1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

ঘুর্ণিঝড় আম্পান কলাপাড়ার সংরক্ষিত বন ছিন্নবিন্ন করে দিয়ে গেছে

রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াখালী) ঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২০
  • ৪১ বার পঠিত

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে দক্ষিনাঞ্চলসহ কলাপাড়া-কুয়াকাটার সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প। ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে ম্যানগ্রোব ফরেষ্ট এর হাজার হাজার গাছ। আম্পানের তান্ডবে লন্ডভন্ড গেছে ঝাউ গাছসহ বনবিভাগের সৃজনকৃত কয়েক হাজার গাছ। ঝড়ো হাওয়ায় পুড়ে গেছে মাইলের পর মাইল বনাঞ্চলের গাছ। ঢেউয়ের তান্ডবে বিলীন হয়ে গেছে কুয়াকাটা সৈকতে অবস্থিত জাতীয় উদ্যানের বেশির ভাগ ঝাউ গাছ।

ঝুকিঁর মুখে রয়েছে জাতীয় উদ্যানের ফরেষ্ট ক্যাম্প। আম্পান তান্ডবে বনবিভাগের ক্ষতির পরিমান এতই বেশি যা পুরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী বনবিভাগ। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’র বরিশাল বিভাগীয় সমন্নয়কারী লিংকন বায়েন বন ও সবুজ বেষ্টনীর ক্ষতির বিষয়ে উদ্যোগ প্রকাশ করেছে। বেলা জানান, বন ও বনের গাছ পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর ঘুর্ণিঝড়ের কবলে যেভাবে বন ও সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস এর ফলে পরিবেশের উপর মারাক্তক প্রভাব পড়ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে মানুষের উপর।

সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সমুদ্র সৈকতের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সবুজ বেষ্টনী আর ম্যানগ্রোভ বন। উপকুলের রক্ষা কবজ হিসেবে এ বন উপকুলকে সব সময় রক্ষা করে আসছে। আর সেই রক্ষা কবজ আম্পান তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এই বন না থাকলে উপকূলকে বাচাঁনো সম্ভব হতো না। সিডর, আইলা, নারগিস, আম্পানসহ পরপর এসব বড়বড় ঝড়কে মোকাবেলা করেছে বন। বনের কারনে রক্ষা পেয়েছে উপকূলবাসি। উপকুলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদের রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করেছে সব সময়।

বনের কারনে প্রবল শক্তির এই ঘূর্ণিঝড়গুলো সেভাবে আঘাত হানতে পারেনি উপকুল ভাগে। এই বনাঞ্চল না থাকলে উপকূলে বড় ধরণের তান্ডব হতে পারতো বলে পরিবেশবিদরা মনে করেন। উপকূলীয় বনাঞ্চল যেভাবে রক্ষা করেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়। বনাঞ্চলের ওপর দিয়ে দুই ধরণের ধাক্কা যায়। প্রথমে ক্ষিপ্র গতির বাতাস এরপর জলোচ্ছ্াস। বনাঞ্চলের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অপেক্ষাকৃত কম গতি নিয়ে লোকালয়ে পৌঁছায়। বনে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ যেখানে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার ছিল, সেটা বন পার হয়ে লোকালয়ে যেতে যেতে শক্তি হারিয়ে দমকা বাতাসে রূপ নেয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবছরই ঘুর্ণিঝড় ও সমুদ্রের প্রচন্ড ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বন এবং উপকুল ভাগ।

উল্লেথ্য, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার তান্ডব থেকে এই বন উপকূলকে রক্ষা করেছে। এসব দুর্যোগে বড় ধরণের ক্ষতির শিকার হয়েছিল বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। বনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীরও ক্ষতি হয়েছে অনেক।

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের ফলে বনের ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে জানা যাবে। তবে উপকুল ভাগে যে পরিমান গাছপালা ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ করার নয়। তিনি আরো বলেন, উপড়ে পড়া গাছ যাতে কেউ নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য নজর রাখছে বনকর্মীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451