সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

জামিনের পর কারামুক্ত হয়েছেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত

কক্সবাজার প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
  • ১৮৯ বার পঠিত

টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহতের পর পুলিশের দায়ের করা হত্যা ও মাদক মামলায় জামিনের পর কারামুক্ত হয়েছেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত। তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের সহযোগী ছিলেন।

আজ সোমবার সকাল ১১টায় রামুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ টেকনাফ থানায় দায়ের করা মাদক ও হত্যা—দুই মামলায় সিফাতের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর আজ দুপুর ২টায় সিফাত কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী আদালতের কাগজপত্র আসলে দুপুরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন সিফাত।

এদিকে আজ আদালতে সাহেদুল ইসলাম সিফাতের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা ও মাহবুবুল আলম টিপু।

এ বিষয়ে সাহেদুল ইসলাম সিফাতের আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় পুলিশ সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ দুটি মামলায় আজ আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

অপর আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা করে। এসব মামলা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের বোন একটি মামলা করেছিলেন। সেটিও র‍্যাব তদন্ত করছে। আমরা শুনানিতে বলেছি, পুলিশ ঘটনাকে আড়াল করতেই দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে। আদালত যুক্তিগুলো নিয়ে সিফাতের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল রোববার অপর সহযোগী শিপ্রা দেবনাথকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন আদালত। পরে তিনি বিকেলে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

গত ৩১ জুলাই রাতে সিনহা নিহতের ঘটনার পর পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কক্সবাজার কারাগারে ছিলেন বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ।

নিহত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে কক্সবাজারে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির কাজ করছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির তিন শিক্ষার্থী—শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নূর। পুলিশ সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক দ্রব্য ও হত্যা মামলা এবং কক্সবাজারের রামু থানায় শিপ্রার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা করে। এছাড়া তাহসিন রিফাত নূরকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনার বিচার চেয়ে গত বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

এর আগে গত ২ আগস্ট বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ সবাইকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ওসি প্রদীপকে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এরপর গত বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ সাত সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষ তাঁদের আটক ও পরে রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলালকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। আর বাকি চারজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451