রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

যুবরাজ! দাম ৩০ লাখ! ষাঁড়কে দেখতে উৎসুক জনতা ভিড়!

ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি ঝিনাইদাহ :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে প্রায় ৫০ মণ ওজনের এক ষাঁড়কে দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে। জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ষাঁড়কে দেখতে আসছে। তার সঙ্গে সেলফি উঠানোর হিড়িকও চলছে। অনেকে আবার এই ষাঁড়ের সঙ্গে তোলা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এসব কারণে ষাড়টি এখন আলোচিত হয়ে উঠেছে। তাকে দেখার জন্য প্রতিদিন জনতার ভিড় বেড়েই চলেছে। শাহআলম মিয়ার পৈত্রিক বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায়। স্কুল ও কলেজ জীবন শিবচরেই কেটেছে তার। প্রায় ৮ বছর পূর্বে এক বন্ধুর হাত ধরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে চলে আসে এবং স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে।

এরপর অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি সিঙ্গাপুরসহ ৪১ টি দেশে গিয়েছেন। পরে ঝিনাইদহে ফিরে এসে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় করে বাড়ি ও বাড়ির সাথে একটি খামার করেন। খামারের নাম দিয়েছেন আব্দুল্লাহ এগ্রো এ- ডেইরি ফার্ম। ৭ বছর হলো এই খামারেই তিনি গরু লালন-পালন করেন। বর্তমানে তিনি এই খামারেই সময় দেন। এগুলো লালন-পালন করে অর্থ উপার্জন করছেন।

ফার্ম মালিক শাহআলম মিয়া জানান, আমার এই ফার্মের নাম আব্দুল্লাহ এগ্রো এ- ডেইরি ফার্ম। যুবরাজ নামে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি স্থানীয় বাজার থেকে ৬ মাস বয়সে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনে আনা হয়। এখন তার বয়স ৪ বছর ৬ মাস। শুধু মাত্র এই ষাঁড়ের পেছনে প্রতিদিন খাবারের জন্য খরচ হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। আমি প্রায় ৭ বছর যাবৎ খামার পরিচালনা করতেছি। যুবরাজের ওজন এখন ৫০ মণের উপরে। আমার গরুটির দাম চেয়েছি ৩০লক্ষ টাকা।

ইতোমধ্যে আমার গরুটির দাম ১৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। গত বছর ঈদে এটির দাম ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হয়েছিল। এবার করোনা ভাইরাসের মধ্যে কি হয় জানি না ভাগ্যে কি আছে। গরুটির পেছনে ১৭/১৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে। যদি আমি ন্যায্য মূল্য না পাই তাহলে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ’ হয়ে যাব। এভাবে আমি নয়,আমার মত অনেক খামারি ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে দাবি এবারের কোরবানির হাট যাতে ভালোভাবে বসে এবং খামারিরা যাতে ন্যয্য মূল্য পাই। ওই গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, শাহআলম মিয়া গরুর সঙ্গে কথা বলে। সে নাম ধরে ডাক দিলেই গরু বুঝতে পারে। মালিক যে নির্দেশ দেয় সেটাই যুবরাজ পালন করে।

তিনি বলেন, এই যুবরাজ তাদের গ্রামটি অনেক এলাকার মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। দূরদুরান্ত থেকে লোকজন আসছেন যুবরাজকে দেখতে। ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা দর্শনার্থী সেন্টু জানান, তাদের এলাকার অনেকে যুবরাজকে দেখে গল্প করছিলেন। এই গল্প শুনে তিনিও এসেছেন। তিনি বলেন, গরুটি দেখে গরু মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে এটি একটি হাতি।

তিনি তার জীবনে এমন গরু কখনও দেখেনি। এছাড়াও তিনি প্রবাসী এক আত্মীয়ের জন্য আসছে ঈদুল আযহায় কোরবানি দেওয়ার জন্য গরুটির দাম দিয়েছেন ১৯ লাখ টাকা। এ বিষয়ে জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, তারা গরুটির ওজন আনুমানিক ৫০ মণ বলে ধারণা করছেন। ঈদ আসতে এখনও কিছুদিন বাকি আছে। এরইমধ্যে আরো কিছু ওজন বাড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি আরও বলেন, জেলায় যুব রাজই প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে শ্রেষ্ঠ গরু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone