বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ১৩ দিনে ৪ খুন! মূলত এসব হত্যাকান্ডের দায় ভার কার?

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি ঝিনাইদাহ :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ১৩৯ বার পঠিত

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ১২ দিনে ৪ খুন! মূলত এসব হত্যাকান্ডের দায় ভার কার? এসব নিয়ে উপজেলা জুড়েই আলোচনা সমালোচনার ঝড় বাইছে। শৈলকুপায় গত ১৩ দিনে ৪ খুন হওয়া ব্যাক্তিরা হচ্ছে ১। জমি বিরোধে শৈলকুপার ত্রিবেনী ইউনিয়নে পদমদী গ্রামে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আরাফাত হোসেন (২২) কে গত ১৯ এপ্রিল প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত। ২। কলা গাছ নিয়ে বিরোধে শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের সুবিদ্দা-গোবিন্দপুর গ্রামে জোয়াদ আলী নামে এক মুদি দোকানদারকে গত ৩রা মে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ৩। সর্বশেষ গত ১১ মে সামাজিক বিরোধে শৈলকুপার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া গ্রামে অভি (২৫) ও লাল্টু মন্ডল (৪৫) নামে একই পরিবারের দু’জনকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।

শৈলকুপায় হত্যা সংঘটিত হওয়ার দু একদিন পরেই কতিপয় অপরাধীর নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা রুজু হয়। এর মাঝে মামলায় নাম বাতিলে চলে বিভিন্ন রকমের তদবির। তদবির শেষে চুড়ান্ত নাম নিয়ে মামলা চার্জশীট গঠন হয়। একে একে মামলায় নাম থাকা আসামীরা গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃতদের চালান বা আদালতে প্রেরন করা হয়। মামলা ধারায় হত্যাকান্ডে জড়িত সরাসরি হিট লিস্টে, অংশগ্রহণকারী, সাহায্যকারী, ইন্ধনদাতাসহ কয়েকভাবে চার্জশীট গঠন করা হয়। আসামী গ্রেফতারের পরে আদালতে প্রেরন করা হলে আসামী পক্ষের লোকজন মোটা অংকের টাকা দিয়ে উকিল বাবু সেটিং করে।

মামলার ধারায় ১ থেকে ৫ বা তার অধিক ব্যক্তিদের জামিনে কিছুটা বিলম্বিত হলেও আইনের মারপ্যাচে উকিল বাবুরা জামিন পাইয়ে দিতে সাহায্য করে। অপরাধীরা জামিনপ্রাপ্ত হয়ে পূর্বের ন্যায় সমাজে বুক ফুলিয়ে শার্টের কলার উচিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর স্বামী হারানো স্ত্রী, বাবা হারানো সন্তানরা বুক চাপরিয়ে আর্তনাদ করতে থাকে। যে আর্তনাদের কান্নার শব্দ সমাজের অন্য মানুষের কর্নগ্রহে পৌছায় না। মামলার বছর না যেতেই চার্জশীটে ১ থেকে ৫নং শীর্ষ আসামীরা উকিল বাবুর অনুগ্রহে বেরিয়ে আসে। তাদের জীবন চলতে থাকে পূর্বের ন্যায়। বরং হত্যাকারীদের যেসকল ব্যক্তিরা নোংরা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছিল, সমাজের সেসকল ব্যক্তিরাই আসামীদের কোলগোচর করে জয়গান গাইতে থাকে।

অপরাধীদের সুযোগ দেয় নতুন করতে বাঁচতে। তারাও তাদের মিষ্টিস্বরে মুগ্ধ করে সমাজে মিশে যাই, তবে তারা চরিত্র পাল্টাই না, সুযোগ করে আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ভয়ংকর হওয়া পেছনে দায়ী সমাজের এই আমরাই। বেশির ভাগ হত্যা মামলা চলে ২ থেকে ৫ বছর। আসামীরা স্বা”ছন্দে মাস থেকে মাসে কোর্টে হাজিররা নামক স্বশরীর উপ¯ি’ত হয়ে চালাতে থাকে তাদের জীবন ধারা। একপর্যায়ে ভিকটিম পরিবারের ভঙ্গুর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আসামীর পক্ষে সাফাই গেয়ে সমাজের অর্থলোভী কতিপয় ব্যক্তি মিলে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে মামলা সুরাহ করে।

বেঁচে যাই আসামীরা। পুলিশ আর কোর্ট থাকে নিরুপায়। বাদী সামাজিক চাপে কাঠগড়ায় দাড়িয়ে চোখের জল ঢেলে অশ্রুসিক্ত নয়নে মুখে চিলতে পরিমান ব্যথাহাসি নিয়ে মামলা পরিসমাপ্তি করে আসে। আর স্বামী হারানো স্ত্রী, বাবা হারানো সন্তানেরা যুগের পর ব্যথাতুর হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকে। উল্লাস ও মগ্নমত্তে জীবনকে সাজিয়ে সমাজে বুক ফুলিয়ে শার্টের কলার উচিয়ে চলতে থাকে অপরাধীরা। অপরাধের মাত্রা দিনকে দিন বেড়ে যাই, হতে থাকে আরো ভয়ানক। সমাজ থেকে অপরাধ ও অপরাধীরা হারায় না, বাঁচিয়ে রাখি এই আমরাই। হারিয়ে যায় স্ত্রীর স্বামী আর সন্তানের বাবা। পরিশেষে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে যুগের পর যুগ!!

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451