এবং শাসক তথা সমাজপতিদের শাসন শোষণ তিনি যত কাছ থেকে দেখেছেন তা আর কোন কবি এভাবে দেখতে পারেন নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেড়ে বসা দুষ্টক্ষতের শিকড় নজরুল চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেই তার ভেতরের মানুষ বা বিবেককে প্রচ- নাড়া দেয়। সে সময়ের প্রেক্ষাপট এবং মানুষকে সচেতন করে তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে সামাজিক বিপ্লবসহ প্রচ- একটা ঝাঁকুনির কোন বিকল্প ছিল না। তাই তিনি তার লেখার প্রতিটি শব্দকে এমনভাবে মারাতœক অস্ত্রের সাজে সাজিয়েছেন। যাতে করে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের রক্তে সমানভাবে অধিকার আদায়ের দাবি তীব্র হয়।

তারা আরো বলেন, নজরুল মানুষের রক্তে শিহরণ জাগা শব্দমালা গেঁথে তিনি তাদেরকে শাসকরূপী দেশ ও মানুষের শক্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা যোগান। বাস্তবে হয়েছেও তাই। বৃটিশ হটানো থেকে শুরু করে পাক হানাদারদের পরাজয় তারই প্রমাণ বহন করে। তার লেখনির ফসলই আজকের বাংলাদেশ। সে অর্থে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ এবং জাতির মুক্তির কান্ডারি নজরুল। ঘুণে ধরা সমাজের মানুষকে মানবসৃষ্ট মতবাদ বা দাসত্ব থেকে মুক্তির মিছিলে সামিল করার শব্দঅস্ত্র নামক কবিতা ও গানের যুদ্ধ তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে শুরু করেছেন। আর এ যুদ্ধ পাক হানাদার ছাড়িয়ে আজকের শাসক শোষক তথা সমাজ-রাষ্ট্রের দানবদের বিরুদ্ধেও একইভাবে কার্যকর। এধারা সে যুগ পেরিয়ে শতাব্দীর পর মহাকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নেতৃত্রয় বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কর্মকান্ড সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে উৎসাহিত শুধু করেনি বরঞ্চ যার যার ধর্ম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালন করার দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ অর্থে গবেষকরা তাকে সকল ধর্মের কবিও বলে থাকেন। কারণ তিনি যে ধর্মের অনুসারীদের মাঝে গেছেন তাদের নিয়ে নজির সৃষ্টি করা কবিতা ও গান রচনা করেছেন। এভাবেই তিনি সকল ধর্ম ও এর অনুসারীদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানিয়ে নজির সৃষ্টি করেন।

তারা বলেন, মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা নিয়ে লিখেছেন। একজন মানুষের ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র আর্ন্তজাতিক জীবন পর্যন্ত চলার পথ এবং পদ্ধতির গাইড লাইন কেমন হওয়া উচিত-এ কবি তার লেখনির মাধ্যমে তা সর্বযুগের সময়োপযোগী করে দিয়ে গেছেন। তাইতো আমরা দেখতে পাই অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত এবং অধিকার হারা মানুষের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মুক্তির পথ দেখিয়ে দিয়েছেন এ কবি। এইভাবে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতি কিরূপ হওয়া উচিত তাও তিনি তুলে ধরেছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজকের এ সময়ে আমাদের মাঝে নজরুল নেই। কিন্তু তিনি আমাদের জীবন চলার যে বিশালকর্ম রেখে গেছেন তার কিঞ্চিত যদি আমরা অনুসরণ করি তবে এ মর্মে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, আজকের পথহারা বাংলাদেশ পথের সন্ধান লাভ করবে। এ দেশের মানুষ যেমন গোলামীর জিঞ্জির ভাঙতে পারবে। তেমনি দেশ গড়তে সকল ধর্মমতের মানুষকে এক কাতারে এক সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে নজরুলের আদর্শই সময়ের দাবি পূরণ করতে পারে।

তারা বলেন, আমাদের দেশের আজকের এ অবস্থায় শাসকদের কি করণীয়, বিরোধী দলের দায়িত্ব কর্তব্য কেমন হওয়া উচিত, সকল অন্যায় অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ কিভাবে জেগে উঠবে – প্রভৃতি সবই নজরুলের জীবন থেকেই পাবেন। আপনার জীবনের সাফল্যের দ্বার খুলে যাবে। নজরুল আদর্শ অনুসরণ করলেই দেশ থেকে মানুষে মানুষে হানাহানি, খুন, গুম, লুটসহ সকল অপরাধ এবং অনৈতিক কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। মানবতার বাণী উল্লাসে আনন্দে বাঁধ ভাঙা জোয়ারে ভাসবে। মানবাধিকার সানন্দে চিৎকার করে বলবে – সমাজ থেকে সকল অনাচার চলে গেছে। দেখবেন স্বর্গ এ পৃথিবীতে মানুষের মাঝে চলে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451