শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

কেয়ার বাংলাদেশ ও কোকা-কোলা স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

জি-নিউজবিডি২৪ ডেস্ক :
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

কোকা-কোলা ও তার পার্টনার কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে করোনা মোকাবেলায় চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) প্রদান করছে। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের চলমান কার্যক্রমের সহযোগিতার লক্ষ্যে কোকা-কোলা ঘোষিত ১১.৫ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে, ঢাকায় আজ পিপিই বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায়, কেয়ার বাংলাদেশ ঢাকা, কুমিল্লা এবং গাজীপুরে অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এক হাজারেরও বেশি পিপিই এবং অন্যান্য সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। কেয়ার বাংলাদেশের এই কার্যক্রমের স্থানীয় বাস্তবায়নকারী অংশীদার হল- সোশ্যাল এন্ড ইকোনোমিক ইনহান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ) ও ঢাকা আহছানিয়া মিশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএইচএস এর মহাপরিচালক প্রফেসর ডঃ আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “মহামারীর এই সময়ে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও/সিএসও কে এগিয়ে আসতে হবে এবং কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে মানবিক যুদ্ধে সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এই সঙ্কট সময়ে স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য আমি কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন এবং কেয়ার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাই।

কোভিড-১৯ রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্সদের জন্য ১,০০০ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮৩৫ ফেব্রিকেটেড পিপিই, ১,০০০ আই শিল্ড, ২,৬০০ এন-৯৫ ফেস মাস্ক, ১০,০০০ ডিসপোজেবোল হ্যান্ড গ্লভস, ৫০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১০০ বোতল হ্যান্ড রাব, ৪০ অক্সিজেন সিলিন্ডার, ১০,০০০ বায়ো হ্যাজার্ড ব্যাগ ও ১২টি থার্মাল স্ক্যানার প্রদান করা হয়।

কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রমেশ সিংহ বলেন,  আমরা ইতিহাসের কঠিন সময় পার করছি। দেশজুড়ে মানুষের সহায়তা প্রয়োজন। কোকা-কোলার সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। নেতৃত্বের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে প্রশংসা করি এবং আমরা সরকারের প্রচেষ্টায় হাত মিলিয়ে চলেছি।

করোনার বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, পাশাপাশি তাদের সুরক্ষা নিয়েও উদ্বিগ্ন। কেয়ার বাংলাদেশের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আমরা ১৩ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১,৭২৩,৯৫৮ মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মানবিক সম্প্রদায়, দাতা সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একত্র হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।

ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে কোকা-কোলা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজয় বাতিজা বলেন,যেসব মানুষ ফ্রন্টলাইনে কাজ করছে, এই সময়ে যাদের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষার প্রয়োজন, তাদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় আমরা এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ গ্রহন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা আশাবাদী যে আমাদের সমষ্টীগত উদ্যোগ এবং সহনশীলতা দ্বারা আমরা এই পরীক্ষার সময় থেকে নিজেদের রক্ষা সক্ষম হবো।

ডাঃ খায়রুজ্জামান, সিভিল সার্জন গাজীপুর বলেন, কোভিড-১৯ এ মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত এলাকার মধ্যে গাজীপুর একটি। “সংকট মূহুর্তের শুরুর দিকে কেয়ার থেকে ৫০০ পিপিই পেয়েছি। কোভিড কেস বাড়ার সাথে সাথে এসব সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েই চলছে এবং এটা অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার যে কেয়ার বাংলাদেশ এবং দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছে।

এই কর্মসূচী ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লার করোনা উপদ্রুত নগর বা ‘হটস্পট’ গুলোতে দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন ও কেয়ার বাংলাদেশের সহায়তায় চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপ। এছাড়া করোনার বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, সেই সব ডাক্তার-নার্স-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পানীয় চাহিদা পূরণে নিজস্ব পণ্য সরবরাহ করতে কোকা-কোলা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মে মাসের শুরুতে, কেয়ার বাংলাদেশ দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ১০,২২০ নগরে বসবাসরত পরিবারকে এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী এবং নারী ও কিশোরী মেয়েদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী যেমন- স্যানিটারি ন্যাপকিন, ফেস মাস্ক, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী সম্বলিত ‘ডিগনিটি কিটস’ও বিতরণ করা হয়েছে।

এসব উদ্যোগ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কোকা-কোলা বাংলাদেশের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির অংশ। এর মাধ্যমে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখাই কোকা-কোলা বাংলাদেশের লক্ষ্য।

কোকা-কোলা বাংলাদেশ সম্পর্কে:
কোকা-কোলা সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে হাজার হাজার ভোক্তার কোমল পানীয়ের চাহিদা পূরণ করছে, যা তাঁদের সতেজ ও চনমনে থাকতে বেশ সহায়ক। কোকা-কোলার পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- কোকা-কোলা, ডায়েট কোক, স্প্রাইট, ফান্টা, কিনলে পানি, কিনলে সোডা, কোকা-কোলা জিরো, স্প্রাইট জিরো, থামস আপ কারেন্ট ইত্যাদি। কোকা-কোলা এদেশে ৮ শতাধিক লোকের সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

কোকা-কোলা নানা ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কমিউনিটি বা সমাজকে শক্তিশালী করে তোলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দু’টি কর্মসূচি হলো: ‘এভরি ড্রপ ম্যাটারস’ ও ‘ওয়াশ’। এই দু’টি কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন বা পয়ঃনিষ্কাশন, হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্কুলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছে।

এছাড়া নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে কোকা-কোলা ‘উইমেন বিজনেস সেন্টা’র নামে তার ব্যতিক্রমধর্মী ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে, যা ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির ১,০০,০০০ নারীর সাবলম্বী হয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

কেয়ার সম্পর্কে:
কেয়ার প্যাকেজ ®তৈরির মাধ্যমে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, বৈশ্বিক দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা একটি শীর্ষস্থানীয় মানবিক সংস্থা কেয়ার। কেয়ার তার কাজে দারিদ্রতার সাথে লড়াই করা মেয়ে ও নারীকে বিশেষ ভাবে দৃষ্টিপাত করে কেননা, যথাযথ সংস্থান পেলে তারা পুরো পরিবার ও সমগ্র গোষ্ঠীকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত করার ক্ষমতা রাখে।

গত বছর কেয়ার ১০০ টি দেশে কাজ করেছে ও বিশ্বের ৫০ মিলিয়নের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। আরও জানতে, ভিজিট করুন

www.care.org এবং www.care-international.org.

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone