1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

তানোরে করোনার সুযোগে তিন ফসলী জমিতে অভিনব কায়দায় পুকুর খনন

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২০
  • ৩৫ বার পঠিত

মহামারী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সুযোগে রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকায় আদালত, প্রধানমন্ত্রী এবং ইউএনওর নিষেধাক্কা অমান্য করে তিন ফসলী জমিতে অভিনব কায়দায় পুকুর খনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পৌর এলাকার চাপড়াগ্রামের আনসার চাপড়া ব্রিজের পশ্চিমে পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এমন ব্রিজ দিয়ে পানি যাবার জায়গাটাও বন্ধ করে দিয়েছেন আনসার। কোন ধরনের মেশিন ব্যবহার না করে শ্রমিক দিয়ে চারদিকে মাটি উঁচু করে বাঁধছেন, আবার যেখানে বাঁধতে পারেন নি সেসব জায়গায় নেট জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছেন।এতে করে পুকুরের ধার ঘেঁষে যাদের জমি আছে তাঁরা চাষ করতে পারছেনা এবং আনসারের ভয়ে কোন অভিযোগও করতে পারছেননা। এছাড়াও একই কায়দায় গ্রামের ভিতরে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করে অনেকের বসতবাড়ি হুমকির মধ্যে ফেলেছেন এই আনসার।ফলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিজ দিয়ে পানি নামার ব্যবস্থাসহ জমি চাষের উপযোগী করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে তানোর পৌর এলাকার চাপড়া গ্রামের আনসার করোনাভাইরাসের সুযোগে চাপড়া ব্রিজের পশ্চিমে স্কেলেটর বা ভেকু মেশিন ছাড়াই শ্রমিক দিয়ে তিন ফসলী জমির চারদিকে মাটি কেটে উঁচু করে রেখেছেন এবং আম্ফানের প্রভাবে ভারি বর্ষণে পুকুরে রুপ নিয়েছে। এমনকি চাপড়া থেকে তালন্দ রাস্তার চাপড়া ব্রিজের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এজন্য কোন ভাবেই পানি বের হতে পারছেনা।

চাপড়া গ্রামের একাধিক ব্যাক্তিরা জানান আনসার পুকুর তৈরি করতে মাটি দিয়ে পাহাড়ি বাধার কারনে উপরের জমি থেকে কোন ভাবেই পানি নামছেনা। আমরাও জমি চাষ করতে পারছিনা এবং আনসারের ভয়ে কেউ মুখ খুলে কিছু বলতেও পারেনা। কারন তিনি গ্রামের প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও এক সময়ের লাঠিয়াল বাহিনী ছিল। তাঁর ভয়ে এখনো পাড়ার লোকজন কিছুই বলতে পারেনা।তিনি ফসলী জমিতে পুকুর করার বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করা হলে সব কিছু সমতল করে পানি বের হবার ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। কিন্তু মাটি কাটা বন্ধ করলেও ব্রিজের মুখ বন্ধ করে রেখেছেন এবং পানি জমে থাকা জমির দক্ষিন দিকে নেট জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। তিনি শুধু ব্রিজের পশ্চিমে নিজের জমিসহ ছলিমের, কাশেমের, হাশমের, গিয়াসের, কালামের, আলির , সাইদুরের ও শফিকুলের জমি দখল করে পানি জমিয়ে রেখে মাছ ছেড়েছেন। যাদের জমি দখলে নিয়ে মাছ ছেড়েছেন তারাও ভয়ে কিছুই বলছেনা।

সবাই ভিতর ভিতরে ফুপে উঠলেও কিছুই করার নাই। কারন এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে কেহেরমান বলেও ডাকে। আবার তিনি হত্যা মামলার আসামী এবং জলাশয় দখলদার হিসেবে চিহ্নিত। আনসারের গ্রামের বাড়ির পশ্চিম দক্ষিনে গত বছর ফসলী জমিতে এভাবেই পুকুর খননের সময় পুকুরের পশ্চিমে বাস করা হিন্দু সম্প্রদয়ের অখিল, নিখিল, অনিল ও আনারুল এবং সামাদ বাধা দিয়ে খনন কারিকে বলেন পুকুর হলে আমাদের বসতবাড়ি বিলিন হয়ে যাবে। ওই সময় আনসার ওরফে কেহেরমান প্রটেকশন ওয়াল তৈরির আশ্বাস দিয়ে পুকুর খনন করেন। এক বছরের মাথায় প্রটেকশন ওয়াল তো দূরে থাক উল্টো তাদেরকেই নাকি হুমকি প্রদান করছেন।

বাধ্য হয়ে ওই পরিবার গুলো নিজেদের বসত বাড়ি রক্ষা করতে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। কিন্তু মাটি ফেলতে পারছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ দিতে ভয় পাই। আবার চাপড়া বাজারে তাঁর মার্কেটের অনেক জায়গা খাস বলেও জানান অনেকে। তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রামবাসীর প্রায় অনেকেই প্রশাসন যেন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানায় এবং দ্রুত ব্রিজের মুখ খুলে পানি বের করারও অনুরোধ জানান।

তবে আনসারের মোবাইলে এসব বিষয়ে কথা বললে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোর সরকারী মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451