মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

জোয়ারের পানিতে ভাসছে খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

আম্পানের আঘাতের ৯০ দিন পর আবার প্লাবিত খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবার আমাবস্যার প্রবল জোয়ারের পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কয়রায় ৫টি স্থান ভেঙে ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ১০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।

কপোতাক্ষ আর কয়রা নদীর পানি উপচে পড়েও প্লাবিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ২নং কয়রা, গোবরা, ৩নং কয়রা ও বেদকাশি গ্রাম। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো আটকানোর চেষ্টা করছে। এর আগে বুধবার কয়রা উপজেলার কাজী পাড়া, পুটিহারী, হরিণখোলা, কাশিরহাট খোলা, ঘাটাখালি প্লাবিত হয়েছিল।

এছাড়া পাইকগাছা উপজেলার শিবসা নদীর পানির চাপে হাড়িয়ার বাঁধ বুধবার ভেঙে মাজরাবাদ, বয়ারঝাপা ও টেংরামারী গ্রাম প্লাবিত হয়। স্থানীয় লোকজন বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি আটকানোর কাজ করে। কয়রার সামাজিক সংগঠন জাগ্রত যুব সংঘের সহ-সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জোয়ারের পানির চাপে কয়রার হরিণখোলা, গাটাখালী ও ২নং কয়রায় ৫টি স্থানের বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে আরও চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২৫০০ পরিবার সংকটে পড়েছেন।

সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ আটকানোর কাজ বিকাল ৪টা থেকে শুরু করেছে। হঠাৎ করে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে কয়রা ডুবেছে। কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানির চাপে ঘাটাখালী, ২ ও ৩নং কয়রায় বাঁধ ভেঙে গেছে। সাধারণ মানুষের চেষ্টায় বাঁধ আটকানোর কাজ চলছে। আর কিছু জায়গায় গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

উত্তর বেদকাশি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, অতিরিক্ত পানি বাড়ায় কয়রার উত্তরবেদকাশি আবারও লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কয়রার গাজী পাড়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আম্পানের পর কোনোমতে ঘরে ফিরে বসবাস করছিলাম। কিন্তু জোয়ারের পানিতে আমরা ফের প্লাবিত হয়েছি। এখন আমার ঘরে পানি।’ কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হঠাৎ করে বুধবার জোয়ারের অতিরিক্ত পানির তোড়ে বাঁধ উপচে বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢুকেছে।

এতে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও ৫টি জায়গা ভেঙেছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, জোয়ারের পানির চাপে বিভিন্ন স্থান ভেঙে ও সড়ক উপচে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। জোয়ার কমলে এসব স্থানে প্রয়োজনীয় মেরামত করা সম্ভব হবে। আর বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমের কাজে বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে পাইকগাছার সোলাদানার ভাঙ্গাহাড়িয়ার ভাঙ্ন স্থানীয় লোকদের নিয়ে বুধবার বিকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত মেরামত করেছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। এসময় পাইকগাছা উপজেলা ইউএনও এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সবাইকে বাঁধ মেরামত কাজে উৎসাহ দেন।

জোয়ারের পানির চাপে বুধবার পাইকগাছার বয়ারঝাপায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা হাড়িয়া ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩টি গ্রাম প্লাবিতহয়। এতে ২৫০টি চিংড়ি ঘের ভেসে যায়। মাজরাবাদ, বয়ারঝাপা ও টেংরামারী গ্রাম প্লাবিত হয়। এ ৩টি গ্রামে ১৫ হাজার মানুষ এখন দুর্ভোগে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী ফরিদউদ্দীন জানান, ইতোপূর্বে ৪ বার সরকারি ও স্থানীয়ভাবে বাঁধ মেরামত করা হলেও টেকসই মেরামতের অভাবে বারবার পাইকগাছার এ এলাকাটি ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। স্থায়ী বাঁধ মেরামতের জন্য ৩ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউপি মেম্বর কল্যাণী ম-ল বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে।

১৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা আপাতত আটকানে হয়েছে। এখানে দ্রুত টেকসই বাঁধ দেয়ার ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জোয়ার-ভাটার জীবনে আবার প্লাবন: আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি খান নাজমুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও সাতক্ষীরার উপকূলে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের অনেক মানুষ জোয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছিলেন।

বৃহস্পতিবার অমাবস্যার প্রবল জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার লেবুবুনিয়, আশাশুনির উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন, শ্রীউলা এবং আশাশুনির সদর ইউনিয়নের দয়ারঘাট ও জেলেখালী এলাকা। এসব এলাকার নদীগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। বিশেষ করে প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষ তাদের শেষ আশ্রয়টুকু হারাতে বসেছেন।

বৃহস্পতিবারের জোয়ারের পানির তোড়ে মৎস্য ঘের ভেসে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার সোনা খ্যাত চিংড়ি মাছের ক্ষতি হয়েছে। এখাকার মানুষের মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে উপকূলীয় বাঁধ। শ্রীউলা ইউনিয়নের পুঁইজালা গ্রামের মাছ চাষী তরুন কান্তি সরকার বলেন, ‘আম্পানের সময় ইউনিয়নের অনেক এলাকায় পানি উঠলেও আমাদের এলাকায় পানি আসেনি। কিন্তু এবার নদীতে প্রবল চাপে আমাদের এলাকা পানি প্রবেশ করে মৎস্য ঘের, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ষাটের দশকে উপকূলীয় এলাকায় যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল সেই বাঁধেই চলছে। ভরা কটাল ও মরা কটাল এর জোয়ারের পানির চাপ আসলে এগুলো কখনোই সইতে পারে না। কিছু দিন পর পর বাঁধ ভাঙে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রিং বাঁধ তৈরি করে, আর পানি উন্নয়ন বোর্ড টাকা তুলে খেয়ে ফেলে। টেকসই বাঁধ ছাড়া এর কোনও স্থায়ী সমাধান নেই। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা বাঁধ চাই।

গাবুরা ইউনিয়নের গাইনবাড়ি এলাকার মাহমুদুল হাসান বাদশা বলেন, ‘আম্পানে লেবুবুনিয়ার বাঁধটি ভেঙে এলাকার মধ্যে জোয়ার-ভাটার খেলা চলছিল। এলাকার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণের পর কিছুটা দিন শান্তিতে বসবাস করছিলাম। কিন্তু তার আর হলো কই। কতবার এই বাঁধ মেরামত করতে হবে বুঝতে পারছি না। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাঁধটি নরম হয়ে গিয়েছিল। নদীতে পানিও বেড়েছে এরইমধ্যে। পানির চাপে আবার বাঁধটি ভেঙে গ্রামের মধ্যে হু হু করে পানি ঢুকছে।

ঝড়ে বা জলোচ্ছাসে গ্রাম প্লাবিত হলে এমপি-মন্ত্রীরা পরিদর্শনে এসে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে চলে যান। পরে আর তাদের খোঁজ থাকে না। এখানে টেকসই বাঁধ না দিলে কোনও কাজে আসবে না।’ প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ‘আম্পানের পানি সরেনি এখনও। এর মধ্যে আবারোও নতুন করে বাঁধ ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে নতুন করে ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ কীভাবে পারবে? একটা ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার আঘাত।

এখন আর বসবাস করার উপযোগী থাকলো না আমার ইউনিয়ন। আর পারছি না।’ শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবু জর গিফারী বলেন, ‘এসব এলাকার নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট পানি বেড়ে বাঁধ ছাপিয়ে পানি উপচে পড়ছে। গাবুরা ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। আমি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। জিও ব্যাগ দিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আশা করছি খুব দ্রুত পানি আটকানো যাবে।’সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘গাবুরার লেববুনিয়া আমরা কাজ শুরু করেছি।

আশা করছি খুব দ্রুত পানি বন্ধ করতে পারবো।’সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘যে সব জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছিল তার মধ্যে দুই-তিনটি বন্ধ করেছি। ঠিকাদারসহ আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কিছু কিছু এলাকায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। এক জায়গায় দুই সংস্থার কাজ করা যায় না। সে কারণে আমরা কাজ করতে পারছি না। এরপরও মানবিক কারণে আমরা কাজ করছি। জি ব্যাগ, বস্তা ও বাঁশ দিয়ে সাহায্য করেছি।

সংকট দেখা দিয়েছে, সুপেয় পানি ও গবাদি পশুর খাবার: আমাদের পাইকগাছা প্রতিনিধি বাবুল আক্তার জানান, পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নে চকরি-বকরি বদ্ধ জলমহলে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় আম্পানের পর এ পর্যন্ত এই ইউনিয়নটি তিনবার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় জোয়ারের পানিতে এ বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। যাতে পারমধুখালী, চকরি-বকরি ও গেওয়াবুনিয়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাঁচা ঘর-বাড়ী, ফসলের ক্ষেত, ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ। জলমগ্ন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে শতাধিক পরিবার। সংকট দেখা দিয়েছে, সুপেয় পানি ও গবাদি পশুর খাবার। মোংলায় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল: মোংলা প্রতিনিধি আবু হোসাইন সুমন বলেন, কয়েকদিন ধরে চলা দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে হঠাৎ করেই মোংলা ও সুন্দরবন উপকূলীয় নদ-নদী ও খালে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোংলা নদীর ফেরিঘাটসহ আশপাশের নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি বাড়ায় ফেরিঘাটের পন্টুন ও রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি ভিড়তে এবং যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। জোয়ারের সময় ঝুঁকি নিয়ে চলছে ফেরি ও যানবাহন।

এদিকে হঠাৎ করে বন্দরের পশুর চ্যানেল, মোংলা নদীসহ সুন্দরবনের অভ্যন্তরের নদী-খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে বন্যা আতংক দেখা দিয়েছে। এছাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় হঠাৎ করে কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। একই অবস্থা বনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও বনের অভ্যন্তরের নদী-খালের। নদী-খালের পানি বাড়ায় চরম আতংক ও ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন এখানকার প্রায় ১০ হাজারের বেশি চিংড়ি চাষী।

ভাসছে প্রত্যন্ত এলাকা, জনজীবন বিপর্যস্ত: বাগেরহাট প্রতিনিধি মাসুম হাওলাদার অমাবশ্যার জোয়ারের সাথে টানা ৪দিনের বৃষ্টির কারনে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌরসভা সহ উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো পরিবার । আর এর কারনে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। বৃষ্টি আর পানির চাপ আরো দীর্ঘ হলে রোপা আমন বীজতলা ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্নিমা কিংবা অমাবশ্যা সহ স্বাভাবিক জোয়ারের দিনে দু’বার ভাসে মোরেলগঞ্জ পৌর সদর।

প্লাবিত হয় রাস্তা-ঘাট আর বাজারের অলিগলি। ব্যবসায়ীরা দোকানে হা-পা গুটিয়ে পানি নেমে যাবার অপেক্ষায় ঘন্টার পর ঘন্টা গুণতে হয় প্রহর। ক্রেতা-বিক্রেতারা কেউবা হাঁটু পানি ভেঙ্গে,কেউবা ভ্যান মটর সাইকেলে ছুটছে। পৌর সদরের বারইখালী পুরাতন থানা ও ফেরিঘাট এলাকায় পানগুছি নদী স্রোতে আছড়ে পড়ছে রাস্তায় উপরে। হুহু করে ঢুকে পড়ছে পানি লোকালয়। কালাচাঁদ মাজার এলাকার সুইজ গেট দীর্ঘদিন অকেজো। পৌর বাজারের ড্রেনের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে স্বাভাবিক জোয়োরেও রাস্ত-ঘাট পাবিত হয়।

ডুবে গেছে উপজেলা প্রশাসন চত্বর, খাদ্য গুদাম এলাকা। পৌর মেয়র এ্যাড.মনিরুল হক তালুকদার জানান, জোয়ারের পানিতে পৌর সভার ২০ কিমি. রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখন জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন শহর রক্ষা বাঁধ। বারইখালী ইউনিয়নের পানগুছি নদীর তীরবর্তী ফেরিঘাট থেকে কাশ্মীর হয়ে বহরবুনিয়া হয়ে ফুলহাতা পর্যন্ত প্রায় ৬/৭ কিমি. রাস্তার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে বলে ইউনিয়ন চেযারম্যান শফিকুর রহমান লাল ও টিএম রিপন জানান। জোয়ারের পানিতে রোপনা আমন ক্ষেত ডুবে গেছে।

তেলিগাতি ইউপি চেয়ারম্যান মোর্শেদা আক্তার বলেন, হেড়মা হরগাতি সুইজগেট সংলগ্ন ১কিলোমিটার ইটসোলিং রাস্তাটি প্লাবিত হয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। পঞ্চকরণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারনে দেবরাজ ৬ কিলোমিটার ভেরিবাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পঞ্চকরণ বাজার থেকে ৪কিলোমিটার ভেরিবাঁধ আংশিক ভেঙ্গে পড়েছে।

হোগলাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো.আকরামুজ্জামান জানান, নদীর তীরবর্তী বদনিভাঙ্গা থেকে পাঠামারা পর্যন্ত ৪কিলোমিটার রাস্তাটি নর্দীগভে বিলীন হয়েছে। পৌর শহরের সানকিভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকার বিভিন্নস্থানে ভেঙ্গে গেছে। সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী জানান, নদীর তীরবর্তী গাবতলা কাঠালতলা ২ গ্রামের ৪০/৫০টি পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাট নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। প্রয়োজন ৩ কিমি. বেড়িবাঁধ। উপজেলা কৃষি অফিসার রেহেনা পারভীন জানান, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারের পানি আরো দীর্ঘ হলে ৬শ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ও ২শ’ হেক্টর সবজি ক্ষেতের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে ফসল।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone