শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

তানোরে সিন্ডিকেটেই গুদামে ধান সংগ্রহ

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

প্রাণঘাতী করোনার সুযোগে রাজশাহীর তানোরে দুটি খাদ্য গুদামে কৃষকের বিপরীতে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ধান ক্রয় করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় ব্যাক্তিরা গুদামে নিম্মমানের ধান দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেট চক্র লটারিতে উঠা কৃষকের কার্ড নিয়ে নানান জায়গা থেকে ধান ক্রয় করে বিভিন্ন চাতাল থেকে ভুটভুটিতে প্রকাশ্যে গুদামে দিচ্ছেন ধান বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে ধান দেয়া নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আর এই সিন্ডিকেট চক্রকে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করছেন গুদাম কর্মকর্তা ও খাদ্য অধিদপ্তর বলেও প্রচার রয়েছে। এত কিছুর পরও ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জন হবে কিনা সন্দেহের মধ্যে আছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, কৃষকের লোকসান কমাতে সরকারী ভাবে ধান সংগ্রহের জন্য নামমাত্র লোক দেখানো লটারি করা হয়। লটারিতেও উপজেলার অর্ধেক কৃষকেরও নেই নাম। চলতি বোরো মৌসুমে সরকারী ভাবে দুটি খাদ্য গুদামে প্রথমে ১ হাজার ৭৭৯ এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৯৪ মেঃ টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ আসে। কিন্তু খোলা বাজারে ধানের দাম ভালো থাকার কারনে কৃষকরা গুদামে ধান দেন নি। আর এই সুবাধে ও করোনাভাইরাসের সুযোগে ক্ষমতাসীন দলের নাম্বার ওয়ান সিন্ডিকেট বিশিষ্ট দাদন ব্যবসায়ী গোল্লাপাড়া বাজারের বাসিন্দা রাসেল সরকার উত্তমের কোন জমি না থাকলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে টনের টন ধান দিয়েছেন গুদামে। শুধু ধান না তিনি নাচোল উপজেলা থেকে একেবারে নিম্মমানের গমও দিয়েছেন।

তিনি এখন খাদ্য গুদামের অন্যতম সেরা মুল হোতা এবং তাঁর সাথে গুদাম কর্মকর্তা তারেকও আছেন এবং ব্যবসা করছেন বলেও একাধিক সুত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে । কারন এই উত্তম অতীতে এসব কাজে সরাসরি আসলেও এখন সিস্টেমেই সব হয়ে যাচ্ছে। আর গুদাম কর্মকর্তা তারেকের পদন্নোতি হলেও রহস্যজনক কারনে এখান থেকে যাচ্ছেনা না তিনি।

এছাড়াও উপজেলার কামারগাঁ ইউপি এলাকার হাজি সেলিমের চাতাল থেকে বৃষ্টি ও ছুটির দিনে সিন্ডিকেটে ধান দিচ্ছেন এক সময়ের লেবার সরদার নাজিম গোল্লাপাড়া। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি কিভাবে এত ধান দিচ্ছেন এবং কোথায় থেকে কিনা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান কৃষকের কার্ড কিনে ধান দিচ্ছি। এলাকা থেকেই কিনে চাতালে শুকিয়ে গুদামে দিচ্ছি।অথচ আষাঢ়ের পুরো মাস দু এক দিন বাদে প্রতিদিন হয়েছে । চাতাল সংলগ্ন এলাকার লোকজন জানান এসব ধান হাইব্রিড জাতীয়। এউপজেলায় চাষ হয়না এসব ধানের । এসব ধান আসে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে।

কৃষকরা জানান, অতীতে আমরা গুদামে ধান নিয়ে গেলে নানান রকমের ঝামেলায় ফেলা হত । আর এবার বাজারও ভালো আছে। সুতরাং গুদামে ধান দেবার প্রশ্নই উঠেনা। এখন ধান না পেয়ে মাইকিং করা পর্যন্তও হয়েছে । আমরা ধান না দিলে কি হবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের ফড়িয়ারা বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে দিচ্ছেন হাইব্রিড জাতের ধান । যা তানোরে কখনো এসব ধান চাষ হয় না। বৃষ্টির মধ্যে পলেথিন ধানের বস্তার উপর দিয়ে গত বৃহস্পতিবারে গুদামে ধান দেবার মতোও ঘটনা ঘটেছে । এসব ধানের কোন আদ্রতাই নেই। তারপরও সমস্যা নেই।

অথচ কৃষকের নামে যাতে ধান নেয়া হয় এজন্য লটারি করে নির্বাচিত করা হয় কৃষক। লটারিতে উঠা প্রতি কৃষক এক মেঃ টন করে ধান দিতে পারবেন ও সেই টাকা ওই কৃষকের ব্যাংক একাউণ্টে আসবে এবং ওই কৃষকের স্বাক্ষর ছাড়া অন্য কেউ টাকা তুলতে পারবেনা। কিন্তু নিয়মের জায়গা নিয়মে রেকে সিন্ডিকেট চক্র ওই কৃষকের পরিচয় পত্র কৃষি কার্ড নিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেদারসে খাদ্য অফিস থেকে কাগজ নিয়ে তুলছেন টাকা।

বিভিন্ন চাতাল মালিকের সাথে কথা বলা হলে তাঁরা জানান আষাঢ়ের টানা বৃষ্টির কারনে এউপজেলায় শুকনো ধান পাওয়া কষ্টকর।যতটুকু সময় রোদ পাওয়া যাচ্ছে ওই সময়ের মধ্যেই শুকিয়ে নিচ্ছে ধান। এছাড়াও সরকারী ভাবে কঠোর নির্দেশ যে ভাবেই হোক ধান সংগ্রহ করতেই হবে। আর ধানের বাজার লাভ জনক থাকার কারনে কৃষকেরা দিচ্ছেন না ধান। মুলত এজন্যই কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই বিভিন্ন মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করছেন।

এদিকে উপজেলার প্রায় হাটেই বিক্রি হচ্ছে ধান। বিভিন্ন ধান ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
কামারগাঁ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান যে ভাবে হোক সরকারের দেয়া বরাদ্দ অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করতেই হবে। লটারিতে উঠা কৃষকের সাথে যোগাযোগ করেও ধান দিতে রাজি হচ্ছেনা।

তবে বাহির থেকে কোন ধান আসেনি এউপজেলার ধানই বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে।তিনি আরো জানান ১০৫৯ মেঃ টন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এপর্যন্ত মাত্র ১২১ মেঃ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি ধান সংগ্রহ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মেয়াদ আছে, আবহাওয়াও ভালো হচ্ছে যে ভাবেই হোক সংগ্রহ করবই বলে জানান তিনি।

তানোর গোল্লাপাড়া খাদ্য গুদামে ১৪১৪ মেঃ টন বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ১০০ মেঃ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহের মেয়াদ আছে। তিনি দাবি করেন পুরো আষাঢ় মাস বৃষ্টি যার কারনে কৃষকরা ধান শুকাতে পারেনি। তবে মেয়াদ বাড়ালে এবং আবহাওয়া ভালো হলে লক্ষমাত্রা পুরুন হবে বলে আসা করেন এই কর্মকর্তা।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আলওউলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে কৃষক প্রতি ৬ মেঃ টন ধান দিতে পারবেন। সংগ্রহ খুবই কম হয়েছে। কারন আবহাওয়া ভালো ছিলনা প্রায় দিন বৃষ্টি হচ্ছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মেয়াদ আছে সেটা বাড়ানোর জন্য দাবি করছি এবং কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে ।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone