বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

তানোরে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ২৬ ঘণ্টা পর বিয়ে

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

রাজশাহীর তানোরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ২৬ ঘণ্টা পর গ্রাম্য সালিশে বিয়ে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার দিবাগত রাত ২ টার দিকে উপজেলার কামারগাঁ দমদমাগ্রামে বিয়ের ঘটনাটি ঘটে ।এদিকে গত শনিবার দিবাগত রাত্রি ১টার দিকে কামারগাঁ বাজার এলাকার নুরুলের পুত্র তারেক দমদমাগ্রামে ওই ছাত্রীর ঘরে প্রবেশ করে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণের পর ঘরের জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যাবার সময় গ্রামবাসীর হাতে আটক হন ধর্ষক এসএসসি পরীক্ষার্থী।

তিনি অবশ্য গতবারে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেন। তিনি কামারগাঁ বাজারের নরুল ইসলামের প্রথম পুত্র। রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে আপোষ মিমাংসার জন্য নানা ধরনের তদারকি। কিন্তু ছেলের পিতা রাজি না থাকায় হয়নি রফাদফা। এক প্রকার বাধ্য হয়ে মেয়ের পরিবারের লোকজন রোববার দুপুরের দিকে থানায় আসেন।কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ গ্রামে বসে মিমাংসা করার পরামর্শ দেন। এদিকে মেয়ের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে ছেলেকে। ঘটনাটি ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, চলতি বছরের প্রায় দেড়মাস ধরে জৈনক ব্যাক্তির অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ের সাথে কামারগাঁ বাজারের নুরুল ইসলামের বখাটে পুত্র তারেকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এঅবস্থায় গত শনিবার রাত প্রায় একটার দিকে ছেলে প্রেমিকার দরজায় নক করেন। এসময় প্রেমিকা দরজা খুলে প্রেমিক কে দেখে হতবাগ হয়ে পড়ে।

এক প্রকার বাধ্য হয়ে প্রেমিকা তাঁর নিজ ঘরে নেয়। সুযোগ বুঝে বখাটে ওই ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে জানালা ভেঙ্গে পালাতে চাইলে মেয়ের চাচা চাচাতো ভায়েরা জমির ভিতর থেকে আটক করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়।এর পর থেকে দিনব্যাপী চলে রফাদফার কাজ। অবশেষে রাত্রি ২টার দিকে ইউপি সদস্য চকিদার ক্ষমতাসীন দলের নেতারাসহ গ্রামের লোকজন ৯০ হাজার টাকা দেনমোহর ধারয্য করে বাল্য বিয়ে দেন।

প্রেমিক তারেক সব স্বীকার করে বলে আমি বিয়ে করতে চাই। কিন্তু আমার পিতা কোনভাবেই রাজি হচ্ছেনা। প্রেমিকা জানায় রাতে তাকে দেখে আমি চলে যেতে বলি, সে বলে জরুরী কথা বলে চলে যাব। কোন না শুনে আমাকে নিয়ে আমার ঘরে এসে বিয়ে করব বলে আমাকে ধর্ষণ করেছে। এরপর ঘরের জানালা ভেঙ্গে পালানোর সময় আমার চিৎকারে চাচা ও ভায়েরা তাকে ধরে নিয়ে আসে।আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোন রাস্তা নেই।

স্থানীয়রা জানায় মেয়ের পিতা মাতা ঢাকায় গার্মেন্টসে থাকেন। মেয়ে দাদি ও চাচার কাছে থাকেন। তারেক চরম বখাটে, না হলে রাত একটার সময় বাড়িতে আসতে পারে । তাঁর সাহস দেখে আমরাও হতবাক হয়ে পড়েছি।

তারেকের পিতাকে সবাই বলছে মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। কিন্তু সে দাম্ভিকতার সাথে বলছে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হবে মেয়ের পরিবারকে । কিন্তু এলাকাবাসী সেটা না মেনে অবশেষে বিয়ে দেন।

ছেলের পিতা প্রসিদ্ধ দাদন ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান এসব নিয়ে লিখা লেখির দরকার নাই, টাকা দিয়ে সব ঠিক করে নিব বলে দম্ভক্তি প্রকাশ করেন।

বিয়ের সময় সেখানে ছিলেন ওই ওয়ার্ডের মেম্বার সয়ন, সাবেক মেম্বার রফিকুল, আ”লীগ নেতা শিমুলসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা।

ইউপি সদস্য সয়ন জানান যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে সে দিক ভেবে বিয়ে দেয়া হয়েছে। কে বিয়ে পড়িয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান মাদারীপুরগ্রামের আসরাফুল। তিনি ছেলে মেয়ের স্বাক্ষর নেই একটি কাগজে। তাঁর সাথে একজন মুয়াজ্জেম ছিল তিনি কালেমা পড়ান ।

অথচ কামারগাঁ ইউনিয়নের কাজির দায়িত্বে থাকা পাচন্দর ইউপির কাজি মিজান প্রথমে জানান এরকম বিয়ের ঘটনা আমার জানা নেই। পরে জানান আমি আসরাফুলের কাছে জানলাম রেজিস্ট্রি হয়নি কালেমা পড়ে বিয়ে দেয়া হয়েছে।

থানার ওসি রাকিবুল হাসান রকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এসম্পর্কে আমি অবহিত না আর কেউ অভিযোগও করেননি।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোর সরকারী ০১৭৭৮-৮৮৯৯৯০ এই মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone