শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

সাতক্ষীরায় তিন সহদর প্রতারকের ফাঁদে পড়ে শতশত মানুষ সর্বশান্ত

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
  • ১১২ বার পঠিত

সাতক্ষীরার কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার প্রতারক ভূয়া ডাক্তার ওমর ফারুক, জাহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম তিন সহদর প্রতারক দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

একই জমি পিতা ও পুত্রের নামে দেখিয়ে প্রতারণা করে কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে এই জালিয়াত পরিবার। তিন সহদরের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে সাতক্ষীরার শতশত মানুষ সর্বশান্ত হয়েছে। ভিক্ষুক থেকে শুরু করে চায়ের দোকানদার , ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের প্রতারণার স্বীকার হয়েছে।

ভূক্তভোগীরা জানায়, ফাস্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে ডিপোজিট ও ডিপিএস’র নামে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। প্রায় ২০০ গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ২০১৪ সালে হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি লাপাত্তা হয়ে যায়।

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ডা. ওমর ফারুক বিক্ষুব্ধ গ্রাহকের নজরে আসলে গ্রাহকরা তাকে গণধোলাই দিতে গেলে সে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সেবারের মত রক্ষা পায়। কিন্তু গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা উল্টো গ্রাহকদের নামে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১০৭/১১৭ (গ) ধারায় মামলা করে।

যার নং-৮২৫/১৬ (৭)। এ মামলায় প্রতারক ম্যানেজার ডা. ওমর ফারুক ১৯/০১/২০২০ তারিখে আদালত হাজির হলে উল্টো তার বিরুদ্ধে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও গ্রাহকদের সমুদয় টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এসময় প্রতারক ম্যানেজার আদালতের কাঠগড়া থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর উক্ত আদালত তার বিরুদ্ধে সি.আর -৬৪০/১৬ (৭) ও ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৫ ধারায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে। আজ অবধী সে পলাতক আছে।

বর্তমানে সে যশোর জেলায় তার শ্বশুর বাড়িতে আত্মগোপন করে আছে। ফাস্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ম্যানেজার ডা. ওমর ফারুকের ভাই ও ফাস্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নির্বাচন কমিটির সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বাবলু কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার হারান উল্লাহ মোড়লের ছেলে আফসার আলী মোড়লের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তার পৈত্রিক ভিটা বাড়ির দলিল সোনালী ব্যাংকে বন্ধক রেখে ৪ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করে।

ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় অত্র ঋণের জামিনদার আফসার আলী মোড়ল ঐ প্রতারকের খ¹রে পড়ে সে ঋণ খেলাপী হয়ে যায়। ঋণের টাকা না দেওয়ায় ভিটা বাড়ি নিলামে গেলে সে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও মুনজিত এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মুহিবুল¬াহর নিকট থেকে ১৪ লক্ষ নিয়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় সেই মানুষটি প্রায় পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

সাতক্ষীরার কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার মো. সামছুর রহমানের ছেলে প্রতারক তিন সহদর ভূয়া ডাক্তার. ওমর ফারুক, জাহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে ভিআইপি ক্লথ ষ্টোর, ঝিলিক এন্টারপ্রাইজ, য়শোর লিবাটি নামক প্রতিষ্ঠানের নাম করে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিওসহ শত শত লোকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া জাহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে পরিশোধ করতে না পারায় ফৌজদারী কার্যবিধির সি,আর-১২৯৫/০৭ (সাত) আদালতে ৬ মাসের স¤্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

আর এক সহদর প্রতারক শহিদুল ইসলাম উত্তর কাটিয়া এলাকার রহিমা বেগমের নিকট থেকে ৬ লক্ষ টাকা নিয়ে ৮/১০ বছর টাকা না দিলে আদালতে সিআর ৪৭৮/১৬ নং মামলা হলে শহিদুলের বিরুদ্ধে আদালত ১২ লক্ষ টাকার ডিগ্রি ও ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। বর্তমানে সে জেল হাজতে আছে। ভূক্তভোগীরা জানান, এই তিন সহদর প্রতারক থেকে আর যেন কোন মানুষ সর্বশান্ত না হয় সেজন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451