শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

খুলনায় করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন জেলা পুলিশ সুপার

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা করে যাচ্ছে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম সফিউল¬াহ (বিপিএম)। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মাঠে-ময়দানে রয়েছেন তারা। স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্যকে। এতে যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।

নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে লকডাউন বাস্তবায়ন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রচার অভিযান, নির্ধারিত সময়ে হাটবাজার, দোকানপাট বন্ধ করা, বিদেশ ফেরত ব্যক্তির বাড়ি খুঁজে বের করা, সংক্রমিত ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ কর্মহীন ব্যক্তির বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

আর নিজেদের সুরক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১০ শয্যার বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি পুলিশ সদস্যদের। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা পুলিশের ৯টি থানাসহ সুপারের কার্যালয়ে মোট ১৯৯৩ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। গত ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ সদস্যকে পর্যায়ক্রমে করোনা সংশি¬ষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে খুলনায় কোনো পুলিশ সদস্যের মৃত্যু না হলেও সংক্রমিত হয়েছেন ২২ জন।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার জন্য এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পিপিই (পার্সনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) পাওয়া গেছে তা পর্যাপ্ত। ইতোমধ্যে সেগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মাঝে একবার করে বণ্টন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সব সদস্যের মাঝে পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক সদস্য বলেন, পুলিশ নিয়মিত মানুষের কাছে যাচ্ছে। বিপদে-আপদে মানুষও পুলিশের কাছে আসছে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে জনসমাগম ঠেকাতে ঘটনাস্থলে পুলিশকেই যেতে হচ্ছে। অনেক সময় মানুষ বুঝে-না বুঝে আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ করোনা প্রতিরোধে নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

একবার পাওয়া সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে দিনের পরে দিন চলা যায় না। ফলে আমাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও কম নয়। এর মধ্যেই সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) জিএম আবুল কালাম আজাদ যায়যায়দিনকে বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা জেলা পুলিশ শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সরকারি সব ধরনের নির্দেশনা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পুলিশ সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তাদের নিজেদের সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য বিভাগ যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।তিনি বলেন, আমরা এখন ভাবছি পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা নিয়ে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), খুলনা জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), রেলওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশে প্রায় ১০ হাজার সদস্য কর্মরত রয়েছে। আমরা চাইÑ খুলনা বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালকে ১০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হোক।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এসএম সফিউল¬াহ (বিপিএম) বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনামতো মাঠপর্যায়ে আজ পর্যন্ত বার হাজার মানুষের কাছে খাবার পৌচ্ছায়ে দিছি, যতদিন এই মহামারি করোনা ভায়রাস থাকবে ততদিন খাবার মানুষের বাড়িবাড়ি যাবে। করোনাঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, লকডাউন বাস্তবায়ন, বিদেশ ফেরতদের খুঁজে বের করা, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ পুলিশ সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে। সদস্যদের নিজেদের করোনাঝুঁকি মাথায় রেখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও জেলা পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone