1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

করোনা ক্রান্তিকালে থমকে গেছে আত্রাইয়ের কাগজের ফুল ব্যবসায়ীদের জীবন

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই প্রতিনিধি (নওগাঁ) :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০
  • ৩৩ বার পঠিত

বৈশ্বিক মহামারী প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীর মত বাংলাদেশেও লাখ লাখ মানুষের অবস্থান ঘরে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারনে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কাগজের ফুল খ্যাত জামগ্রামের ফুল ব্যবসায়ীদের চরম দুর্দিন পোহাতে হচ্ছে। দেশের কোন অঞ্চলে ফুল নিয়ে যেতে না পারায় গত প্রায় তিন মাস থেকে ওই গ্রামের শত শত ফুল ব্যবসায়ীদের মানবেতর জীবন যাবন করতে হচ্ছে।

জানা যায়, আত্রাই উপজেলার জামগ্রামের অধিকাংশ নারী পুরুষ কাগজের ফুল তৈরি ও বিক্রি পেশার সাথে জড়িত। এক সময় এ ফুল ব্যবসা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ওই গ্রামের হিন্দু মুসলমান প্রতিটি পরিবারই এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। আগে এলাকার বিভিন্ন পুঁজা ও উৎসবকে কেন্দ্র করে তারা কাগজের ফুল তৈরি করে এলাকায় বিক্রি করতো। এখন আর কোন পুঁজা, মেলা বা উৎসব নয় বরং বছরের সব সময় এ ফুল তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে থাকে। বাড়িতে গৃহবধু ও নারীরা ফুল তৈরি করেন আর পুরুষরা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এ ফুল বিক্রি করে সংসারের বাড়তি আয় করেন। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারনে মুখ থুবরে পড়েছে তাদের ফুল ব্যবসা। সংসারে দেখা দিয়েছে অভাব অনটন। ফলে অনেকে নতুন নতুন পেশায় নিয়োজিত হতে বাধ্য হচ্ছেন।

জামগ্রামের নীরেন মালাকার বলেন, আগে আমরা রাজধানী ঢাকা, খুলনা, যশোর, সিলেটসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ফুল বিক্রি করতাম। ফুল বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের ব্যয়ভার বহন করতাম। করোনাভাইরাসের কারনে গত প্রায় তিন মাস থেকে আমরা আর বাইরে কোথাও যেতে পারছি না। ফলে আমাদের আয় ইনকাম কমে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য কোন পেশা অবলম্বনের চেষ্টা করছি।

একই গ্রামের রমজান আলী ও সাইদুর রহমান বলেন, এই গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ লোক ফুল ব্যবসার সাথে জড়িত। আমরা নারী পুরুষ সবাই মিলে বাড়িতে ফুল তৈরি করি আবার এ ফুল নিয়ে পুরুষরা বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি। এটি আমাদের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারনে আমাদের ঐতিহ্য বিনষ্ট হতে চলেছে। আমরা দীর্ঘদিন থেকে এ পেশার সাথে জড়িত থাকায় এখন নতুন করে অন্য পেশায় আতœনিয়োগও করতে পারছি না। ফলে আমাদের পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451