রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

খিলগাঁও তালতলায় কবরে ভাসছে চর্বি, রক্ত

মাহমুদুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :
  • Update Time : বুধবার, ৬ মে, ২০২০

রাজধানীর তালতলা সিটি কর্পোরেশন কবরস্থানে গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে এই চিত্রের।করোনায় মৃত বা করোনা সন্দেহে মৃতদের দাফনের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন(ডিএনসিসি)কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থান তালতলা কবরস্থানের শেষ অংশে প্রবেশের সাথে সাথেই বাতাসের ঝাপটায় নাকে আসে লাশ পঁচা গন্ধের।সারি সারি কবরে চোখ বুলাতেই দেখা যায় এক বিভৎস দৃশ্যের।বেশ কিছু কবরের উপর ভেসে উঠেছে ছোপ ছোপ রক্ত এবং মৃত মানুষের গলিত চর্বি।চর্বিগুলো গা গুলানো হলুদ আবরন তৈরী করেছে কবর গুলোর চারপাশে।এরই মাঝে ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে বেশ কিছু কুকুরকে।নরম কাদা মাটিতে তাদের পায়ের ছাপ স্পষ্ট।

গত কয়েকদিনের তুমুল বৃষ্টি কবরস্থানে আগে থেকে খুঁড়ে রাখা কবরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।এছাড়া নির্ধারিত স্থানটি ঝিলপাড়ের সাথে হওয়ায় মাটির নিচ থেকেও কবরে উঠছে পানি।ফলে দাফনকাজে তৈরী হয়েছিল জটিলতা।ফলসরুপ পানির মাঝেই দাফন করা হয় কয়েকজনের মরদেহ। ফলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় মৃতদের স্বজনদের মাঝে।তাদের প্রিয়জনদের এভাবে শেষ বিদায় যেন কিছুতেই তারা মেনে নিতে পারেন নি।ফলে বন্ধ করা হয় দাফন কার্য।ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ তালতলার বদলে রাজধানীর রায়ের বাজার কবরস্থানকে নির্ধারণ করে করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য।তবে পানিতে লাশ দাফনের পরিনতি প্রকাশ পাচ্ছে এখন।কবরে ভেসে উঠছে রক্ত ও মৃতদেহের গলিত চর্বি।

কবরের উপর রক্ত, চর্বি কেন ভেসে উঠছে জানতে চাইলে কবরস্থানের একজন গোরখোদক বলেন, আমরা যখন লাশ দাফন করি তখন কবরে আড়াআড়ি ভাবে বাঁশ দিয়ে তারপর মাটি চাপা দেই। যেহেতু কবরে পানি ওঠে কবর ভেঙ্গে যাচ্ছে, সেহেতু বাঁশগুলোও এখন আর আগের অবস্থায় নেই। ফলে পানির সাথে লাশ কিছুটা উপরে আসতে পারে।আরেকজন গোরখোদক জিনিউজকে বলেন, যে পলিথিনের ব্যগ সহ লাশগুলো দাফন করা হয়,সেই ব্যগ কোন কারনে মাটির নিচে ফেটে যেতে পারে।ফলে পানির সাথে রক্ত এবং চর্বিও উঠে আসছে কবরের উপরে।

এদিকে এই ঘটনায় আশংকাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।কবরস্থানের সাথেই বসবাসরত একজন বাসিন্দা “আমির হোসেন রনি জিনিউজকে বলেন”কবরের উপর ভেসে উঠা এই রক্ত-চর্বি প্রচুর দূর্গন্ধ সৃষ্টি করছে।

তাছাড়া এই কুকুরগুলি এখান থেকে আমাদের এলাকায়(রিয়াজবাগ)এও যাচ্ছে। এখান থেকে করোনা না হোক অন্য যে কোন কিছুই হতে পারে।বা করোনাও যে ছড়াবে না তার নিশ্চয়তা কি?আমরা এই দিকে কর্তৃপক্ষের একটু বিশেষ নজর আশা করছি।তিনি বলেন,আর কিছু না হোক অন্ততপক্ষে দিনে এক বার কবরস্থানের এই অংশটিতে জীবানুনাশক স্প্রে ছিটানোর প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গোরখোদকরা প্রতিটি কবরে পুনরায় কিছু কিছু মাটি দিয়েও বেশ সুবিধা করতে পারছেন না।বৃষ্টি হলে বা বৃষ্টি ছাড়াও মাটির নিচ থেকে পানি উঠে তৈরি হচ্ছে এই ভয়াবহ অবস্থার।

খিলগাঁও তালতলা সিটি কর্পোরেশন কবরস্থাকে সরকার করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য নির্ধারিত করে দেয় গত ৮ই মার্চ।এরপর গত ২৫শে মার্চ রাত ৮:৩০ এ এই কবরস্থানে করোনায় মৃত প্রথম ব্যক্তির দাফন সম্পূর্ণ হয়।তারপর থেকে গত ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ই করোনা সন্দেহে মৃত বা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন হয়ে আসছিল এই কবরস্থানটিতে।

২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত করোনা সন্দেহে এবং করোনায় মৃত মোট ১৯১ জনকে দাফন করা হয়েছে তালতলা কবরস্থানে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কবরস্থানের দায়িত্বরত স্টাফ হাফেজ মো:ফেরদৌস।তিনি বলেন,২৫শে মার্চ থেকে ২৯ শে এপ্রিল এই একমাস চারদিনে,করোনায় এবং করোনা সন্দেহে মৃত মোট ১৯১ জনকে দাফন করা হয়েছে এই কবরস্থানে।

এর মধ্যে একটি লাশ বেওয়ারীশ ছিল।তবে ২৯ শে এপ্রিলের পর আর কোন করোনায় মৃত লাশ দাফন হয়নি এই কবরস্থানে। কবরে বৃষ্টির পানি এবং মাটির নিচ থেকে পানি উঠায়,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন(ডিএনসিসি)কর্তৃপক্ষ তালতলার বদলে রায়ের বাজার কবরস্থানকে করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য নির্ধারিত করে দেয়।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone