সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১১ অপরাহ্ন

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ অব্যাহত

রাশেদ উদ্দিন ফয়সাল, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ কয়েল কারখানার মালিকরা উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা প্রতিরোধে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে আগামী ২৫’এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে সকল সরকারী- বেরসকারী অফিস, আদালত, গার্মেন্টস, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন।

জনসমাগম ঠেকাতে রাস্তায় লোক চলাচলে নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ও ২নং ওয়ার্ডে অবৈধ কয়েল কারখানা গুলো এখনো চালু রয়েছে। যার ফলে অবৈধ কয়েল কারখানার শ্রকিরা রয়েছে করোনা ভাইরাসের ঝুকিতে। অবৈধ কয়েল কারখানা গুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন প্রবেশ করছে বেশ কিছু ছোট কভ্যার্ড ভ্যান। এ ছোট কভ্যার্ড ভ্যান গুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে কয়েল।

এ কভ্যার্ড ভ্যানগুলো যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এসব ছোট কভ্যার্ড ভ্যানের ড্রাইভার, হেলপাররা কারখানায় প্রবেশের ফলে খুব সহজেই তাঁদের থেকে শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ঝুকিতে রয়েছে। শ্রমিকদের না দেওয়া হচ্ছে মাক্স, না দিচ্ছে হ্যান্ড গ্লোবস। ক্যামিকেল মিশ্রিত এ কয়েল গুলো খালি হাতে নড়া-চাড়া করায় শ্রমিকরা রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে।

এ শ্রমিকদের মধ্যে বেশ কয়েক জন শিশু শ্রমিক দেখা যায়। এ অবৈধ কয়েল কারখানার মালিকরা শ্রম আইন অমাণ্য করে শিশুদের দিয়ে বিষাক্ত ক্যামিকেলের কাজ করে নিচ্ছে। অপরদিকে সরকারী গ্যাস চুড়ি করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে এ চোরের দল। সরকার নারায়ণগঞ্জকে রেড জোন উল্লেখ্য করে বিবৃতী দিলেও তা আমলে নিচ্ছে না অবৈধ কয়েল কারখানার মালিকরা। শ্রমিকদের গাঁদা-গাঁদি করে বসিয়ে নূন্মতম দূরত্ব বজায় নারেখে কাজ করিয়ে নিচ্ছে।

যার ফলে চরম ঝুকিতে দিন যাচ্ছে অবৈধ কয়েল কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ইচ্ছে করলে এই অবৈধ কয়েল কারখানা গুলো বন্ধ করে দিতে পারি। কারণ করোনার ভয়াবহতা থেকে আমাদের বাঁচতে হলে বা নিরাপদে থাকতে হলে এর বিকল্প নাই। কিন্তু প্রশাসন মালিক পক্ষের হয়ে তখন আমাদের নানা ঝামেলায় ফেলবে। অবৈধ কয়েল কারখানার একাদিক শ্রমিক জানায়, আমরা দ্রুত ছুটি চাই এবং ছুটি থাকাকালীন সময়ে সরকার ঘোষিত সকল সুবিদা চাই।

কারখানায় না আসলে কারখানার মালিকরা আমাদের চাকরি থেকে বাদ দিবেন বলে হুমকি দিয়ে কারখানায় করাচ্ছে। শ্রমিকরা করোনা ভাইরাসে কারখানা বন্ধ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-১১’র হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা আরো জানান, নারায়ণগঞ্জ যদি লক ডাউন হতে পারে সারা বাংলাদেশের কর্মসংস্থান যদি বন্ধ হতে পারে অবৈধ কয়েল কারখানা গুলো বন্ধ হবে না কেন? আমরা কি নিরাপত্তায় যেতে পারবো না? আমাদের কি জীবনের দাম নাই? এদিকে সরোজমিনে কারখানার ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, সামাজিক দূরত্ব নেই বললেই চলে, শ্রমিকদের মুখে কোন মাক্স নেই, হাতে কোন গ্লাব্স নেই। যার ফলে করোনা ভাইরাস যদি করোর মধ্যে সক্রামিত হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আরও ঝুঁকির মধ্যে পরবে। এলাকাবাসী কিছু বলতে গেলে মামলা ভয় দেখায়।

তাই কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করে না। কিন্তু এ প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের মধ্যেও তারা এলাকাবাসীকে জিম্মি করে অবৈধ কয়েল কারখানা গুলো খোলা রেখেছে, এটা আমাদেরকে হতবাক করেছে। আমরা কি মানুষ না? আমাদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই? নাকি বড়লোক কারখানা মালিকরা বেঁচে থাকবে আর সাধারই মানুষ মরবে। কিভাবে একটি জেলায় লকডাউন থাকার পরেও প্রশাসনের চোখের সামনে কারখানা চলতে পারে সে প্রশ্ন রেখেছেন এলাকাবাসী।

সচেতন মহল মনে করে স্থানীয় প্রশাসনকে মাসহারা দেওয়ায় কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। মিজমিজী মাদ্রাসা রোড হাজেরা মাকের্ট, একলাসের বুসরা কয়েল, মৌচাক চিশতিয়া বেকারীরর উত্তর পাশে জাহাঙ্গীরের বসুন্ধরা কয়েল ও আলমের ডিকে বস কয়েল, ধনুহাজী রোড এলাকায় মিরাজের রোস্টার কয়েল ও মিজমিজি বাতেন পাড়া এলাকায় মহিউদ্দিনের পিসিভি কয়েলসহ আরো অনেক অবৈধ কয়েল কারখানা রয়েছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone