ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩, ১৭ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও উন্নততর সংস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

ভূগর্ভস্থ পানির উন্নততর সম্পূরণ এবং ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ প্রযুক্তি (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং টেকনোলজি) কেন্দ্রিক একটি প্রকল্প পরিচালনার লক্ষ্যে সম্প্রতি ওয়াটারএইড এবং পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজ্‌ড – সিআরপি)’র মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

“প্রমোটিং ওয়াটার রিপ্লেনিশমেন্ট অ্যান্ড ওয়াশ সার্ভিসেস” শিরোনামের এই প্রকল্পের মূখ্য উদ্দেশ্য হল – ভূগর্ভস্থ পানির উন্নততর সম্পূরণ এবং এর টেকসই ব্যবহার বিধান নিশ্চিতকরণ-সহ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৃষ্টির পানি সংগ্রহ প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করা; এবং প্রতিস্থাপন পরবর্তীকালে প্রত্যাশিত সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার জন্য ফলপ্রসূ কার্যপ্রক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ করা।

পাঁচ বছর মেয়াদী এই উদ্যোগটি ০৫ মার্চ, ২০২৩ তারিখ থেকে ০৪ মার্চ, ২০২৮ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন হাসিন জাহান, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ; এবং ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, নির্বাহী পরিচালক, সিআরপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত কর্মকর্তাগণের মধ্যে ছিলেন – ভ্যালেরি টেইলর, প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী, সিআরপি; মোঃ খায়রুল ইসলাম, আঞ্চলিক পরিচালক, দক্ষিণ এশিয়া, ওয়াটারএইড; শাহ মোঃ আতাউর রহমান, চিফ অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিআরপি; এবং পার্থ হেফাজ শেখ, পরিচালক – পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, ওয়াটারএইড।

বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে শুষ্ক মৌসুমে শতকরা ২৬ ভাগ পানি সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেবে, অন্যদিকে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে ২৫০ গুণ। এই ঝুঁকির বিপরীতে, দেশে প্রতি বছর ১২৭ লক্ষ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টির জল সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রতি বছর ৯৩ লক্ষ লিটার পানি পুনরায় ভূগর্ভে ফেরত যাবে এবং ৩৪ লক্ষ লিটার পানি পান করা ছাড়া অন্যান্য কাজে নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে।

কার্যকরী রিসাইক্লিং কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পর্যাপ্ত সম্পূরণ নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের মাঝে এ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃষ্টির পানির বিবিধ ব্যবহার প্রবর্তন করা ওয়াটারএইড এবং সিআরপি’র এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাশপাশি, সিআরপিকেস্থানীয় পর্যায়ে বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং একুইফার রিচার্জ পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। সিআরপি’র আওতায় চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা সহ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবেন বলে আশা করা যায়।

“বৃষ্টির পানির মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ সংস্থান এবং একে সাধারণের উপকারে ব্যবহারোপযোগী করে তোলার জন্য চাই সম্মিলিত পদক্ষেপ”, বলেন ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান। “ওয়াটারএইড বিশ্বাস করে, যে এ ধরনের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ পানির উন্নততর সম্পূরণ নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই পাঁচ বছর মেয়াদী অংশীদারিত্ব এর শুরুটা হচ্ছে দ্য কোকা কোলা ফাউন্ডশেন এর অর্থায়নে ভূগর্ভস্থ পানির পর্যাপ্ত সম্পূরণ নিশ্চিত করে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও বিবিধ ব্যবহার (পান করা ব্যতিরেকে) প্রবর্তন করার মধ্য দিয়ে। সিআরপি’র সাথে আমাদের এই অংশীদারিত্ব সাভারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুরূপ কিছু করার উদাহরণ তৈরি করবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী”।

সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, “ওয়াটারএইড’এর সাথে অংশীদারিত্ব আমাদের পরিবেশ-সংক্রান্ত পোর্টফোলিওকে আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের কর্মীদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগকেও কাজে লাগাতে চাই। আমরা পরিবেশ-বান্ধব এবং টেকসই উন্নয়নমুখী চর্চায় সকলকে উৎসাহী করে তোলার ব্যপারে আগ্রহী, যা সিআরপি-কে শুধুমাত্র একটি সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবেই রূপান্তরিত করবে না, বরং অন্যান্য অংশীজনদের সামনে আমাদেরকে আদর্শ উদাহরণ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করবে”।

ভ্যালেরি টেইলর, প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী, সিআরপি, সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি তার শুভ কামনা জানান। তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন, “ওয়াটারএইডের সাথে আমাদের এই অংশীদারিত্ব সাভারের সিআরপির ক্যাম্পাসকে সবুজায়ন করতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে”।

উল্লেখ্য, সাভারের চাপাইনে অবস্থিত সিআরপি মূলত শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক দিক সমূহে গুরুত্ব দিয়ে রোগীদের চিকিত্সা, পুনর্বাসন এবং সহায়তা পরিষেবা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো’র আওতায় নিবন্ধিত।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও উন্নততর সংস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

আপডেট সময় : ১১:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩

ভূগর্ভস্থ পানির উন্নততর সম্পূরণ এবং ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ প্রযুক্তি (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং টেকনোলজি) কেন্দ্রিক একটি প্রকল্প পরিচালনার লক্ষ্যে সম্প্রতি ওয়াটারএইড এবং পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজ্‌ড – সিআরপি)’র মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

“প্রমোটিং ওয়াটার রিপ্লেনিশমেন্ট অ্যান্ড ওয়াশ সার্ভিসেস” শিরোনামের এই প্রকল্পের মূখ্য উদ্দেশ্য হল – ভূগর্ভস্থ পানির উন্নততর সম্পূরণ এবং এর টেকসই ব্যবহার বিধান নিশ্চিতকরণ-সহ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৃষ্টির পানি সংগ্রহ প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করা; এবং প্রতিস্থাপন পরবর্তীকালে প্রত্যাশিত সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার জন্য ফলপ্রসূ কার্যপ্রক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ করা।

পাঁচ বছর মেয়াদী এই উদ্যোগটি ০৫ মার্চ, ২০২৩ তারিখ থেকে ০৪ মার্চ, ২০২৮ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন হাসিন জাহান, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ; এবং ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, নির্বাহী পরিচালক, সিআরপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত কর্মকর্তাগণের মধ্যে ছিলেন – ভ্যালেরি টেইলর, প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী, সিআরপি; মোঃ খায়রুল ইসলাম, আঞ্চলিক পরিচালক, দক্ষিণ এশিয়া, ওয়াটারএইড; শাহ মোঃ আতাউর রহমান, চিফ অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিআরপি; এবং পার্থ হেফাজ শেখ, পরিচালক – পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, ওয়াটারএইড।

বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে শুষ্ক মৌসুমে শতকরা ২৬ ভাগ পানি সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেবে, অন্যদিকে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে ২৫০ গুণ। এই ঝুঁকির বিপরীতে, দেশে প্রতি বছর ১২৭ লক্ষ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টির জল সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রতি বছর ৯৩ লক্ষ লিটার পানি পুনরায় ভূগর্ভে ফেরত যাবে এবং ৩৪ লক্ষ লিটার পানি পান করা ছাড়া অন্যান্য কাজে নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে।

কার্যকরী রিসাইক্লিং কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পর্যাপ্ত সম্পূরণ নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের মাঝে এ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃষ্টির পানির বিবিধ ব্যবহার প্রবর্তন করা ওয়াটারএইড এবং সিআরপি’র এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাশপাশি, সিআরপিকেস্থানীয় পর্যায়ে বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং একুইফার রিচার্জ পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। সিআরপি’র আওতায় চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা সহ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবেন বলে আশা করা যায়।

“বৃষ্টির পানির মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ সংস্থান এবং একে সাধারণের উপকারে ব্যবহারোপযোগী করে তোলার জন্য চাই সম্মিলিত পদক্ষেপ”, বলেন ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান। “ওয়াটারএইড বিশ্বাস করে, যে এ ধরনের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ পানির উন্নততর সম্পূরণ নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই পাঁচ বছর মেয়াদী অংশীদারিত্ব এর শুরুটা হচ্ছে দ্য কোকা কোলা ফাউন্ডশেন এর অর্থায়নে ভূগর্ভস্থ পানির পর্যাপ্ত সম্পূরণ নিশ্চিত করে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও বিবিধ ব্যবহার (পান করা ব্যতিরেকে) প্রবর্তন করার মধ্য দিয়ে। সিআরপি’র সাথে আমাদের এই অংশীদারিত্ব সাভারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুরূপ কিছু করার উদাহরণ তৈরি করবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী”।

সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, “ওয়াটারএইড’এর সাথে অংশীদারিত্ব আমাদের পরিবেশ-সংক্রান্ত পোর্টফোলিওকে আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের কর্মীদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগকেও কাজে লাগাতে চাই। আমরা পরিবেশ-বান্ধব এবং টেকসই উন্নয়নমুখী চর্চায় সকলকে উৎসাহী করে তোলার ব্যপারে আগ্রহী, যা সিআরপি-কে শুধুমাত্র একটি সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবেই রূপান্তরিত করবে না, বরং অন্যান্য অংশীজনদের সামনে আমাদেরকে আদর্শ উদাহরণ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করবে”।

ভ্যালেরি টেইলর, প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী, সিআরপি, সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি তার শুভ কামনা জানান। তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন, “ওয়াটারএইডের সাথে আমাদের এই অংশীদারিত্ব সাভারের সিআরপির ক্যাম্পাসকে সবুজায়ন করতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে”।

উল্লেখ্য, সাভারের চাপাইনে অবস্থিত সিআরপি মূলত শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক দিক সমূহে গুরুত্ব দিয়ে রোগীদের চিকিত্সা, পুনর্বাসন এবং সহায়তা পরিষেবা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো’র আওতায় নিবন্ধিত।