ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩, ১০ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র অন্তদ্বন্দ চরমে

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভার:) এবিএম সারোয়ার রাব্বীর মতবিরোধ, সমন্বয়ের অভাব, অন্তদ্বন্দ ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদ্বন্দ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে এক মতোবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড মুখথুবরে পড়ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দিবস যথাক্রমে ১৭ মার্চ, ২৫ মার্চ ২৬ মার্চ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী তার কার্যালয়ে থাকলেও সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে এসব দ্বন্দের চিত্র সুষ্পষ্ট হয়ে উঠে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী অফিসার (ভারঃ) এবিএম সারোয়ার রাব্বীর, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার স্মৃতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সরকার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এসআই আনছার আলী, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলামসহ সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে ২৮ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে ইমান আলী নির্বাচিত হন। তিনি জেলা পরিষদের সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলাসহ নানা কর্মসূচীর চিঠি-পত্র ই-মেইল বার্তা আসলেও ইউএনও’র নাজির এরশাদুল হক তাকে অবগত করেন না বলেও জানা যায়। রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি, অতিদরিদ্র কর্মসূচী, ভিজিবি, লজিক, খাদ্য বা›ন্ধব কর্মসূচী ও নানা দিবসসহ সকল কর্মকান্ড ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ সঠিক ভাবেও জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ উঠে।

এমনকি গত সোমবার রৌমারীর ১৭ টি হাট-বাজারের টেন্ডারবক্স খোলা হলেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়াও গত ফ্রেব্রুয়ারী মাসে মাসিক সমন্বয় সভায় প্রথামিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপির উপস্থিতিতে এসব অবমুলায়ন ও অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইমান আলী। এ কারনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এসব সভা ও কর্মসূচী পালন থেকে বিরত রয়েছেন।

অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবিএম সারোয়ার রাব্বী (ভার:)। তিনি যোগদানের পর থেকে নিয়মিত জেলা-উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ সরকারি নানা কর্মসূচী যথাযথভাবে পালন করে আসছে বলে জানা যায়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তিনি ইচ্ছা করে এসব সরকারি কর্মসূচী পালন থেকে বিরত থাকেন বলেও অভিযোগ উঠে। এছাড়া তিনি বিএনপির সমর্থক বলেও নানা কর্মসূচী পালনে নারাজ বলেও জানা যায়।

বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান, আ’লীগ সভাপতি, সাবেক কমান্ডার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল কাদের সরকার বলেন, এবিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। কারন উপস্থিতি যারযার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের দ্বন্দের কারনে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আটকা পড়ে আছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এলাকার উন্নয়নের জন্য। কিন্তু এখানে উন্নয়নের নামে চলছে নয়ছয়, আমি বললেই দোষ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সারোয়ার রাব্বী সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলেই ফোন কলটি কেটে দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

আইএফআইসি ব্যাংক ও নেক মানি ট্রান্সফার ইউকে এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র অন্তদ্বন্দ চরমে

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভার:) এবিএম সারোয়ার রাব্বীর মতবিরোধ, সমন্বয়ের অভাব, অন্তদ্বন্দ ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদ্বন্দ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে এক মতোবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড মুখথুবরে পড়ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দিবস যথাক্রমে ১৭ মার্চ, ২৫ মার্চ ২৬ মার্চ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী তার কার্যালয়ে থাকলেও সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে এসব দ্বন্দের চিত্র সুষ্পষ্ট হয়ে উঠে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী অফিসার (ভারঃ) এবিএম সারোয়ার রাব্বীর, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার স্মৃতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সরকার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এসআই আনছার আলী, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলামসহ সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে ২৮ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে ইমান আলী নির্বাচিত হন। তিনি জেলা পরিষদের সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলাসহ নানা কর্মসূচীর চিঠি-পত্র ই-মেইল বার্তা আসলেও ইউএনও’র নাজির এরশাদুল হক তাকে অবগত করেন না বলেও জানা যায়। রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি, অতিদরিদ্র কর্মসূচী, ভিজিবি, লজিক, খাদ্য বা›ন্ধব কর্মসূচী ও নানা দিবসসহ সকল কর্মকান্ড ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ সঠিক ভাবেও জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ উঠে।

এমনকি গত সোমবার রৌমারীর ১৭ টি হাট-বাজারের টেন্ডারবক্স খোলা হলেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়াও গত ফ্রেব্রুয়ারী মাসে মাসিক সমন্বয় সভায় প্রথামিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপির উপস্থিতিতে এসব অবমুলায়ন ও অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইমান আলী। এ কারনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এসব সভা ও কর্মসূচী পালন থেকে বিরত রয়েছেন।

অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবিএম সারোয়ার রাব্বী (ভার:)। তিনি যোগদানের পর থেকে নিয়মিত জেলা-উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ সরকারি নানা কর্মসূচী যথাযথভাবে পালন করে আসছে বলে জানা যায়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তিনি ইচ্ছা করে এসব সরকারি কর্মসূচী পালন থেকে বিরত থাকেন বলেও অভিযোগ উঠে। এছাড়া তিনি বিএনপির সমর্থক বলেও নানা কর্মসূচী পালনে নারাজ বলেও জানা যায়।

বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান, আ’লীগ সভাপতি, সাবেক কমান্ডার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল কাদের সরকার বলেন, এবিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। কারন উপস্থিতি যারযার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের দ্বন্দের কারনে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আটকা পড়ে আছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এলাকার উন্নয়নের জন্য। কিন্তু এখানে উন্নয়নের নামে চলছে নয়ছয়, আমি বললেই দোষ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সারোয়ার রাব্বী সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলেই ফোন কলটি কেটে দেন।