ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩, ১২ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আক্কেলপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন পবিত্র রমজান সকল মুসলমানের জন্য নেয়ামত হিসেবে আল্লহ ফরজ করেছেন – সাইফুজ্জামান শিখর এমপি প্রেমিকের সাথে বিয়ে না দেওয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা সুন্দরগজ্ঞে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উৎযাপন সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে উধাও তোলপাড় তানোর রাণীশংকৈলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী জিয়া ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের দোসর: তথ্যমন্ত্রী দৌলতপুরে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত রাণীশংকৈলে জোরপূর্বক জমি দখল ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আদিবাসিদের বিরুদ্ধে

নন্দীগ্রামে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অন্তঃসত্বা, পালালেন হাফেজ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে হাফেজের ধর্ষণে পঞ্চম শ্রেণীর (১০) এক শিক্ষর্থী তিন মাসের অন্তঃসত্ব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানির পর থেকে হাফেজ রুহুল কুদ্দুস (৫৫) পলাতক রয়েছে।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে ও শুক্রবার (১০জুলাই) দুপুরে থানা পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বরকে আটক করেছে। তবে অভিযুক্ত হাফেজ রুহুল কুদ্দুস এখনো পলাতক রয়েছে। আটককৃতরা হলেন দারিয়াপুর শাহপাড়ার আবু সাঈদ (৬০), আফজাল হোসেন (৬৫), বাবু মিয়া (৩৫), শাকিবুল্লাহ (৩০)।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী কোরআন শেখার জন্য, স্কুলে যাওয়ার পূর্বে এলাকার অন্যান্য শিশুদের সাথে হাফেজ রুহুল কুদ্দুসের বাড়িতে আরবি পড়তে যেত। এমতাবস্থায় একদিন হাফেজের বাড়িতে তার পরিবারের লোকজন না থাকায়, লম্পট হাফেজ সবাইকে ছুটি দিয়ে ওই শিশুটিকে পড়া ধরবে বলে বসতে বলে।

অন্য শিশুরা চলে যাওয়ার পর হাফেজ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এসময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখে কাপড় চাপা দেয় হাফেজ রুহুল কুদ্দুস। পরে ওই শিশুটিকে ধর্ষণের কথা বাহিরে কাউকে বলতে নিষেধ করে সে। এবং এঘটনা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলার হুমকিদেয় হাফেন রুহুল কুদ্দুস। ওই ভয়ে শিশুটি পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি।

সম্প্রতি ওই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরে। তখন তার বাবা-মা শনিবার (৪ জুলাই) তাকে উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অল্ট্রাসনোগ্রাফি করে। ওই রির্পোটে শিশুটিকে তিন মাসের গর্ভবতী বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বুধবার (৮জুলাই) ধর্ষনের বিষয়টি পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে আপোস-মিমাংশা করার চেষ্টা করে স্থানীয় মাতব্বররা। কিন্তু শিশুটির বাবা তাতে রাজি হয়নি। ঘটনাটি জানাজানি হলে হাফেজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠে পুর এলাকা।

ওই শিক্ষার্থীর ফুপু জানান, মেয়ের বাবা একজন ভটভটি চালক। আমাদের কোনো লোকজন নেই। হাফেজ বিত্তশালী হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।

এবিষয়ে শুক্রবার (১০) জুলাই বিকেলে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবিরে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশু শিক্ষার্থী অন্তঃসত্বা ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত হাফেজ রুহুল কুদ্দুসকে গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রাম্য সালিশে শিশু অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

আপলোডকারীর তথ্য

আক্কেলপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

নন্দীগ্রামে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অন্তঃসত্বা, পালালেন হাফেজ

আপডেট সময় : ০৭:০২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

বগুড়ার নন্দীগ্রামে হাফেজের ধর্ষণে পঞ্চম শ্রেণীর (১০) এক শিক্ষর্থী তিন মাসের অন্তঃসত্ব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানির পর থেকে হাফেজ রুহুল কুদ্দুস (৫৫) পলাতক রয়েছে।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে ও শুক্রবার (১০জুলাই) দুপুরে থানা পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বরকে আটক করেছে। তবে অভিযুক্ত হাফেজ রুহুল কুদ্দুস এখনো পলাতক রয়েছে। আটককৃতরা হলেন দারিয়াপুর শাহপাড়ার আবু সাঈদ (৬০), আফজাল হোসেন (৬৫), বাবু মিয়া (৩৫), শাকিবুল্লাহ (৩০)।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী কোরআন শেখার জন্য, স্কুলে যাওয়ার পূর্বে এলাকার অন্যান্য শিশুদের সাথে হাফেজ রুহুল কুদ্দুসের বাড়িতে আরবি পড়তে যেত। এমতাবস্থায় একদিন হাফেজের বাড়িতে তার পরিবারের লোকজন না থাকায়, লম্পট হাফেজ সবাইকে ছুটি দিয়ে ওই শিশুটিকে পড়া ধরবে বলে বসতে বলে।

অন্য শিশুরা চলে যাওয়ার পর হাফেজ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এসময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখে কাপড় চাপা দেয় হাফেজ রুহুল কুদ্দুস। পরে ওই শিশুটিকে ধর্ষণের কথা বাহিরে কাউকে বলতে নিষেধ করে সে। এবং এঘটনা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলার হুমকিদেয় হাফেন রুহুল কুদ্দুস। ওই ভয়ে শিশুটি পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি।

সম্প্রতি ওই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরে। তখন তার বাবা-মা শনিবার (৪ জুলাই) তাকে উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অল্ট্রাসনোগ্রাফি করে। ওই রির্পোটে শিশুটিকে তিন মাসের গর্ভবতী বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বুধবার (৮জুলাই) ধর্ষনের বিষয়টি পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে আপোস-মিমাংশা করার চেষ্টা করে স্থানীয় মাতব্বররা। কিন্তু শিশুটির বাবা তাতে রাজি হয়নি। ঘটনাটি জানাজানি হলে হাফেজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠে পুর এলাকা।

ওই শিক্ষার্থীর ফুপু জানান, মেয়ের বাবা একজন ভটভটি চালক। আমাদের কোনো লোকজন নেই। হাফেজ বিত্তশালী হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।

এবিষয়ে শুক্রবার (১০) জুলাই বিকেলে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবিরে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশু শিক্ষার্থী অন্তঃসত্বা ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত হাফেজ রুহুল কুদ্দুসকে গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রাম্য সালিশে শিশু অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।