সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

Surfe.be - Banner advertising service

পুলিশের মানবিক কার্যক্রম সুফল পাচ্ছে মাগুরার সাধারণ জনগণ

সাইদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা :
  • Update Time : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

মাগুরা জেলা পুলিশ তাদের নির্ধারিত কর্মকান্ডের পাশাপাশি মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যে ভুমকিা রেখে মানুষের মাঝে মানবিক পুলিশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার।

এ বিষয়টি সামনে রেখে মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান,পিপিএম জানান, মহামারী করোনা মােকাবেলায় বর্তমানে মাগুরা জেলা পুলিশের নিকট সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নিজেকে সুস্থ রেখে মহামারী প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাগুরা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ও জনহিতকর দায়িত্ব পালন করে আসছে।

নাগরিকদের আইনি সেবা প্রদান সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ইনোভেটিভ সেবা দানে বাংলাদেশ পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের সংকট দ্রুততম সময়ে ও পেশাদারিত্বের সাথে মোকাবেলা করার কৌশল, কর্মপন্থা এবং অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, পিপিএম শুরু থেকে অদ্যাবধি বিস্তর কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন।

মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, পিপিএম করোনা পজিটিভ রোগীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং কোন ব্যক্তির পজেটিভ হওয়ার খবর আসার সাথে সাথে তিনি নিজে কিংবা তার প্রতিনিধি আক্রান্তের বাড়িতে ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্রকার মৌসুমী ফল, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলমূল, ভেষজ ও মসলাজাতীয় দ্রব্যাদি নিয়ে।

পুলিশ সুপারের উপহার সামগ্রীর মধ্যে আরও রয়েছে লবঙ্গ, এলাচ, মধু, কালোজিরা ও ওয়াটার হিটার। এই রোগীদের রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দুই সপ্তাহের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সবশেষে রোগীর স্বজনদের কাছে পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত সমবেদনাপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগী ও তাঁর পরিবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। বিপদের সময় পুলিশকে তাদের পাশে পেয়ে চাঙ্গা হচ্ছে তাদের মনোবল।

এ ছাড়া প্রতিজন করো না রোগীর বিপরীতে মাগুরা জেলা পুলিশ হাসপাতালের পক্ষ থেকে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ইতিহাস ফাইল খোলা হয়েছে। এ হাসপাতাল হতে একজন পুলিশ অফিসার প্রতিদিন প্রতিজন রোগীকে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে ১০ টি প্রশ্ন করে তার উত্তর লিপিবদ্ধ করেন, বিশ্লেষণ করেন, আপডেট নেন।

কোন রোগী গুরুতর হলে হাসপাতাল কিংবা ডাক্তারের সাথে সমন্বয় করে দিচ্ছে পুলিশ। করোনা কালের প্রথম দিক থেকেই পুলিশ সুপার জেলার ৪টি থানা এলাকায় ৪ টি এবং মাগুরা জেলা পুলিশ লাইন্সে একটি সহ সর্বমোট ৫ টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছেন। যার প্রতিটি টিমের সদস্য সংখ্যা ১৫ জন করে।

এ টীমের সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম। করোনা আক্রান্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত ব্রিফিং, লকডাউন নিশ্চিতকরন, করোনা আক্রান্ত অথবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির দাফন কিংবা সৎকার সহ সকল ধরণের কাজ করে যাচ্ছে এ টিমের নিবেদিত সদস্যরা।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাগুরা জেলা শহর হতে চারটি থানার প্রবেশমুখ এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলোতে ৯ টি চেকপোস্ট সকাল ৮ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন তারা সহসাই লোক লজ্জার কারণে টিসিবি এর পণ্যের লাইন কিংবা ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে পারেন না। তাদের কথা চিন্তা করেই পুলিশ সুপার জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে মানবিক সহযোগিতার কথা বলে পোস্ট দিয়েছেন।

যাতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে, এখনো পাওয়া যাচ্ছে। গোপনে মাগুরা জেলার পুলিশ সদস্যরা দুঃস্থ, মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে আর্থিক ও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের বেতন-রেশনের টাকা থেকে। এর বাইরেও মানুষকে সচেতন করবার জন্য বিভিন্ন লিফলেট সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে, পেট্রোলিং করা হয়েছে।

সকল মসজিদ এবং শহরের দোকান গুলোতে “স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, করোনায় মৃত্যুঝুঁকি আছে” লেখা সংবলিত ব্যানার এবং সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। পূর্বের হাট-বাজারগুলো খোলা মাঠে, স্কুল কলেজের মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করবার জন্য তাদের অবস্থান গোল বৃত্ত এঁকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার, মাগুরা এবং নিরলস পরিশ্রমের বিনিময়ে জনতার চোখে মাগুরা জেলা পুলিশ মানবিক হয়ে উঠেছে, খেতাব পেয়েছে সম্মুখ যোদ্ধার। মাগুরা জেলার ¤্রীপুর উপজেলার মকরদমখোলা গ্রামের কমির উদ্দিন মোল্লার ছেলে আনিস মোল্লা করনায় অক্রান্ত হয়ে যখন দিশেহারা তখন পাশে সাহয্যসামগ্রী নিয়ে পুলিশের কুইক রেসপন্স টীমের সদস্যদের পেয়ে দিশা ফিরে পান বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

তিনি বলেন পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া তার মত গরীব মানুষের পক্ষে চকিৎিসা সামগ্রী যেমন কেনা কষ্টকর ছিল, তেমনি মনোবল হারিয়ে আতংকে মরার হাত থেকে পুলিশই বাঁচিয়েছে। একই ধরনের কথা বলেন করোনা আক্রান্ত মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ানাছ গ্রামের পারু মিয়ার স্ত্রী আফসানা বেগম। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে এলাকার লোকের মাধ্যমে অবগত হয়ে নিজেদের ওষুধ সামগ্রী কেনার আগেই পুলিশের কুইক রেসপন্স টীমের সদস্যরা তার বাড়িতে এসে যে সাহায্য এবং সাহস যুগিয়েছেণ তাতে তারা সবাই খুশী।

পুলিশ মানুষকে এভাবে সাহায্য করে তা এর আগে দেখা যায়নি। আফসানা বেগম মাগুরার পুলিশ সুপার এর এ পদক্ষেপকে মানবিক কার্যক্রমের অন্যতম সেবা বলে উল্লেখ করে সকল পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রান খুলে দোয়া করেছেন বলে জানান।

মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান,পিপিএম জানান, মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা মানুষের কাজ , আর এ কথাটি স্মরণ করে আতংকগ্রস্থ করোনা রোগীদের সেবার উদ্যোগ গ্রহন করা হযেছে। তিনি মাগুরার সকল পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন , তার উদ্যোগ বাস্তবায়নে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা যে ভুমিকা রেখেছেন, তাতে তিনি কৃতজ্ঞ। মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে তিনি খুশী বলে জানান।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone