1. gnewsbd24@gmail.com : admi2019 :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে একদিকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অন্যদিকে নদী ভাঙ্গন

মোঃ সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০
  • ২৮ বার পঠিত

কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৮ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে এ দুটি নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের মৌসুমী ফসল ও সবজি ক্ষেত। এসব অঞ্চলের মানুষ কলাগাছের ভেলা এবং স্থানীয় নৌকায় করে উচু জায়গায় আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট,ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার নদ-নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রাম সদর পাঁচগাছী ইউনিয়নের, উত্তর কদম তোলা, সিতাইঝাড়, ছত্রপুরের কিছু অংশসহ বেশ কিছু গ্রাম পানি বন্দি হয়েছে। পাঁচগাছী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন তার এলাকার গ্রাম গুলো পানি বন্দি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, এ জেলায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সবগুলো নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নদী তীরবর্তী মানুষেরা।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বর্ষার শুরুতেই জেলার বহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের অন্তত ১৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমার, কামারপাড়া, কালুয়া, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, চতুরা, সদর উপজেলার মোগলবাসা, উলিপুরের গুনাইগাছ এবং চিলমারী উপজেলার কাচকোল ও পুঁটিমারি এবং সাহেবের আলগা গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরো হাজারো ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাকা বাড়ির দেয়াল ভেঙে ইট বের করে তা সরিয়ে নিচ্ছেন মৃত সিরাজুলের পুত্র মোস্তফা। ধীরে ধীরে নদী গিলে খাচ্ছে তার বসতভিটা। এরই মধ্যে তার ভিটামাটির অর্ধেকটাই চলে গেছে ধরলা নদীর গর্ভে। শুধু মোস্তফাই নয়, ওই গ্রামের অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা জোসনা বালা জানান, এরই মধ্যে তার বাড়ি ধরলার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন থাকার জায়গাটুকুও তার নেই। স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানও কোনো সহযোগিতা করেননি।

পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাবলু সরকার জানান, পাঁচ বছরে এ এলাকার অন্তত ২০০ বাড়ি কয়েকশ একর ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। একাধিকবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কাজ হয়নি। কিন্তু এবার নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

নদী থেকে এক কিলোমিটার দূরে আমার বাড়ি। কিন্তু সেখানেও ভাঙন চলে এসেছে। বাগানের আম, কাঁঠাল ও সুপারির গাছ কাটা শুরু করেছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, যে করেই হোক, সরকার যেন আমাদের নদীভাঙন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই অবস্থা ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমুরের ভাঙনকবলিত এলাকাও। যাদের বাড়ি এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, তাদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আর যাদের বাড়ি ভাঙছে তারা দিশেহারা হয়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা রক্ষার চেষ্টা করছেন।

কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জেলার বড় নদ-নদীগুলোর ১৫টি স্পটে ভাঙন শুরুর কথা শিকার করে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে আমরা তিনটি স্পটে ইমারজেন্সি ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছি। বাকি স্পটগুলোতেও দ্রুত কাজ শুরু হবে।

প্রতি বছর জেলায় নদ-নদীর ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে হাজার হাজার পরিবার। আর যাতে কোনো পরিবারকে নিঃস্ব হতে না হয়, সেজন্য ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার—এমনটাই প্রত্যাশা নদীপাড়ের মানুষের।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451