1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

দিনাজপুরের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়নে উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কোন শিল্প গড়ে ওঠেনি

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি (দিনাজপুর ) :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
  • ৪৪ বার পঠিত

দিনাজপুর জেলার দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলীয় ৬টি উপজেলায় শিল্পায়নে উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারিভাবে এই এলাকায় তেমন কোন ভারি শিল্প ও কলকারখানা গড়ে ওঠেনি।

দিনাজপুর জেলার এই ৬টি উপজেলা ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর এলাকায় কৃষি সমৃদ্ধ এই উপজেলাগুলি। উপজেলা সমূহে রয়েছে দেশের বৃহত্তর ৩টি কয়লা খনি ও ১টি পাথরখনি এবং স্থল বন্দরসহ ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে দেশের একমাত্র কয়লাখনিটি অবস্থিত। এই কয়লাখনি থেকে গত ২ যুগ ধরে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমান এই কয়লা খনিটি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। এই কয়লা খনিতে বেশ জনবল রয়েছে। তাদের জীবনজীবীকার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলার ১০নং হরিরামপুর ্ইউনিয়নে দেশের একমাত্র কঠিন শিলা খনি স্থাপিত। এখান থেকে লক্ষ লক্ষ টন পাথর ভূ-গর্ভ থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্তমান পাথর খনিটির উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন লাভের মুখ দেখছে। পার্বতীপুর উপজেলার কিছু অংশ, নবাবগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ ও ফুলবাড়ীর কয়লাখনি এবং বিরামপুর উপজেলার মধ্যে কয়লা খনি দেশ বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলায় বন বিভাগে রয়েছে বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল।

জেলার দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলীয় এই সব উপজেলার সাথে সড়কপথে জেলা সদরের সাথে এবং রাজধানীর সাথে সব রকম যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া পার্বতীপুর ফুলবাড়ী বিরামপুর হাকিমপুর এই ৪টি উপজেলার উপর দিয়ে ট্রেন যোগাযোগ রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল বিভাগীয় শহর সহ রজধানীর সাথে রেলপথেরর যোগাযোগের সুবিধা এ অঞ্চলে গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ৬টি উপজেলা কৃষি নির্ভর। এখানে প্রধান চাষাবাদ ধান ছাড়াও রয়েছে আলু, ভুট্টা, গম, সরিষা, আঁখ সহ ব্যাপক শাক-সবজির চাষ।

গত কয়েকবছরে এই সব উপজেলায় ভুট্টার চাষ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুট্টা চাষে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ঘোড়াঘাট উপজেলা। নবাবগঞ্জ উপজেলায় ফুলবাড়ী হয়ে চিত্ত বিনোদনের জন্য স্বপ্নপুরী নামে একটি পিকনিক স্পট রয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে শত শত দর্শকেরা এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। এছাড়া ঘোড়াঘাট উপজেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক নিদর্শন সূরা মসজিদ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এই অঞ্চলের চাষাবাদকৃত ফসল বাজারজাতকরণে সমস্যা কেটেছে। তবে এখনও এই সব কৃষি পণ্যের বাজার মজুতদার, আড়তদার ও আড়িয়া তথা পাইকারদের নিয়ন্ত্রণে। কৃষি পণ্য ভিত্তিক কলকারাখানা স্থাপন করা এখনো হয়নি।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য কৃষকেরা পায়না। যেমন, এই সব উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়ীতে একমাত্র অবস্থিত আলু সংরক্ষণের হিমাগার রয়েছে। ফলে কয়েকটি উপজেলা থেকে উৎপাদিত আলু এই হিমাগারে কৃষকেরা রেখে অনেকে লাভবান হচ্ছেন। এই অঞ্চলের বৃহৎ ২টি কয়লা খনির কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানি হিসেবে এই অঞ্চলে স্থাপিত কল-কারখানায় ব্যবহার করা যেতে পারে। মধ্যপাড়ায় আবিষ্কৃত কঠিন শিলা প্রকল্পের পাথর দিয়ে মোজাইক টাইলস্ সহ পাথর নির্ভর বিভিন্ন কল-কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে। ফুলবাড়ীর আবিষ্কৃত এই কয়লা খনিতে মজুদ কয়লা রয়েছে ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লা।

সম্ভাবনা ময় এই খনিটি খনি বিরোধী আন্দোলন ও বিগত সরকারের বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে এটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার দলার দরগা কয়লা খনিতে মজুদ ৫শত মিলিয়ন টনের অধিন কয়লা রয়েছে। ভূ-তত্ত্ব জরিপ এর কাজ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমান খনিটির ভবিষ্যৎ কি হবে এখনো তা জানা যায়নি। তবে ২০১৯ সালের মধ্যে জরিপ কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় কি পরিমাণ কয়লা আছে তা তোলা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।

সরকার বিষয়টি ভেবে দেখলে উত্তোলনে লাভবান হবে কিনা এ নিয়ে এখনো কোন সূরাহা হয়নি। হাকিমপুর উপজেলায় রয়েছে দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর। নবাবগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক নিদর্শন সীতার কোট ও আশুলিয়ার বিল। এখনে গড়ে তোলা যেতে পারে এক বিশাল পর্যটনকেন্দ্র। ইতিমধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমপি শিবলী সাদিক ঐ এলাকায় কিছু অর্থ ব্যয় করে আশুলিয়ার বিলের সংস্কার করেছেন।

এখন অনেকে আশুলিয়ার বিল দেখার জন্য শত শত দর্শক ভিড় করছেন। এই এলাকায় শিল্প নগরী গড়ে তোলা হলে এই এলাকার মানুষের জীবন জিবিকার মান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ফুলবাড়ীর নিকটস্থ এলাকায় ৫শত ২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলায় রয়েছে বিজিবির ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর ও ৬ উপজেলার পুলিশ সার্কেল অফিস এবং পার্বতীপুর উপজেলায় রয়েছে শহীদ মাহবুব সেনানিবাস। ফুলবাড়ী-বিরামপুর রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর অফিস। এ অঞ্চলের ৯০শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। ক্ষুদ্র প্রান্তিক ও বর্গাচাষীরা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণের জালে বন্দি।

৬টি উপজেলায় শত শত বিভিন্ন নামে এনজিওরা বিভিন্ন পেশার মানুষকে ঋণ বন্দি করেছেন। এদের জালে অনেকে লাভবান হলেও অনেকে সর্বশান্ত হয়েছেন। এ অঞ্চলে কৃষি খাতে টিকসই যুগপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও খনিজ সম্পদের উপর্যুক্ত ব্যবহার দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। এতে সরকার লাভবান হবে। এ অঞ্চলের অভিজ্ঞ মহল মনে করেন দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলের ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রাণ কোম্পানী তাদের বৃহত একটি ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন। এখানে প্রায় ২ থেকে ৩শত শ্রমিক জীবন জীবিকায় কাজ করছেন।

এই এলাকায় জুস তৈরির কোন কোম্পানী না থাকায় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার টমেটো উৎপাদন হয়। যা প্রতিবছর প্রক্রিয়াজাত করণ না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই বিভিন্ন মহল দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলে ৬টি উপজেলা নিয়ে একটি জেলা বাস্তবায়নের দাবি করেছেন। এই এলাকায় ভারি শিল্প স্থাপন করা হলে কয়েক হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। এই সম্ভাবনাকে এখনি কাজে লাগাতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451