সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়ায় জেলেদের ভিজিডি চাল নিয়ে চলছে হরিলুটের রাজত্ব

রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াখালী) ঃ
  • Update Time : শনিবার, ৯ মে, ২০২০

কলাপাড়াার ধানখালী ইউনিয়নে জেলেদের বিশেষ প্রনোদনার ভিজিডি চাল বিতরণে ব্যাপক হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জেলেদের ভিজিডি চাল প্রতি ২ মাসের জন্য জনপ্রতি ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি দেয়ার কথা থাকলেও জেলেরা ৩০ কেজি করে পেয়েছে ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধানখালী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধকৃত ৬২০ জেলের চাল উত্তোলন করেন। গত বুধবার থেকে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ভিজিডি চাল বিতরনের কার্যক্রম চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ধানখালী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ভিজিডি চাল বিতরন করা হয়। জানা যায়, সেখানে জেলেদের জনপ্রতি ৮০ কেজি পরিবর্তে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এ অনিয়ম ইউনিয়নের প্রায় সবকয়টি ওয়ার্ডে হয়েছে বলে জানা যায়।

বুধবার ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে ভিজিডি চাল বিতরন করা হয়েছে। সেদিনও ৩০ কেজি করে জেলেদের চাল দেয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। ২ নং ওয়ার্ডের ইসহাক উকিল, সৈয়দ খাঁন ও রুহুল আমিনসহ একাধিক জেলে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তারা আরও বলেন, ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকে আমাদের মাথায় দুই বস্তা করে চাল দিয়ে নিচে নামার পর তা ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়। আমাদেরকে ৩০ কেজির একটি বস্তা ধরিয়ে দেয়া হয়। প্রতিবাদ করলে ডিসির কাছে গিয়ে নালিশ করো এরকম আচরন করেন তারা। ইউনিয়নের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দরা এ ধরনের আচরন করেন বলে জানা যায়।

ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নেতারা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যদের সাথে আতাত করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডেকেট তৈরী করে এধরনে কাজ করছে বলে তারা জানান। তারা আরও জানান, চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলে আমাদের এ সিন্ডিকেট হতে বাঁচাতে পারে। কিন্তু সে এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা তা আমাদের বোধগম্য নয়। অপরদিকে, ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড হতেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে ৩০ কেজি আবার কোথাও কোথাও ৪০ কেজি চাল দিয়েছে বলেও জানা যায়।

৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহআলম হাওলাদারের অসুস্থতায় তার ছেলে স্বপন হাওলাদার ওই ওয়ার্ডের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বপন হাওলাদারের সাথে কথা হলে তিনি তার ওয়ার্ডে প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল বিতরন করেছেন বলে স্বীকার করেন। তার মতে, আমি ৪০ জন জেলেদের চাল এনে তা সমন্বয় করে ১২০ জনের মধ্যে বিতরণ করেছি। এধরনের সমন্বয়ে তার কোন আইনগত অধিকার আছে কিনা জানতে চাইলে তার কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।

ক্ষুদ্রমৎস্যজীবী জেলে সমিতির কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি আ: সালাম বিশ্বাস বলেন, বিগত এক বছরের উপরে ওই ইউনিয়নে আমার কমিটির মেয়াদ বিলুপ্ত হয়েছে। কেহ এধরনের কাজ করলে তিনি তাদের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সাড়া উত্তর দিয়ে বলেন, আমার এখান হতে প্রতি ২ জন জেলেকে ৫ বস্তা হারে চাল বিতরন করেছি। এখান হতে গিয়ে তারা কি করে, কতো কেজি করে পায় তা আমার দেখা ও জানার বিষয় না। তবে, ইউনিয়নের ক্ষুদ্রমৎস্যজীবী জেলা সমিতির নেতারা সমন্বয় করে চাল দিয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone