বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

৪ মাস ধরে পড়ে আছে সৌদির হিমঘরে পীরগঞ্জের সাদ্দামের লাশ!

সরওয়ার জাহান, ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি পীরগঞ্জ (রংপুর) ঃ
  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

প্রায় ৪ মাস ধরে পীরগঞ্জের সাদ্দাম হোসেনের (২৫) লাশ সৌদি আরবের হিমঘরে পড়ে আছে। ঢাকার ‘মোহনা ওভারসীজ’র পীরগঞ্জের কথিত দালাল জাহাঙ্গীর আলম বুলু হাজী বলছে, সাদ্দাম করোনায় মারা গেছে। সাদ্দামের পরিবার দাবী করছে, সাদ্দামকে মেরে ফেলে লাশ সিঁড়িতে ঝুলে রাখা হয়। এ ব্যাপারে ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, পীরগঞ্জের চৈত্রকোল ইউনিয়নের হাজীপুরের মৃত. মমদেল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বুলু হাজী জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার মোহনা ওভারসীজের মাধ্যমে স্থানীয় অনেককেই সৌদিতে পাঠিয়েছেন। তিনিই ভেন্ডাবাড়ীর মৃত. সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে প্রায় ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ২০১৯ সালের ১৭ মে ৯০ দিনের ভিসায় সৌদির রিয়াদে পাঠায়।

৯০ দিন অতিবাহিত হলেও সাদ্দামকে বৈধ কাগজপত্র (আকামা) না দেয়ায় গত ২১ এপ্রিল কথিত দালাল বুলু হাজীর সাথে সাদ্দামের পরিবারের লোকজন কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকেই পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয় সাদ্দামের সাথে। গত ২৭ এপ্রিল বুলু হাজী এলাকায় প্রচার করে সাদ্দাম করোনায় মারা গেছে। এ কথা লোকমুখে শুনে সাদ্দামের বড় ভাই রব্বানী মিয়া ২৮ এপ্রিল ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, সাদ্দামের কর্মস্থলে কোন লোক মারা যায় নাই।

রব্বানী আরও জানায়, ‘হাবিব রহমান’ নামের এক ফেসবুক আইডিতে ২৯ এপ্রিল সিঁড়িতে ঝুলন্ত একটি লাশের ভিডিও ছাড়া হয়। ভিডিওতে লাশটি সাদ্দামের বলে চিনতে পেরে স্কীন শর্ট নিয়েছেন রব্বানী। তিনি বুলু হাজীকে বলেন, সাদ্দাম করোনায় মারা যায়নি। তাকে মেরে ফেলে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মৃত্যু নিয়ে জটিলতার কারণে গত এপ্রিল থেকে আজও সৌদির হিমঘরে লাশটি পড়ে আছে।

বুলু হাজী সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার বনানীর মোহনা ওভারসীজ, রিক্রুটিং লাইসেন্স নং- ২৬৯, বাড়ী নং- ১৮ (৪০২), রোড নং- ২৪ (লেকপাড়), ব্লক-‘ক’ এর মাধ্যমে আমি এলাকার অনেককে সৌদিতে পাঠিয়েছি। সাদ্দামকেও সেখানে পাঠাই। কিন্তু ওই ওভারসীজের সৌদির রিয়াদ প্রতিনিধি আলাউদ্দিন তাকে কাজ ও বৈধ কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দেয়নি। তিনি আরও বলেন, রিয়াদ থেকে আলাউদ্দিন আমাকে জানায়, সাদ্দাম করোনায় মারা গেছে।

এদিকে সাদ্দামের অপমৃত্যুতে তার বৃদ্ধা মা হাছনা বেগম (৫৮) সহ পরিবারের সদস্যদের মাঝে এখনো শোকের মাতম চলছে। ছেলের লাশের অপেক্ষায় কেঁদে কাটছে বৃদ্ধা মা’র দিনরাত। তিনি ছেলের লাশ দেশে ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি ও সংসদের স্পীকারের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভেন্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, সাদ্দামের লাশের ব্যাপারে ইউএনও স্যার আমাকে ফোন করে লাশ দাফনের অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু এখনো লাশ দাফন হয়নি। ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শাহিন মিয়া বলেন, অভিযোগের উল্লেখিত বিবাদী বুলু হাজী জানিয়েছে, সৌদিতে সাদ্দামকে আকামা (থাকার অনুমতি) দেয়া হয়নি। লাশের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone