শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

থেমে নেই রেলের জমি দখল বাণিজ্য, উন্নয়ন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

করোনা কালেও থেমে নেই নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলের জমি দখল ও ভবন নির্মাণ কাজ। শহরের সাহেবপাড়ার রেল বিভাগের টি-১৪ নং ভবন সংলগ্ন সুলতানা আকবর নামের এক রেল হাসপাতালের রেডিও গ্রাফার পদে কর্মরত এক নারী প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের পতিত জমি দখল করে সেখানে বিশাল মাপের ডেইরী ফার্ম নির্মাণসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমি ও জলাশয় দখল বিক্রয় চললেও আইনি কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছেন না সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ সহকারি প্রকৌশলি তৌহিদুল ইসলাম সৈয়দপুর রেলওয়েতে কর্মরত থাকা কালীন সময়ে কোনো দখলবাজই রেলের জমি দখল বা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন নি। রেলের এই সহকারি প্রকৌশলি কে সুকৌশলে অন্যত্রে বদলি করিয়ে দখলবাজদের জমি দখলে মদদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন সৈয়দপুর শহরের প্রায় তিন ভাগ জমি হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের। ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা গড়ে উঠার কারণেই রেলের শহরে পরিণত হয় নীলফামারী সৈয়দপুর। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই শহরে রেলওয়ের প্রায় ৫৫০ একর সম্পত্তি দখলে নেয় দখলবাজরা। প্রায় ২ হাজার কোয়ার্টার বেদখল হয়ে যায়। ২০১৮ সালে সহকারি প্রকৌশলি তৌহিদুল ইসলাম যোগদানের পর দখলবাজরা রেলের কোনো জমিই দখল করতে পারে নি। প্রায় ২ বছর রেলের জমি দখল বিক্রয় বা স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারায় তাকে অন্যত্র বদলি করার পর রেলওয়ে জমি দখলের ধুম পড়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওই হাসপাতালে রেডিও গ্রাফার পদে কর্মরত সুলতানা আকবর জানান সৈয়দপুর রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ওই ডেইরি ফার্মটি নির্মাণ করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ চাইলে যে কোনো সময় তিনি সেটি ভেঙ্গে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।

এছাড়া ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দে শহরের সাহেবপাড়ায় টি-১৪ নং ও বাঙ্গালিপুর নিজপাড়ার ১ নং ভবনটির সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ না করেই ৬০% বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক সূত্র জানায় ভবন দুটির ছাদ সঠিকভাবে চিপ ঢালাই দেওয়া হলেও ভবনসহ জানালা ও দরজার রং সঠিকভাবে করা হয়নি।

গাঢ়ভাবে রং করার কথা থাকলেও সেগুলি করা হয়েছে একেবারে হালকাভাবে। ১নং ভবনটির ৭০ ফিটের দুটি বারান্দায় টাইলস করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এছাড়া জানালা দরজাতেও উন্নত কাঠ ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তার সু-সম্পর্ক থাকায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক কাজ করা হয় নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সৈয়দপুর রেলওয়ের উন্নয়নে যা যা বরাদ্দ হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলি যেসব কাজ করেছেন তার সঠিক তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলি আহসান উদ্দিন জানান বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে সঠিক কাজ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল দেওয়া হয়নি।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone