1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

তানোরে খালের অন্তত সাড়ে ৮ লাখ টাকার গাছ জলে

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ মে, ২০২০
  • ৩৬ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে খাল খনন সম্পন্ন না করেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের রোপণ করা ১২ শো গাছের অন্তত সাড়ে লাখ টাকা খালের জলেই ভাসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের এমন ভয়াবহ দুর্নীতির খবর ফাঁস হয়ে পড়াই তাদের বির“দ্ধে উঠেছে বিভাগীয় তদন্তের দাবি। কারন তাঁরা যেনে বুঝে নামমাত্র নিজস্ব ব্যাক্তির মাধ্যমে রোপণ করে পুনরায় খাল খননের জন্য পুরোগাছ সাবাড় করে ফেলা হয়। এতে করে খাল খননের নামে পরপর দুই বার গাছ নিধনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে, অব¯’াটা এমন সরকারি মাল দরিয়া মেয়ে ঢাল।

অবশ্য এখানে বলা যেতে পারে সরকারি মাল খালের জলে ঢাল।খালের কাজ শেষ না করে কেনই বা এত টাকা ব্যয়ে রোপণ করা হল গাছ এমন নানা প্রশ্ন জনসাধারণের। আবার খালের গাছ রোপণ নিয়ের বরাদ্দ নিয়ে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।অবশ্য খালের ধারে সাঁটানো ছিল একটি সাইনবোর্ড, সেখানে কাজের বিষয় লিখা থাকলেও গাছ রোপণের কোন কিছুই লিখা ছিল না। উপজেলার সরনজাই ইউপির কাসারদিঘি থেকে তানোর পৌর এলাকার আকচা স্কুলের এবং তানোর টু রাজশাহীর রাস্তার পূর্ব পশ্চিম দিক হয়ে বিলকুমারী বিলে শেষ হয়। খালের দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৫০০ কিঃ মিটার।

জানা গেছে চলতি মাসের শুর“র দিকে হঠাৎ করেই খাল খননের জন্য দুটি স্কেলেটরবা (ভেকু) মেশিন নিয়ে খুব ভোরে টাঙ্গাইল জেলা থেকে কিছু শ্রমিকও আসে। শ্রমিক আসার বিষয়টি ¯’ানীয়রা জানতে পারলে কাজে বাধা দেয়াসহ প্রশাসনকে অবহিত করেন । তার কয়েকদিন পর থেকে শুর“ হয় খাল খননের কাজ। কিš‘ তাঁর আগেই খালের দুধারে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ১২ শো গাছ রোপণ করা হয়। পুনরায় খাল খননের জন্য পুরো গাছ ধ্বংস করা হয়। এর আগেই গত বছর খাল খননের জন্য বিএমডির রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় হাজারের মত গাছ কেটে ফেলাসহ খালের মাটি ফেলা হয় কৃষকের জমিতে।

খাল খনন বন্ধের জন্য ওই কৃষকরা লিখিত অভিযোগসহ খাল খনন বন্ধ করে দেন ¯’ানীয় কৃষকরা। পরে জমি থেকে মাটি তুলে দেবার আশ্বাসে পুনরায় শুর“ হয় খাল খননের কাজ। কিš‘ বর্ষা মৌসুমের জন্য দায়সারা কাজ করে উধাও হয়ে যায় কাজ করা ব্যাক্তিরা।

খোজ নিয়ে জানা গেছে গত বছর যখন পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে খাল খনন শুর“ হয় তখন বিএমডি জানিয়েছিলেন, প্রায় এক বছর আগে খাল খনন করা হয়েছিল। খননের ঔষুধি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতশত গাছ রোপণ করা হয়। পুনরায় খল খনন হলে পুরো গাছ কেটে ফেলতে হবে।

বিএমডিএর গাছ কেটে দায়সারা খাল খনন করে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতি¯’ান। বছর না যেতেই খাল খননের কাজ সম্পন্ন না করে ১২০০ গাছ রোপণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এক একটি গাছের বরাদ্দ ধরা হয় ৬০০/৭০০ টাকা করে। খাল খননের কাজটি পান নাটোর জেলার চামড়াপট্রি রেলগেট এলাকার মোল্লা সরওয়ার মোর্সেদ মুক্তা। তার কাছ থেকে ১০% হারে লাভ দিয়ে কিনে নেন বাবলু নামের এক ঠিকাদার।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয় খালের কাজ শেষ না হতেই গাছ রোপণ কিভাবে হল তিনি জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে গাছ রোপণ করেছে। তিনি আরো জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী শহরের শাহিন নামের এক ব্যাক্তি গাছ রোপণ করেছেন। এক একটি গাছের বরাদ্দ কত জানা আছেকি প্রশ্ন করলে তিনি জানান ১২০০ গাছ রোপণ করা হয়েছে এক একটি গাছের বিপরীতে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে ধরা হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আফিস আহমেদ স্যার। তার সাথে সম্প্রতি মোবাইলে যোগাযোগ করে খাল খনন শেষ না করে গাছ রোপণ কিভাবে হয়, তিনি জানান এসব গাছ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোপণ করে তারাই কেটেছে, পুনরায় তারাই রোপণ করবেন। গাছের বরাদ্দ কত জানতে চাইলে তিনি জানান খাল খননের যে বরাদ্দ সেটাও গাছের সাথে ধরা আছে।

খাল খনন শেষ না করে ঠিকাদার কেনই বা রোপণ করবেন এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে যিনি কাজ কিনে করছেন সেতো বলছে আপনাদের মাধ্যমে শাহিন নামের এক ব্যাক্তি গাছ রোপণ করেছেন জানতে চাইলে অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা। পুনরায় কাজ কিনা ঠিকাদার বাবলুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি শুর পাল্টে কর্তৃপক্ষের শুরে কথা বলে জানান শুধু একাজ করছিনা জেলার মধ্যে সে সব খাল খনন হ”েছ সবই আমি ও জামাত ভাই করছি, এসব নিয়ে লিখার দরকার নাই আপনার নম্বর আছে সময়মত কথা বলা হবে বলে এড়িয়ে যান।

খালের ধারে যাদের জমি আছে এমন একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান খাল খনন নিয়ে ইঁদুর বিড়াল খেলা করে আমাদের জমি বিলিন করা হ”েছ। বিএমডিএ খাল খননের আগেই বিভিন্ন ধরনের গাছ ছিল এবং গাছগুলো সাইজেও বড় ছিল। গত বছর খাল খননের সময় সেই গাছ কেটে সাবাড় করা হল। খাল খননের কাজ শেষ না করে বাশের খাছি তৈরি করে রোপণ করা হল গাছ।

এবার খাল খননে এসে পুরো গাছ বিলিন করে দেয়া হল। এসব দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তিদের জন্যই একদিকে যেমন কৃষকের জমি বিলিন হ”েছ অন্যদিকে একের পর এক গাছ নিধন করে সরকারের লাখ লাখ টাকা খালের জলে ভাসানো হ”েছ। এসব ঘটনা দেখারও কেউ নেই বুঝে নেবারও কেউ নেই ই”েছমত সরকারি টাকা তসর“ফ করা হ”েছ।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলমের ০৭২১-৭৬১৫২১ নম্বরে ঈদের আগে থেকেও ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451