1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:২১ অপরাহ্ন

সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বৃদ্ধি করবে

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
  • ৩৭ বার পঠিত

লকডাউন প্রত্যাহার করে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানোর সরকারি সিদ্ধান্ত চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে গণপরিবহন খাতে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বৃদ্ধি করবে বলে আশংকা করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, করোনা পরিস্থিতির অবনতি সত্ত্বেও সরকার জনজীবন ও অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়োজনে অফিস-আদালত চালু করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু গণপরিবহন সীমিত আকারে চালু করার বিষয়টি কীভাবে কার্যকর হবে, তা পরিষ্কার নয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা থাকলেও এটা বাস্তবায়ন করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘদিন গণপরিবহন লকডাউন থাকার কারণে শ্রমিকরা যেমন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তেমনি অনেক গণপরিবহন মালিক রয়েছেন আর্থিক সংকটে। ফলে অধিকাংশ মালিক-শ্রমিক একযোগে সীমিত গণপরিবহনের অন্তর্ভূক্ত হয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে চাইবেন। এই সুযোগে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট মালিক-শ্রমিকদের নিকট হতে ঘুষ ও চাঁদার বিনিময়ে তাদের পরিবহনকে সীমিত পরিবহনের অন্তর্ভূক্ত করার উদ্যোগ নিবেন। এভাবে প্রকারান্তরে প্রায় সকল পরিবহনই রাস্তায় চলবে এবং ব্যাপক চাঁদাবাজির ক্ষেত্র তৈরি হবে।

অপরপক্ষে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি শেষে বহু সংখ্যক মানুষ জীবনের তাগিদে একসাথে রাস্তায় নামবেন। এ অবস্থায় সড়কে গণপরিবহনের স্বল্পতা থাকলে মানুষ হুড়োহুড়ি-গাদাগাদি করে গাড়িতে উঠবেন, উঠার চেষ্ট করবেন। এতে মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছুবে, স্বাস্থ্যবিধি বলে কিছু থাকবে না।

এছাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পযাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর প্রতিশ্রতি দিয়ে যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করবেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবহনই স্বল্পযাত্রী বহন করবে না, স্বাস্থ্যবিধিও মানবে না। অথচ অতিরিক্ত ভাড়া ঠিকই আদায় করবে। উল্লেখ্য, গণপরিবহনকে আইন মেনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারার তেমন কোনো সাফল্য আমাদের নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ অর্ধেক সীটে যাত্রী বহনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে দুর্নীতি এবং মানুষের দুর্গতি উভয়ই বাড়বে। আসনের চেয়ে যাত্রী বেশি হওয়ার সুযোগে একটি শ্রেণি অবৈধ পন্থায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলবেন। মানুষও এই পথ গ্রহণ করবে। সেজন্য আমরা মনে করি, সীমিত নয় বরং রেলের স্বাভাবিক যাত্রীসেবা বহাল রেখে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরও বাড়তি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুযোগ পাবেন এবং সড়ক পথে চাপ কমবে। নৌ-পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রোটেশন ব্যবস্থা তুলে দিয়ে আবহাওয়া বিবেচনায় রেখে দিনে-রাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নৌ-যান চালানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে এবং তারা ভিড় এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করেতে পারবেন।

মূলত দেশে করোনা সংক্রমণের যে চিত্র, তাতে যাত্রীবাহী গণপরিবহন হয় লকডাউন করতে হবে, নয় তো পুরোপুরি চালু করতে হবে। আংশিক বা সীমিত আকারে চালু করে কোনো লাভ হবে না। কারণ যাত্রীর চাপ এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্বে সরকারের সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

এই বাস্তবতায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ সকল ধরণের গণপরিবহন পুরোপুরি চালু করে সেনা বাহিনীর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451