রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৩ অপরাহ্ন

তানোরে মানবিক সহায়তার কার্ডেও দলবাজি রেশম একক আধিপত্য

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দিনের দিন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা যখন হুহু করে বেড়েই চলেছে । যার ফলে ঘরবন্ধি হয়ে পড়ছে সকল শ্রেণী পেশার জনসাধারণ। এমনকি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত না রাজশাহীর কৃষি প্রধান তানোর উপজেলা।থানার পুলিশ সদস্যসহ এক পরিচ্ছন্ন কর্মী করোনায় আক্রান্তের পর চরম আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন সদরবাসী। সারাদেশের মত সরকার এউপজেলায় দিয়েছে দরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য নগদ অর্থ ত্রানের চাল বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী।সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা বা রেশম কার্ডে মোবাইল ব্যাংকিঙয়ের মাধ্যমে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় ।

অনেক জেলায় একার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু তানোর উপজেলায় রেশম কার্ড নিয়ে শুরু হয়েছে এক ব্যাক্তির একক আধিপত্য। ইতিপূর্বেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এসবের একক আধিপত্য চালিয়ে এক প্রকার বৈষম্য তৈরি করতে মরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি ইচ্ছেমত রেশম কার্ডের জন্য তাঁর অনুসারী দিয়ে কমিটি গঠন করে নিজেদের লোকদের দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যারা নিশ্চিত করেন।ফলে চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে খোদ আ”লীগ থেকে শুরু করে উপজেলা জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

এমনকি তিনি নিজ দলের সিনিয়র নেতা ও প্রশাসনের সাথে শুরু করেছেন সাংসদের ক্ষমতার দাপট।এতে করে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাংসদ ভাতিজা লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না পড়েছেন চরম ইমেজ সঙ্কটে।

জানা গেছে দেশে করোনাভাইরাসের জন্য সরকার ২৫ মার্চ থেকে ছুটি ঘোষণা করেন। তারপর থেকে সারা দেশ এক প্রকার লকডাউনে পড়ে, ঘরবন্ধি হয়ে পড়েন দিন মজুর থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বাজার ঘাটে চলাচলে আসে নিষেধাক্কা। অসহায় দিন আনে দিন খাইসহ নানা পেশার দরিদ্র ব্যাক্তিদের জন্য সরকার জিআর ফান্ড থেকে ত্রানের চাল নগদ অর্থ বাচ্চাদের জন্য খাবার বরাদ্দ দেন।

সর্বশেষ সারা দেশে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেবার সিদ্ধান্ত নেন এবং অনেক এলাকায় সেই বরাদ্দের টাকা মোবাইল ব্যাংকিঙয়ের মাধ্যমে পৌছে যাচ্ছে। সাতটি ইউনিয়ন এবং দুই পৌরসভা নিয়ে গঠিত কৃষি প্রধান বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত তানোর উপজেলা। এউপজেলায় মানবিক সহায়তা বা রেশম কার্ডের বরাদ্দ আসে ৬ হাজার ৯০০জন ব্যাক্তির জন্য।

তাঁর মধ্যে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন পরিষদে ১১৭৩, বাধাইড় ৮২৫, পাচন্দর ১০১১, কামারগাঁ ৯০৭, তালন্দ ৫০৭, চান্দুড়িয়া ৪০৭, সরনজাই ৩৭০, মুণ্ডুমালা পৌরসভায় ৭০০ ও তানোর পৌরসভায় ১০০০।

খোজ নিয়ে জানা গেছে মানবিক সহায়তার কার্ডে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার অনুসারীদের কার্ডের কোটা হিসেবে দিতে হয়েছে অর্ধেক করে এবং একার্ড বিতরণে ওয়ার্ড ভিত্তিক যে কমিটি করা হয়েছে তাতেও তাদের অনুসারিরা ছাড়া কেউ নেই বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন। তালিকাতে তাঁর অনুসারি ধনাঢ্য আ”লীগ যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের শতশত নেতাকর্মীর নাম দেয়া হয়েছে। সাত ইউনিয়নে ত্রানসহ এসব কার্ড পেয়েছেন তাঁর অনুসারিরা।

ভিন্নমতের কোন দরিদ্র ব্যাক্তিকে দেয়া হয়নি ত্রান বা মানবিক সহায়তার কার্ড। অবাক করার বিষয় সাত ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আ”লীগের চেয়ারম্যান ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়রও আ”লীগের হলেও সাংসদ তাকে দূরে রেখেছেন, তবে তানোর পৌরসভার মেয়র বিএনপির হবার কারনে বিএনপির দরিদ্র ব্যাক্তিরা কিছুটা সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। তাও যা বরাদ্দ আসে তাঁর অর্ধেক দিতে হয় ক্ষমতাসীনদের। এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাঁরা অর্ধেক ইউপি সদস্যদের মাঝে দিয়ে বাকিটা দলীয় ভাবে দেয়া হয়েছে। অথচ সরকার প্রধান বারবার বলছে ত্রান রেশম কার্ড নিয়ে দলবাজি করা যাবেনা। কিন্তু সরকারের সেই নির্দেশকে অমান্য করে দলীয় কোটায় চলছে তাও আবার শুধু মাত্র সাংসদ ও তাঁর ভাতিজার অনুসারি যারা তারাই সব সুবিধা নিচ্ছেন।

মানবিক সহায়তার কার্ড নিয়ে উপজেলার কামারগাঁ ইউপি এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা রিগান মণ্ডল তাঁর ফেসবুকে লিখেন আমার ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তার কার্ড পেয়েছেন ধনাঢ্য ব্যাক্তিরা, দরিদ্র ব্যাক্তিরা পাননি। তাঁর এই লিখা সামাজিক যোগাযোগে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে উঠেছে। অনেকে কমেন্টে মানবিক সহায়তার কার্ড নিয়ে জোরালো তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যারা জানান বিশেষ করে মানবিক সহায়তার কার্ড ধরে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে ভয়াবহ অনিয়ম দুর্নীতি। কারন ইউপির পুরো তালিকা দেখানো হয়না।

অবস্থাটা এমন মনে হয় করোনার জন্য শুধু ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার অনুসারিরাই ঘরবন্ধি, তারাই সবকিছু পাবার যোগ্যতা রাখে। কলমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরিফুল ইসলামকে এপর্যন্ত দেয়া হয়নি কোন ত্রানের বা মানবিক সহায়তার কার্ড। চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম স্বপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান শরিফুল পরিষদেই আসতে চাইনা, তাহলে তাকে কিভাবে দেয়া হবে বলে এড়িয়ে যান।

এসব বিষয়ে জানতে পিআইও তারিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ করেন নি। যার ফলে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone