1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

তানোরে মুল সড়কসহ গ্রামীণ রাস্তার করুন দশা

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ২৬ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে গত শুক্রবারের বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ মুল সড়কসহ গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।আবার রাস্তার ছোট বড় অসংখ্য গর্তে পানি জমে ছোট বড় খালের মত অবস্থা সৃষ্টি হয়ে পড়েছে ।

অন্যদিকে এসব রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কার না করার কারনে পিচ খোয়া উঠে করুন দশা হয়ে পড়েছে।এঅবস্থার মধ্যে চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন জনসাধারণ। এতে করে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকছে । যেন এসব রাস্তাগুলো অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।এসব রাস্তা দিয়ে কর্তাবাবুরা নিয়োমিত চলাচল করলেও গুরুত্বহীনতার কারনে চরম বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন উপজেলাবাসী।

আবার যে সব রাস্তা নতুন ভাবে হচ্ছে সেগুলোই অল্প দিনের মধ্যে অকেজ হয়ে পড়ছে। নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারনে রাস্তা অকেজ হলেও পকেট ভারী হচ্ছে এলজিইডি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের।

বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার প্রানকেন্দ্র থানা মোড়। সেখান থেকে উত্তরে উপজেলা পরিষদের, দক্ষিনে মেডিক্যালের এবং পশ্চিমে মুণ্ডুমালা যাবার মুল গুরত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবেই পরিচিত। থানা মোড়ের পশ্চিমে দিপক বাবু ও সালাউদ্দিন হাজির হোটেলের সামনের রাস্তায় বড় আকারের গর্ত দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে থাকছে পানি। গর্তে আটকা পড়ছে ছোট বড় যান। যার ফলে পথচারীরা দুর্ভোগ নিয়ে চলছেন। আবার সেই গর্তের পানি ছিটকে পড়ছে দোকানীসহ চলাচল কারীদের।

এত সদর জায়গায় চরম গর্ত হলেও মেরামতের কোন ভাবনাই নেই কর্তৃপক্ষের। থানা মোড় থেকে মুণ্ডুমালা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে উপজেলার শেষ প্রান্ত ধামধুম পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা মারাত্মক করুন। থানা মোড়ের দোকানী দিপক, বাবু জানান দীর্ঘদিন ধরে দোকানের সামনে রাস্তার গর্তে সামান্য পানি হলেই জমে থাকে। যানবাহন যাওয়া মাত্রই গর্তের সেই পানি ছিটকে এসে হয় ক্রেতা না হয় দোকানের ভিতরে পড়ে। সেখানেই পত্রিকা বিক্রি করেন মান্নান। তার বাইসাইকেলে থাকে পত্রিকা।

অনেক সময় গর্তে জমে থাকা পানি এসে পড়ে ।থানা মোড় থেকে মুণ্ডুমালা পর্যন্ত রাস্তায় দেখা দিয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত এবং বেশির ভাগ রাস্তায় উঠে গেছে খোয়া পিচ। অবশ্য এই রাস্তাটি কিছুটা প্রসস্থ হলে সরু কার্লভাটের কারনে ঘটে ব্যাপক দুর্ঘটনা। এই রাস্তায় ঝরে গেছে অনেক প্রান তারপরেও সাংস্কারের কোনই ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। আর মুণ্ডুমালা থেকে ধামধুম পর্যন্ত রাস্তাটি ছোট বড় খালে পরিণত হয়ে পড়েছে।

তবে থানা মোড় থেকে উত্তর ও দক্ষিন দিকের রাস্তাটি গত বছরেই সাংস্কার করার কারনে ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু পশ্চিমে মুণ্ডুমালা রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। কোন জায়গায় এতই গর্ত হয়ে রয়েছে যে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ রাস্তা হলেও দেখভালের কেউ নেই। প্রতিদিন ছোট বড় শতশত যানবাহন চলাচল করে রাস্তাটি দিয়ে। ইজিবাইক চালক ইসলাম, শফিকুল ভ্যান চালক জাইদুর, খলিলসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান থানা মোড় থেকে মুণ্ডুমালা পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়না। কিন্তু উপায় নেই ঝুকি নিয়েই ভাড়া মারতে হয়।মুণ্ডুমালায় ভাড়া নিয়ে গেলেই গাড়ি নষ্ট হবেই। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হলেও সাংস্কারের কোন ব্যবস্থা নেই।

এদিকে মুণ্ডুমালা থেকে উপজেলার শেষ প্রান্ত ধামধুম পর্যন্ত রাস্তাতির অবস্থা চরম বেহাল। প্রায় সাত কিলোমিটারের রাস্তায় ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হয়ে খালের মত অবস্থা হয়ে আছে। আর রাস্তাটি এতই সরু যে এক দিক থেকে একটি গাড়ি আসলে অন্য দিকের গাড়ি পার হতে চরম বেগ পেতে হয়। আবার রাস্তার দুধারে কাঁদায় পুরিপূর্ণ। ওই এলাকার বাসিন্দা জারদিস, বুলবুল, রুবেলসহ একাধিক ব্যাক্তিরা জানান রাস্তাটি কয়েকবার মাপযোগ করা হয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বৃষ্টি হলেও রাস্তাটির গর্তে হাঁটু পানি জমে থাকে।

অথচ প্রতি সোমবার মুণ্ডুমালা হাটের দিনে গরু ছাগল নিয়ে শতশত গাড়ি চলাচল করে এবং মুণ্ডুমালা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মালামাল নিয়ে আসে। কিন্তু রাস্তাটির গর্তে বৃষ্টি মৌসুমে নামমাত্র ইট ফেলে লুটে নেয়া হয় টাকা। প্রতিদিন ছোট বড় যান রাস্তায় গর্তে পুতে যায় হয় যানজটের সৃষ্টি। বেশ কিছু বাস চালক জানান জীবনে অনেক রাস্তা দেখে কিন্তু এমন ডিজিটাল রাস্তা দেখিনি। অনেক সময় আমরাই বাধ্য হয়ে গর্তে ইট ফেলি। এছাড়াও মুণ্ডুমালা থেকে গোদাগাড়ী যাবার যোটাবট তলা পর্যন্ত রাস্তাটির করুন দশা। পুরো রাস্তায় খোয়া পিচ উঠে একাকার অবস্থা হয়ে আছে। দেবিপুর মোড় থেকে মোহর শুকদেবপুর হয়ে সরনজাই বাজার পর্যন্ত রাস্তাটিরও অবস্থা বেহাল।

অন্যদিকে কাশেম বাজার থেকে উপজেলার শেষ প্রান্ত হাড়দহ বিল পর্যন্ত রাস্তাটি কয়েক বছর আগে সাংস্কার করা হলেও অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাড়দহ বিলের রাস্তা সাংস্কারের সময় স্থানীয় সাংসদ কাজের মান যেন ভালো হয় এমন নির্দেশনা দিলে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছিলেন অন্তত পাচ বছর রাস্তা ভালো থাকবে। কিন্তু বছর না যেতেই রাস্তাটিতে ফাটল গর্ত ও দেবে গেছে। তালন্দ থেকে বিল্লি হাট পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়ে রয়েছে।

অথচ এটি ওই এলাকার মুল রাস্তা হলেও গ্রামীণ রাস্তা সাংস্কার করা হচ্ছে। যার কারনে এলাকাবাসির মধ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে। দেবিপুর মোড় হয়ে লালপুর বিলশহর নারায়ণপুর ইলামদহ হয়ে প্রকাশ নগর পর্যন্ত রাস্তাটির সম্পূর্ণ ভাবে খোয়া পিচ উঠে গেছে। আবার যে সব রাস্তা সাংস্কার হচ্ছে সেটা কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে পড়ছে। কারন নিম্মমানের সামগ্রী আর বৃষ্টির মধ্যে বা জুন মাসে কাজের পড়ে হিড়িক, এমাসে কাজ না করলে টাকা ফেরতের আশঙ্কায় যাতা ভাবে দায়সারা কাজ করার জন্যই রাস্তা ঠিকসই হয়না।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যাক্তিগত ০১৭১৯-১০৬৩২৮ মোবাইলে ফোন দেয়া হলে রিসিভ করে জানান আমি এখন মিটিঙয়ে আছি কোন কথা বলতে পারবনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451