মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

রাজাপুরের সেই কলেজ ছাত্রী ভিক্ষুক অসহায় বৃদ্ধ রোকেয়ার পাশে!

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে :
  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

ঝালকাঠির রাজাপুরের আঙ্গারিয়া গ্রামের মৃত মোকসেদ খানের স্ত্রী অসহায় বৃদ্ধ ভিক্ষুক রোকেয়া বেগমের অসহায়ত্বের কথা ফেসবুকে দেখে তাকে ১ মাসের খাদ্য সামগ্রী, শাড়ি ও চিকিৎসা খরচ বাবদ আড়াই হাজার টাকা দিয়েছেন কলেজ ছাত্রী নুপুর আক্তার।

শনিবার সকালে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে উপস্থিত হয়ে কলেজ ছাত্রী নুপুর ওই বৃদ্ধ নারীর হাতে এসব উপহার তুলে দেন। এ সময় রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি রহিম রেজাসহ অন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। নুপুর রাজাপুর আলহাজ লালমোন হামিদ মহিলা কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্রী এবং দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য আবুল কালাম হাওলাদারের মেয়ে।

এর আগে এই বৃদ্ধ নারীকে ঝালকাঠির এনডিসি আহমেদ হাসানও আর্থিক সহায়তা করেছিলেন এবং রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবের পক্ষ থেকেও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছিলো। নুপুর জানান, করোনার কারনে ঈদ করা হয়নি, এ কারনে কিছু টাকা জমানো ছিল। ফেসবুকে ওই বৃদ্ধ নারীর অসহায়ত্বের কথা ও অর্থাভাবে সঠিকভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না, রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবের করা এমন সংবাদটি দেখে তাকে সহায়তার চিন্তা করি এবং পাশাপাশি আমাদের ফেসবুক গ্রুপের সদস্যদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তারাও এগিয়ে আসেন।

এরপর ওই বৃদ্ধ নারীর ১ মাসের খাবারের জন্য ১৫ কেজি চাল, আলু ৫ কেজি, ১ কেজি ডাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি পিয়াজ, লবন ১ কেজি, ২টি সাবান ও ১টি শাড়ি উপহার হিসেবে তুলে দেন এবং অসহায় মানুষের সহযোগীতার জন্য তৈরি করা ‘‘আমাদের প্রিয় রাজাপুর হেল্প সেন্টার ফর রাজাপুর পুওর পিপল’’ ফেসবুক গ্রুপের একজন এডমিন ইমাম হাসান, সদস্য সাইফুল ইসলাম ও রিয়াজুল ইসলাম মিলে ২৫শ’ টাকা চিকিৎসা ও ঔষধ ক্রয়ের জন্য সহায়তা দিয়েছেন। আর কলেজ ছাত্রীকে খাদ্য ক্রয়ে সার্বিক সহায়তা করেছেন গ্রুপের সদস্য সৌরভ।

নুপুর জানান. সমাজের ধনী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বড় ব্যবসায়ীদের উচিত সমাজের এসব মানুষের পাশে দাড়ানো। বৃদ্ধ নারী রোকেয়া বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি খুব অসহায় হয়ে পেটের দায়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন এবং দক্ষিণ সাউথপুর গ্রামের রিক্সা চালক জামাতা ও তার মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। করোনার কারনে যখন সবকিছু বন্ধ হয়ে যায় তখন ভিক্ষাও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারনে চরম বিপাকে পড়েন তিনি।

ঔষধ কিনে খাবারও সমর্থ ছিল না। এ সহযোগীতা পেয়ে তিনি বেশ খুশি এবং আল্লাহর কাছে সকলের জন্য দোয়া করেন। তিনি আরও জানান, আঙ্গারিয়া গ্রামে স্বামীর ভিটায় সরকারি একটি ঘর পেলে তিনি সেখানে মাথা গোজাঁর ঠাঁই পেতেন। মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণ সাউথপুর গ্রামের ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম তারেক জানান, এ বৃদ্ধ নারী সত্যিই খুব অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি একটি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তাকে একটি ঘর দেয়া খুবই জরুরি। তিনি এ জন্য প্রশাসনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone