1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রস্তাবে সাড়া নেই, চীনের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে শান্তির বার্তা দিল্লির

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
  • ৪৮ বার পঠিত

ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত নিয়ে শান্তির বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে, দু’দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাতে কোনও পক্ষই সাড়া দেয়নি। বরং চীনা সরকারি গণমাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার সুযোগ খুঁজছে বলেও চীনা গণমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ (শুক্রবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মাতীন রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘দুটো জিনিস বেশ স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকার প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। একটা নয়া আঞ্চলিক রাজনীতি গড়ে উঠছে। এটা এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রাজনীতি পাল্টাচ্ছে। এর পাশাপাশি এটাও ঠিক যে আমেরিকা ও ভারত এই দুটো বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ কোভিড সঙ্কটকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আমেরিকা আগেই ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, যেভাবে কোভিড সঙ্কট মোকাবিলা হচ্ছে তাতে ভারতও ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র যে শ্রমিক সমস্যা, ক্ষুধা, মানুষের মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ, সাইক্লোন (আম্পান) এগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে আবার এক ধরনের ইমোশনাল সেন্টিমেন্টাল রাজনীতির দিকে মানুষকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে মানুষের মন, গণমাধ্যম, রাজনীতি ইত্যাদি সবকিছু ঘুরে যায়।’

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘চীনের সঙ্গে তৈরি হওয়া সীমান্ত প্রোটোকল ও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে মান্য করেই অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করেছে ভারতীয় সেনা। দু’দেশই সামরিক ও কূটনৈতিক, দু’টি ক্ষেত্রেই মেকানিজম তৈরি করেছে। ফলে সীমান্তে সঙ্কট তৈরি হলে আলোচনার মাধ্যমে তা নিরসন করা যায়।’

অনুরাগ শ্রীবাস্তব একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার প্রশ্নে ভারত অবিচল বলে জানিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিশেষ বার্তা দিয়ে গত ২৭ বছরে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তিসহ পাঁচটি সীমান্ত সংক্রান্ত চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ভারত-চীন চলমান সংঘাতের আবহে গত (বুধবার) নয়াদিল্লীতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সুন ওয়েডং বলেছেন, ‘দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই পার্থক্যের ছায়া যাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে না পড়ে, পারস্পরিক বোঝাপড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আশাবাদী আলোচনার মাধ্যমে পার্থক্য মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

এদিকে, ভারত-চীন সংঘাত ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাতে দুটি দেশের কোনও পক্ষই সায় দেয়নি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, “আমরা বেজিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করছি। আশা করছি দুই দেশের মধ্যে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটে যাবে। এজন্য কোনও তৃতীয় পক্ষের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। ভারত সবসময় শান্তির পথে চলতে বিশ্বাসী। চীন সীমান্তে আমাদের সেনারা নির্দেশ মতোই এই পথে কাজ করে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কোনও সমঝোতা করি না।”

অন্যদিকে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে বেজিং সরাসরি মুখ না খুললেও চীনা সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ বলেছে, নিজেদের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেবে ভারত ও চীন। এরজন্য কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। দু’দেশেরই উচিত ‘সুযোগ সন্ধানী’ আমেরিকা থেকে দূরে থাকা।

‘গ্লোবাল টাইমস’-এ আরও বলা হয়েছে, ভারত ও চীন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বিবাদ সমাধান করতে সক্ষম। উভয়দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে যারা এই অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার সুযোগ খুঁজছে।’

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বিবাদ ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে বলে মন্তব্য করলেও ভারত ওই দাবি অস্বীকার করেছে।

গতকাল ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি আপনাদের এইটুকু বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। চীনের সঙ্গে ভারতের যা চলছে, তার জন্য উনি ভাল মুডে ছিলেন না।’

যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শীর্ষ সূত্রের মতে, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির কোনও কথাই হয়নি। ওদের মধ্যে শেষ কথা হয়েছিল গত ৪ এপ্রিল। ওই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন।

সম্প্রতি, লাদাখ ও সিকিম সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও চীনের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গালওয়ান উপত্যকায় গত দু’সপ্তাহে ১০০টিরও বেশি তাঁবু খাটিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। চীন প্যাংগং সো এবং গালওয়ান উপত্যকায় অতিরিক্ত কমপক্ষে আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।

গালওয়ানে বেশ কয়েকটি বাঙ্কার তৈরিরও চেষ্টা চালাচ্ছে বেজিং। চীনের পাল্টা জবাবে ভারতও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা সমাবেশ বাড়িয়েছে। এরফলে, ২০১৭ সালের ডোকলাম পরিস্থিতির পরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও চীনের মধ্যে ফের চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছেএবং এবারের চলমান সংঘাত ডোকলামের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451