শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

বেনাপোল স্থলবন্দরে দশ মাসেও নিয়োগ হয়নি পরিচালক, অব্যবস্থাপনায় চলছে

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ১০৮ বার পঠিত

ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ টানা ১০ মাস হতে চললেও দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পরিচালক পদে কাউকে নিয়োগ না দেয়ায় চরম অব্যবস্থাপনায় চলছে বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম। একজন উপ-পরিচালক বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হলে চেয়ে থাকতে হয় ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের দিকে। ওখান থেকে দিক নির্দেশনার পরে কাজ হয় এ বন্দরে।

বেনাপোল বন্দরকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার পর ১৯ বছরে ১৩ জন পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। আর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেছেন ২ জন উপ-পরিচালক ৪ বার। উপ-সচিব মর্যাদায় এখানে নিয়োগ পাওয়ার পর ২-৪ মাস কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে বদলির তোড়জোড় করতে থাকেন কর্মকর্তারা। এর ফলে কেউ আসতে চান না এ বন্দরে। আবার কেউ আসলেও ৪ মাস, ৬ মাস বা এক-দেড় বছর থাকার পর তদবির করে চলে যান অন্যত্র।

জানা যায়, কলকাতা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশে স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায়ও প্রথম সারিতে বেনাপোল বন্দর। দেশের সিংহভাগ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে। রাজস্ব আয়ের দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পরই বেনাপোল বন্দরের অবস্থান।

প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়ে থাকে যা থেকে সরকারের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতি বছর প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য ভারতে রফতানি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রপ্তানি হয়েছিল চার লাখ এক হাজার ১৭৭ মেট্রিক টন পণ্য। করোনার মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে তিন লাখ ৩৮ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন পণ্য।

বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে অবলুপ্ত ওয়ার হাউজিং কর্পোরেশন (বিডবি¬উসি) বেনাপোল বন্দরের দায়িত্ব নেয়। ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেনাপোল বন্দরকে শুল্ক আইন-১৯৬৯ তে শুল্ক স্টেশন ঘোষণা করে। প্রজ্ঞাপন নং-৪৯৩/ডি/কাস/৭৯। ১৯৭৯ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ পাট মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নেয় এ বন্দরের। ১৯৮৪ সালের নভেম্বর মাসে ১০.২৩ একর জমির উপর অবস্থিত ১১টি গুদাম ও ২টি উন্মুক্ত শেড গ্রহণ করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে।

সর্বশেষ ২০০২ সালের ১ ফেব্র“য়ারি থেকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। মোংলা বন্দরের দায়িত্বে থাকা মাহাবুব উল¬াহকে বন্দর পরিচালক পদে সংযুক্ত করা হয় ২০০১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে পরিচালক পদে পর্যায়ক্রমে এখানে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ নৌপরিবহনের সাইফুল হক খান, উপ-সচিব শ্যাম কিশোর রায়, উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম, উপ-সচিব এম গোলাম মোস্তফা, উপ-সচিব এম এম তারিকুল ইসলাম, উপ-সচিব এম গোলাম মোস্তফা, উপ-সচিব আবুল কালাম আজাদ, উপ-সচিব আব্দুল আউয়াল হাওলাদার, উপ-সচিব তোফাজ্জেল হোসেন, উপ-সচিব ড. মলি¬ক আনোয়ার হোসেন, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল, উ সচিব নিতাই চন্দ্র সেন, উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম, উপ-সচিব আব্দুর রউফ, উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও উপ-সচিব প্রদোষ কান্তি দাস।

প্রদোষ কান্তি দাস ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে চলে যান বদলি হয়ে। এরপর থেকে এখনও কোনো পরিচালক নিয়োগ দেয়নি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল সিএ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, প্রতিবছর এই বন্দর থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখানে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোর চিত্র বেহাল। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এ পথে বাণিজ্যের গুরুত্ব বাড়ায় ইতোমধ্যে বেনাপোল বন্দরের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে অত্যাধুনিক স্থাপনা তৈরি হয়েছে। সেখানে পুরো বন্দর এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাধীন, রয়েছে উন্নত মানের সড়ক ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসি ওয়ার হাউজ, চোরাচালান প্রতিরোধে স্ক্যানিং ব্যবস্থাসহ আরও অনেক আধুনিক ব্যবস্থা। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে ওই একই সুবিধা থাকার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত একটিও গড়ে ওঠেনি। এখানে যেসব কর্মকর্তারা আসেন তারা আঞ্চলিকতার টানে এখানে আসতে চান না।

বেনাপাল বন্দরের রাজস্ব আয়ে অন্য বন্দর উন্নয়ন হলেও এখানে উন্নয়ন করা যতটুক প্রয়োজন তাও করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এখানে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাদের হাতে দাফতরিক ক্ষমতাও কম। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছাড়া তারা কিছুই করতে পারেন না।

এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, একজন উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এখানে নিয়োগ দিলে তারা এখানে এসে কয়েকদিন পর বদলি হয়ে চলে যান। আবার অনেকে এখানে আসতেও চান না। বর্তমান বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাজ করছেন। আপাতত এখানে কোনো সমস্যা নেই। কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরাই সেটার দ্রুত সমাধান করে দিচ্ছি।

 

Surfe.be - Banner advertising service




নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

<a href=”https://surfe.be/ext/446180″ target=”_blank”><img src=”https://static.surfe.be/images/banners/en/240x400_1.gif” alt=”Surfe.be – Banner advertising service”></a>

via Imgflip

Surfe.be - Banner advertising service

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451