1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরে গরুর লাম্পি স্কিন রোগে বিপাকে খামারী ও প্রান্তিক কৃষকরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০
  • ৩৩ বার পঠিত

দিনাজপুরের খানসামা, বোচাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় গবাদিপশু গরুর লাম্পি স্কিন রোগ দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারী ও প্রান্তিক কৃষকরা। ভাইরাসজনিত এ রোগের প্রকোপ থেকে গবাদিপশুকে বাঁচাতে গরুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রাণসিম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিনুর আলম।

জানা যায়, লাম্পি স্কিন রোগটি গবাদিপশুর নুতন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এ রোগে আক্রান্ত পশুর প্রথমে সামনের পা ফুলে যায়। তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরে বড় বড় গুটি দেখা দেয়। এক সপ্তাহ পরে গুটিগুলো গলে গিয়ে স্থানে স্থানে ঘা হয়। ঘা থেকে অনবরত তরল পদার্থ নিঃসৃত হতে থাকে। কখনো সিনার নিচে বড় থলির মতো হয়ে পানি জমে থাকে। তখন কিছুই খেতে চায় না বলে গবাদিপশু শুকিয়ে যায়। সংক্রমণ বেশি হলে পশু মারাও যেতে পারে। তবে এতে মৃত্যুহার খুবই কম।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সাথে মিল নেই আক্রান্তের সংখ্যা।

সেতাবগঞ্জ পৌর এলাকার নেংরাকালী পাড়ার প্রান্তীক কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, তার ৩টি গরু মধ্যে ১টি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে মারা গেছে। ইশানিয়া গ্রামের কৃষক কৈলাশ চন্দ্র রায় জানান, তার ২টি বাছুর গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে একটি ২৮ দিন বয়সের বাছুর গরু মারা যায়। এছাড়াও বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌর এলাকার ছোটকুর মোড়, নেংরাকালী, ৫নম্বর ইউপির ছাতইল, বনহরা, পলাশবাড়ী, মাহেরপুর, ৬ নম্বর ইউনিয়নের রনগাও, কনুয়া,৩নম্বর ইউনিয়নের মতিজাপুর, রতনদা, ২নম্বর ইউনিয়নের ইশানিয়া গ্রামসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামঘুরে দেখা যায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব।

খানসামা উপজেলার কয়েক গ্রামে দেখা যায়, প্রায় বাড়িতেই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একাধিক পশু রয়েছে। খামারপাড়া ইউপির ভান্ডারদহ গ্রামের সহিদুল ইসলাম ও আইনুল ইসলামের বাড়িতে দেখা যায়, তাঁদের একটি বিদেশি জাতের গাভি ও বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মিলন চৌধুরীর ২টি, হাসিমপুর গ্রামের সহিদের ২টি, চকসাকোয়া গ্রামের একরামুল ইসলামের ১টি ও সাইদুলের ৩টি, গোয়ালডিহি গ্রামের আব্দুল গফুরের ২ টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

খানসামা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বিপুল চক্রবর্তী বলেন, অফিসের পাশাপাশি গরুর মালিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্ত গরুর অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন, ব্যাথানাশক ট্যাবলেট ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো.আব্দুস ছালাম বলেন, সচেতনতার মাধ্যমে এ ভাইরাস থেকে বাঁচা সম্ভব। কৃষকদের সচেতনতার জন্য আমরা নিয়মিত উঠান বৈঠক করছি।

দিনাজপুর জেলা প্রাণসিম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিনুর আলম জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগটি বিশেষ করে মশার কামড়ে ও আক্রান্ত প্রাণীর লালা হতে ছড়ায়। এখনো কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। গতবছর বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে। এরোগে বিদেশী জাতের গরু এবং বাছুরের বেশী আক্রান্ত হওয়ার প্রবনতা থাকে। খামারীদের ভয়ের কারন নেই। এ রোগে গরুর মৃত্যুর হার একেবারেই কম। এ রোগ গরু থেকে গরুতে, অন্য প্রানীতে সংক্রমন হয়না। তাই গরুর গোয়াল ঘর পরিষ্কার করা ও মশা মাছি নিয়ন্ত্রণ করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শ মত চললেই এরোগ নিয়ন্ত্রন করা যাবে। জেলায় ১% এর নীচে গরুর এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451