বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ আর আসামের ভাষা আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা : মোস্তফা

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলেনের গৌরবময় ইতিহাস ও আসামের শিলচরে ১৯ মে’র ভাষা আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তিনি বলেন, ভাষার জন্য শুধু বাংলাদেশের বাঙালিরা নন, আসামের বাঙালিরাও জীবন দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ১৯ মে’র গুরুত্ব এই প্রজন্ম এখনো জানে না। আমাদের দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) আসামের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৬১ সালের ১৯ মে সকল বাধা অতিক্রম করে আসামে শুরু হলো বাংলা ভাষার দাবিতে সত্যাগ্রহ আন্দোলন। সেদিন আন্দোলনে শরিক হতে শিলচর স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। চলছে অবস্থান ধর্মঘট। মানুষের মুখে মুখে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে নানা শ্লোগান। বিকেল চারটার মধ্যে এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিকেল দুইটা ৩৫ মিনিটে বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো শিলচর স্টেশনে। ভারতের আধাসামরিক বাহিনী অতর্কিতে গুলি শুরু করে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর। এতে এখানে শহীদ হন আন্দোলনে যোগ দেওয়া ১১ তরুণ-তরুণী।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা মায়ের সন্তানরা তাদের মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠায় নিজের বুকের রক্ত দিয়ে পিচঢালা পথকে রঙ্গিন করেছিল। শাসকগোষ্টির গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, মুক্তি সংগ্রাম। তারই মাত্র ৯ বছরের মাথায় ভারতীয় উপমহাদেশের আরেকটি শহরে বাংলাকে সরকারী ভাষার মর্যাদা দেবার দাবিতে ১১ জন তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল। ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে ১৯৬১ সালের ১৯ মে মায়ের ভাষার মর্যাদার দাবীতে শহীদ হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯২৯ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত আসামের নিপীড়িত বাঙালিদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আসামের বঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে বাঙালিদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে তার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের নতুন এক অধ্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ‘লাইন প্রথা বিরোধী আন্দোলন’ নামে খ্যাত। আসাম সরকারের ১৯২০ সালে কুখ্যাত ‘লাইন প্রথা’র বিরুদ্ধে তিনি বাঙালি কৃষকদের সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, এমন একটি মহান ঘটনা স্মরণ করা এবং ভাষাসৈনিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। আমাদের এখানে শুধু ২১ ফেব্রুয়ারির দিনটিকে ঘিরে বাংলা ভাষার চর্চা বা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। সারা বছর এ ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ বা ভাষাভিত্তিক কর্মকান্ড খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না। এ রকম কর্মকান্ড সারা বছর চলতে বাধা কোথায়? ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ‘শহীদ দিবসে’ও আমরা তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করতে পারি। বাঙালি হিসেবে সেটাই হবে তাদের পবিত্র আত্মার প্রতি আমাদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শন করা।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone