বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন

৫ দফা দাবি আদায়ে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি (দিনাজপুর ) :
  • Update Time : সোমবার, ১ জুন, ২০২০

হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন ফুলবাড়ী শাখা ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি আনন্দ মহন্ত ও সাধারণ সম্পাদক লাল এর নেতৃত্বে ৩ শতাধিক হোটেল শ্রমিক তাদের ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনন্দ মহন্ত ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাল জানান, করোনা ভাইরাস মহামারীতে গত ২৬ মে থেকে ২ মাসেরও অধিক সরকার সাধারণ ছুটির ঘোষণায় হোটেল রেস্তোরা বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে ক্ষুধার যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণের ঘোষণা দিলেও এখানে এখন পর্যন্ত উল্লেখ করার মত কোন ত্রাণ, প্রণোদনা বা সহযোগিতা শ্রমিকরা পায়নি।

অপরাপর শ্রমিকদের ন্যায় হোটেল শ্রমিকরা ত্রাণনা পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছে। বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎবিল জোগাড় করতে না পেরে শ্যমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছ্ েসরকার ঘোষণা করেছিল হোটেল শিল্পে কর্মহীন শ্রমিকরা অধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে। পর্যান্ত ত্রাণ সরকার দিচ্ছে জেনে শ্রমিক আসছে নেতৃবৃন্দের কাছে।

আর নেতৃবৃন্দ ঘুরছেন বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে। কিন্তু প্রাপ্তির খাতা শূন্যই রয়ে যাচ্ছে। এভাবে মাসের পর মাস শ্রমিকরা কিভাবে বেঁেচে থাকতে পারে? শ্রম আইন ও সরকারের ঘোষণা অনুযায়ি সাধারণ ছুটি কালীন সকল শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়াসহ বেতন ঈদুল ফিতরের বোনাস প্রদান করার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত শহরের অল্প কিছু মালিক কেউ একবার কেউবা দুইবার শ্রমিকদের যে কিছু চাল, ডাল, তেল দিয়েছে যা দিয়ে মাস চলে না। এদিকে দুই মাস হোটেল বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। সীমিত ব্যবসার পরিসর দেখিয়ে এ সময় হোটেল মালিকারা শ্রমিক ছাঁটাই শুরু করেছে। যা খুবই অমানবিক।

সামনের সপ্তাহ থেকে এনজিও গুলো কিস্তির টাকা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে শ্রমিকরা আরো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হোটেল প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা বছরে প্রায় ১০মাস শ্রম দিয়েছে, অথচ মাত্র দুই মাস ব্যবসা বন্ধ থাকায় অধিকাংশ মালিকরা শ্রমিকদের খাদ্য, বেতন ও উৎসব ভাতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সঙ্গনিরোধ বজায় রাখতে সরকারের খাদ্য সহায়তা বা আর্থিক প্রণোদনা জরুরী ভিত্তিতে প্রদান আবশ্যক হয়ে উঠেছে, কিন্তু শ্রমিকরা রাষ্ট্র, সরকার ও মালিকপক্ষের নিকট থেকে মানবিক ও আইনগত সহায়তা পাচ্ছে না।

ফলশ্রুিততে এ সঙ্কটকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় শ্রমিকদের সামনে আন্দোলন সংগ্রাম করা ছাড়া বিকল্প পথ খোলা থাকছে না। বেঁচে থাকার অধিকার আর সকলের মত শ্রমিকদেরও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নে শ্রমিকেরা গায়ের রক্ত দিয়ে হলেও তা বাস্তবায়ন দৃঢ় অঙ্গিকারবদ্ধ। তারা অবিলম্বে তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

অন্যথায় আগামীদিনে ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে মুক্তির লক্ষ্যে কাজ, খাদ্য ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার দাবিতে দুর্বার আন্দোালন সংগ্রাম গড়ে তুলতে বাধ্য হবে তারা। যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।

তাদের দাবি সমূহের মধ্যে রয়েছে, ১। হোটেল রেস্তোরা সহ কোন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না, ২। রাষ্ট্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হোটেল শিল্পে শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রদান, পর্যাপ্ত ত্রাণ, পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, ৩। হোটেল ব্যবসা অর্থনৈতিক দিক ও শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে সকাল হতে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত হোটেল রেস্তোরা খোলা রাখার অনুমতির দাবি জানান, ৪। কর্মস্থলে শ্রমিকদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, ৫। শ্রমিকদের বকেয়া বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিহল, কিস্তির টাকা ইত্যাদি বিষয়ে সুরাহায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আগামি ৭২ ঘন্টার মধ্যে হোটেল শ্রমিকদের দাবি দাওয়া মেনে না নিলে অবস্থান ধর্মঘাট করার ঘোষণা দেন।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: The It Zone
freelancerzone