ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩, ১০ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

তানোরে শিক্ষক দের মিলন মেলার নামে চাঁদাবাজি

রাজশাহীর তানোরে শিক্ষক দের মিলন মেলার নামে আবারো চাঁদাবাজি শুরু করেছেন শিক্ষক নেতারা বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে শিক্ষক সমাজে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া, বইছে সমালোচনার ঝড়।

ফলে শিক্ষক সমিতির এমন চাঁদাবাজির কারনে এমপির বিরুদ্ধেও বইছে নানান আলোচনা। কারন এমপি প্রাথমিকের নতুন শিক্ষক দের বরন অনুষ্ঠানে পরিস্কার ভাবে বলেছিলেন, এবারের শিক্ষক মিলন মেলায় মাত্র ২০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়া কিছুই দিতে হবেনা।

আপনারা এক সাথে জমায়েত হবেন এক সাথে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে নানান বিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু এমপির সেই নির্দেশ অমান্য করে শিক্ষক নেতারা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। ফলে শিক্ষক নেতারা কি এমপির জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছেন, নাকি ধস নামাচ্ছেন এমন প্রশ্ন ক্ষোদ দলীয় নেতাকর্মী দের।

জানা গেছে, চলতি মাসের আগামী ১৮ মার্চ উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, ১৯ মার্চ সকল স্কুল এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থানীয় এমপি ফারুক চৌধূরী। উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপির নাইস গার্ডেন পার্কে হবে মিলন মেলা।

শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের সুবিধার্থে মাননীয় এমপি উপজেলা পর্যায়ে সমিতি করে দিয়েছেন। সমিতির আয়োজনে প্রতি বছর হয় মিলন মেলা। মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতি হয়েছে। সমিতির সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আকচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন।

সমিতি গঠনের পর থেকে কোন হিসাব নিকাশ নাই। আবার উপদেষ্টা করা হয়েছে এমপিকে। মিলন মেলার নামে শিক্ষক প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা ও ২০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি। অথচ প্রাথমিক স্কুলের নতুন শিক্ষক দের বরন অনুষ্ঠানে মাত্র ২০ টাকা ফি লাগবে রেজিস্ট্রেশন করতে এমন ঘোষনা দিয়েছিলেন এমপি নিজেই।

জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক নিম্ম মাধ্যমিক ৬৭ টি, মাদ্রাসা ২৮ টি। স্কুল মাদ্রাসা মিলে ৯৫ টি। প্রতিষ্ঠান প্রতি গড়ে ১৭ জন শিক্ষক কর্মচারী হলে মোট ১ হাজার ৬১৫ জন। ২২০ টাকা করে হলে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।

উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৮ টি স্কুলপ্রতি গড়ে ৫ জন করে হলে ৬৪০ জন শিক্ষক কর্মচারী ২২০ টাকা করে হলে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮০০। কলেজ ও কারিগরি কলেজ মিলে ১৬ টি, গড়ে ৫০ জন করে হলে ৮০০ জন বিপরীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার। সব মিলে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উপজেলার শেষপ্রান্ত থেকে নাইস গার্ডেনে আসতে ২০০-৩০০ টাকা খরচ হবে। আবার চাঁদাও দিতে হচ্ছে। শিক্ষক মিলন মেলা নামে, চলে রাজনৈতিক সভা। বর্তমান সরকারের প্রথম দিকে উপজেলা শিক্ষক সমিতি গঠন হয়। এপর্যন্ত সমিতির আয় ব্যয়ের কোন হুদিশ নাই।

অনেকে যেতে ইচ্ছুক না হলেও টাকা দিতেই হবে। মন্দার সময় এমন মিলন মেলার নামে চাঁদাবাজি কতটা গ্রহনযোগ্য সেটাই বড় প্রশ্ন। আসলে এসব নামে নির্বাচনের বছর শিক্ষক দের এক রাখতে এমন পরিকল্পনা। তবে এভাবে এক রাখা যায় কিনা সেটা ভাবা দরকার কর্তৃপক্ষের।

প্রাথমিক শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি মালশিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীজুষের কাছে চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান মোবাইলে বলা যাবেনা, সাক্ষাতে এসব নিয়ে কথা বলা হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি চাপড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান জানান, এটা চাঁদাবাজি না, দুপুরের খাবারের জন্য সামান্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক চাপড় মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষ অনুকুল কুমার ঘোষ চাঁদার বিষয় অস্বীকার করে জানান, নিজনিজ প্রতিষ্ঠান খরচ দিবে। তবে সভাপতি মুন্ডুমালা ফজর আলী মোল্লা কলেজের অধ্যাক্ষ জয়নাল জানান, দুপুরের খাবারের জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

রাহুল গান্ধীকে পার্লামেন্টে অযোগ্য ঘোষণা

তানোরে শিক্ষক দের মিলন মেলার নামে চাঁদাবাজি

আপডেট সময় : ১১:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মার্চ ২০২৩

রাজশাহীর তানোরে শিক্ষক দের মিলন মেলার নামে আবারো চাঁদাবাজি শুরু করেছেন শিক্ষক নেতারা বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে শিক্ষক সমাজে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া, বইছে সমালোচনার ঝড়।

ফলে শিক্ষক সমিতির এমন চাঁদাবাজির কারনে এমপির বিরুদ্ধেও বইছে নানান আলোচনা। কারন এমপি প্রাথমিকের নতুন শিক্ষক দের বরন অনুষ্ঠানে পরিস্কার ভাবে বলেছিলেন, এবারের শিক্ষক মিলন মেলায় মাত্র ২০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়া কিছুই দিতে হবেনা।

আপনারা এক সাথে জমায়েত হবেন এক সাথে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে নানান বিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু এমপির সেই নির্দেশ অমান্য করে শিক্ষক নেতারা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। ফলে শিক্ষক নেতারা কি এমপির জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছেন, নাকি ধস নামাচ্ছেন এমন প্রশ্ন ক্ষোদ দলীয় নেতাকর্মী দের।

জানা গেছে, চলতি মাসের আগামী ১৮ মার্চ উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, ১৯ মার্চ সকল স্কুল এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থানীয় এমপি ফারুক চৌধূরী। উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপির নাইস গার্ডেন পার্কে হবে মিলন মেলা।

শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের সুবিধার্থে মাননীয় এমপি উপজেলা পর্যায়ে সমিতি করে দিয়েছেন। সমিতির আয়োজনে প্রতি বছর হয় মিলন মেলা। মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতি হয়েছে। সমিতির সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আকচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন।

সমিতি গঠনের পর থেকে কোন হিসাব নিকাশ নাই। আবার উপদেষ্টা করা হয়েছে এমপিকে। মিলন মেলার নামে শিক্ষক প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা ও ২০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি। অথচ প্রাথমিক স্কুলের নতুন শিক্ষক দের বরন অনুষ্ঠানে মাত্র ২০ টাকা ফি লাগবে রেজিস্ট্রেশন করতে এমন ঘোষনা দিয়েছিলেন এমপি নিজেই।

জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক নিম্ম মাধ্যমিক ৬৭ টি, মাদ্রাসা ২৮ টি। স্কুল মাদ্রাসা মিলে ৯৫ টি। প্রতিষ্ঠান প্রতি গড়ে ১৭ জন শিক্ষক কর্মচারী হলে মোট ১ হাজার ৬১৫ জন। ২২০ টাকা করে হলে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।

উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৮ টি স্কুলপ্রতি গড়ে ৫ জন করে হলে ৬৪০ জন শিক্ষক কর্মচারী ২২০ টাকা করে হলে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮০০। কলেজ ও কারিগরি কলেজ মিলে ১৬ টি, গড়ে ৫০ জন করে হলে ৮০০ জন বিপরীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার। সব মিলে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উপজেলার শেষপ্রান্ত থেকে নাইস গার্ডেনে আসতে ২০০-৩০০ টাকা খরচ হবে। আবার চাঁদাও দিতে হচ্ছে। শিক্ষক মিলন মেলা নামে, চলে রাজনৈতিক সভা। বর্তমান সরকারের প্রথম দিকে উপজেলা শিক্ষক সমিতি গঠন হয়। এপর্যন্ত সমিতির আয় ব্যয়ের কোন হুদিশ নাই।

অনেকে যেতে ইচ্ছুক না হলেও টাকা দিতেই হবে। মন্দার সময় এমন মিলন মেলার নামে চাঁদাবাজি কতটা গ্রহনযোগ্য সেটাই বড় প্রশ্ন। আসলে এসব নামে নির্বাচনের বছর শিক্ষক দের এক রাখতে এমন পরিকল্পনা। তবে এভাবে এক রাখা যায় কিনা সেটা ভাবা দরকার কর্তৃপক্ষের।

প্রাথমিক শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি মালশিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীজুষের কাছে চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান মোবাইলে বলা যাবেনা, সাক্ষাতে এসব নিয়ে কথা বলা হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি চাপড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান জানান, এটা চাঁদাবাজি না, দুপুরের খাবারের জন্য সামান্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক চাপড় মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষ অনুকুল কুমার ঘোষ চাঁদার বিষয় অস্বীকার করে জানান, নিজনিজ প্রতিষ্ঠান খরচ দিবে। তবে সভাপতি মুন্ডুমালা ফজর আলী মোল্লা কলেজের অধ্যাক্ষ জয়নাল জানান, দুপুরের খাবারের জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।