সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

মাগুরায় র্ঘূনিঝড় আম্ফানের আঘাতে ৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

সাইদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা :
  • Update Time : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

সাইক্লোন আম্পান কেড়ে নিয়েছে মাগুরার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। তারা বর্তমানে দিশাহারা। জেলায় মোট ৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমির কলা, পেঁপে, আম, লিচু, পাট, মরিচ ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এ তথ্য জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের। গাছ উপড়ে পড়েছে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বুধবার রাত ৯ টার দিকে ঝড়ের শুরু থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত ১৫ ঘন্টা জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন ছিলো। এ সময় মাগুরার ৪ উপজেলায় গড়ে ২০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মাগুরা সদরের শ্রীকুন্ডি গ্রামের কৃষক, ঈদুল শেখ জানান,তার ৬ বিঘা জমিতে কলা ও পেপে চাষ করেছে। কিন্তু সুপার সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে জমির কলা ও পেপে গাছ সব নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৪লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বর্গাচাষী ঈদুল শেখ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মাগুরা পৌর এলাকার প্রান্তিক কৃষক,বাবলু মোল্যা জানান, সে ২একর জমিতে কলার চাষ করেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে তার জমির প্রায় দুই হাজার কলাগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সে আরো জানান এনজিওর লোন করে এই চাষআবাদ করেছিল। এই কলা বিক্রি করে লোন শোধ করার কথা ছিল তার। কিন্তু ঘুর্নিঝড়ে কলাগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়াতে সে এখন বিপাকে পড়েছে। এখন তার আশা সরকারি কোন সহযোগীতা পেলে সে আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে ।

সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নে চাষি মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, হাজরাপুরসহ আশ-পাশের এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২০ হাজার লিচু , আম, কাঁঠাল, কলা, পেপে বাগান রয়েছে। যার মধ্যে লিচু বাগান রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে গোটা এলাকার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বছর এসব এলাকা থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আম ও লিচু বিক্রি হয় । তাই এ এলাকার কৃষকরা তাদের ফসলহানীর কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান রাজীর জানান, গোপালগ্রাম ইউনিয়নের ব্যাপক ফসলহানী,ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃক্ষ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। শুপারী গাছ, পানের বরজ, আম কাঠল,পেঁপে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।সরকারী সহযোগীতা ছাড়া এ ক্ষতি পূরণ করা ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহিদুল আমিন জানান,বর্তমানে জেলায়-৬০০ হেক্টর জমিতে লিচু, ১৩০০ হেক্টরে আম, ৭০০হেক্টরে কলা, ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে, ৬২০ হেক্টরে কাঠাল, ২০০ হেক্টর জমিতে নালিম,৭২০ হেক্টর মুগডাল, ২৭২০ হেক্টরে বিভিন্ন সবজি, ২৮২০ হেক্টরে তিল এবং ৩৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ঝড় ও বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমির ফসলের মধ্যে পেঁপে ও কলার ক্ষেত সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝরে গেছে বিপুল সংখ্যক গাছের আম ও লিচু। ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone