শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

অন্ধকারের একটি নক্ষত্র

আমিনুল আমিন ঃ
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

১৯৭৪ সালে ভয়ঙ্কর এক দূর্ভিক্ষ লন্ড ভন্ড করে দিলো গোটা দেশ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য বিশাল এক ধাক্কা। অনেকটা গোদের উপর বিশ ফোঁড়ার অবস্থা।

তখন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক খেয়াল করলেন শ্রেণি কক্ষে ছাত্রছাত্রীদের যা পড়ান তার সাথে বাস্তবে তার তেমন কোন মিল নেই। তার মনে হতে থাকে বইয়ের তত্বগুলো বাংলাদেশের কল্যানে বাস্তবে কোন ভূমিকা রাখতে পারছেনা। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী জোবরা গ্রামে নিয়মিত যাতায়াত ছিলো। মাঝে মধ্যে তাদের সাহায্যের জন্য তিনি এটা সেটা করতেন।

এক সময় তিনি অনুভব করলেন টাকার অভাবেই গরিব মানুষের সবচেয়ে বড় অভাব। সামান্য কিছু টাকা পেলে তারা অনেক কিছুই করতে পারে। কিন্তু গ্রামের মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে সেই সামান্য টাকা ধার নিতে গিয়েই নিজেদের সকল সত্বা বিকিয়ে দিতে বাধ্য হয়। তখন তিনি ঐ গ্রামে ৪২ জন দরিদ্র মানুষকে খুজে পান।

যারা মহাজনের কাছ থেকে সর্বমোট ৮৫৬ টাকা ধার নিয়েছিলো। তিনি নিজের পকেট থেকে তাদের ঐ টাকা দিয়ে দিলেন। তারা মহাজনের ধার শোধ করেন এবং ঐ শিক্ষকের কাছ থেকে আরো কিছু টাকা পেয়ে বিপুল উৎসাহে নানান কাজে নেমে পরেন।

তখন গ্রামের ঐ দরিদ্র মানুষগুলোকে তিনি জনতা ব্যাংকের চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ঋণ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত করে দিতে চাইলে বিনা জামানতে সংশ্লিষ্ঠ ব্যাংক তাতে রাজী হয়নি। এরপর ঐ শিক্ষক নিজে জামিনদার হয়ে ব্যাংক থেকে ১০ জন দরিদ্র মানুষের জন্য আট হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করান।

এবং যথা সময়ে টাকা ফেরৎ দেন। কিন্ত এই উদাহারন ব্যাংক গ্রহন না করে তাদের সরাসরি ঋণ দেয়ার পরিবর্তে সেই শিক্ষকের জামিনদারীর মাধ্যমেই কেবল আরো ঋণ দিতে সম্মত হয়। কারন জামানত ছাড়া গরীব মানুষদের প্রতি ব্যাংকে কোন আস্থা নেই।

এভাবে সেই শিক্ষক আশে পাশের কয়েকটি গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য ঋণ মঞ্জুর করান এবং তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন নুন্যতম এক টাকা ফেরৎ নেয়ার নিয়ম চালু করেন। পরে আসে সাপ্তাহীক কিস্তি পদ্ধতি।

এরপর ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে দেন-দরবার করে জোবরা গ্রামে কৃষি ব্যাংকের পরিক্ষা মূলক গ্রামীন শাখা চালু করান। তার তত্বাবধায়নে ঐ শাখায় ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচী সাফল্যের সাথে পরিচালিত হতে থাকলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকাররা অন্য এলাকায় তা সম্প্রসারনের মাধ্যমে সাফল্যের প্রমানের চ্যালেঞ্জ ছুড়েঁ দেন।

তখন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরী ছেড়ে স্থায়ীভাবে এই প্রকল্পের হাল ধরার আহবান জানান। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু বছরের ছুটি নিয়ে কাজ চালাতে থাকেন। এবার আস্তে আস্তে জোবরা গ্রামের সেই ব্যাংক ছড়িয়ে পড়তে থাকে টাংগাইল, রংপুর, পটুয়াখালী, চট্রগ্রাম ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন গ্রাম সহ পুরো দেশে।

ব্যাংকটির সার্বিক সাফল্য দেখে ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার একটি আইন পাশ করে পৃথক ও পূর্নাঙ্গভাবে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্থ নেয় এবং ১৯৮৩ সালের দুই অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রামীন ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।

ইতোমধ্যে আপনারা হয়তো বুঝে গেছেন এখানে কোন শিক্ষকের কথা বলা হয়েছে। হ্যাঁ এতক্ষন বাংলা মায়ের বিশ্ব নন্দিত নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কথাই বলছিলাম।

পরবর্তিতে ড. ইউনুসের এই ক্ষুদ্রঋণ ধারনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, এমনকি খোদ আমেরিকাতেও ।

বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গ্রামীন ব্যাংকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের দেশে এই ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খুব অল্প সময়েই ইউনুসের এই মাইক্রোক্রেডিট সিস্টেম বর্হিবিশ্বে প্রশংসা কুড়ায়।

বয়ে আনে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মত নানান পুরস্কার ও সম্মাননা। পৃথিবীর প্রায় ৪৮ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান সূচক ডক্টোরেট ডিগ্রী প্রদান করেছে।

এছাড়া তিনিই ছিলেন স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ক্ল্যাডোনিয়ান ইউনির্ভসিটির প্রথম নন-বিৃটিশ উপাচার্য। বিৃটিশরা সব নিয়ম ভেঙ্গে তাকে সম্মান দেখিয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৮ শে জুন তিনি জন্ম গ্রহন করেন।

জন্ম দিনে মহান এই ব্যাক্তির প্রতি রইলো আমাদেও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ ইউনুস আমাদের জন্য আরো অনেক অনেক সম্মান বয়ে আনুক। আরো বেশী মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে চিনুক লাল সবুজের বাংলাদেশকে। সূত্র : ফাপরবাজ

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone