শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

তানোরে রোপা আমন ধানে পাতা পোড়া পচন ও পোকার আক্রমণ

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ১৭৫ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে রোপা আমন ধানে দেখা দিয়েছে পাতা ঝলসসানো বা পাতা পোড়া ও সাদা জাতের বালকাটি পোকার আক্রমণসহ পচন রোগ। এতে করে কৃষকরাও এই অল্প সময়ের মধ্যে তিন ধরনের রোগের কারনে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ফলে সকাল হতে রোগ দূর করতে দিন ব্যাপী কীটনাশক স্প্রে করতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। অপর দিকে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারনে নানা রকমের বৈধ অবৈধ কীটনাশক স্প্রে করার কারনে জমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে ধান উৎপাদন সব চাইতে বেশি হয় এউপজেলায়। জেলার মধ্যে ভুললে হয়তো কম হবে উত্তর বঙ্গের মধ্যে রোপা আমন ধানের চাষ হয় ব্যাপক হারে। উপজেলাবাসিরও আয়ের উৎস একমাত্র ধান উৎপাদন করা। চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টির পানি পেয়ে রোপা আমন রোপণ করেন সময়মতই। ধানের বয়সও হয়নি তেমন। কেবল তোড় অবস্থায় এসেছে। এসময় সবুজ পাতা গজানো ধানের জমিতে বাইলকাটি পোকা ও পাতা ঝলসানো ও পচন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

কৃষকরা জানান, ধানের পাতা কেবল সবুজ রং আকার ধারন করেছে। আর পোকা পাতা পোড়া ও পচন রোগের আক্রমণও শুরু হয়েছে। এঅবস্থায় রোগ দূর করতে না পারলে শীষ বের হবে। কিন্তু ধানের পরিবর্তে চিটে হয়ে যাবে। যার কারনে ফলনের বিপর্যয়ও ঘটবে। রোগ দূর করতে আমাদের ভরসা কীটনাশকের দোকানিরা।

তাঁরা যে ভাবে পরামর্ষ দেন সেই ভাবেই কীটনাশক কিনে স্প্রে করে থাকি। রোগ বালাই দূর করার জন্য যদি কৃষি দপ্তর থেকে সঠিক পরামর্ষ পেতাম তাহলে খরচও কমে যেত এবং জমির উর্বরতাও ঠিক থাকত। কিন্তু তাঁরা পরামর্ষের বিপরীতে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক কীটনাশকের দোকানের লাইসেন্স দিয়েছেন। গ্রাম পাড়া মহল্লায় দোকানের অভাব নেই।

কোনটি কাজের কোনটি অকাজের সেটাও বোঝা কষ্টকর। অথচ কৃষি বিভাগের নিয়ম প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একটি করে বিসিআই সারের ডিলার থাকতে হবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকবে সাব ডিলার। কিন্তু তাদের করা নিয়ম তারাই মানতে নারাজ। কৃষি দপ্তরের ব¬ক মাঠ কর্মীরা থাকবেন আমাদের সাথে জমিতে। সার্বক্ষণিক দিবেন পরামর্ষ। কিন্তু এসবের কোন বালাই নেই। এসি রুমে বসে হিসেব নিকেস ও সরকারের দেয়া গাড়ি নিয়ে শহর থেকে অফিস করা আর ফিরে যাওয়া। এটাই এখন নিয়ম তাদের জন্য।

কীটনাশক স্প্রে করা অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কথা হয় উপজেলার কামারগাঁ ইউপি এলাকার দুর্গাপুর গ্রামের আবু বাক্কারের সাথে, তিনি দুর্গাপুর ৫ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন। তিনি জানান আমাদের এলাকার প্রায় জমিতে পচন বাইলকাটি ও অনেকের জমিতে পাতা পোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। রোগ মুক্ত করতে এপর্যন্ত তিনবার কীটনাশক দিয়েছি। কিন্তু কোন ভাবেই রোগ দূর হচ্ছেনা।

কীটনাশক দোকানিরা যে ভাবে পরামর্ষ দিচ্ছেন সে ভাবেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কেউ পরামর্ষ দিতে আসেনি জানতে চাইলে তিনি জানান এখন না কোনদিনই কারো দেখা পায়নি। তাঁরা যদি রোগ দূর করার জন্য সঠিক ভাবে বলে দিতেন তাহলে এতবার স্প্রে করা লাগতনা। পাঁচ বিঘা জমিতে একবার কীটনাশক দিতে নিম্মে দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

তিনি আরো জানান একই মাঠে সুফি কামালের ৬ বিঘা, ওয়াসিমের সাড়ে চার বিঘা, খয়েজের ৭ বিঘা, জীবনের ৪ বিঘা এবং মাদারিপুরগ্রামের মুকুল ডাক্তারের ৪ বিঘা, লাপিতের ৪ বিঘাসহ প্রায় জমির একই অবস্থা।

মালার মোড়ে হোটেলের মালিক আব্দুল্লাহ জানান একই রোগে আক্রান্ত জমির ধান, আমার নিজের ৫ বিঘা, সেকান্দারের ৪ বিঘা ও মোহাম্মাদ আলী পুর মাঠে আবু সুফিয়ানের ৩ বিঘাসহ সবার একই অবস্থা। কেউ দুইবার আবার কেউ তিনবার করে কীটনাশক দিয়েও রোগ দূর হচ্ছেনা।

পৌর এলাকার সিন্দুকাই ধানতৈড় মাঠের জমিতেও একই ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। ধানতৈড়গ্রামের আনারুল জানান জসিমের ২০ বিঘা, শফিকের ৬বিঘা, আশরাফুলের ৩বিঘা, মিলনের ২৫ বিঘা এবং মাহাবুরের ১০ বিঘাসহ পুরো মাঠের একই অবস্থা। গুবিরপাড়াগ্রামের মতিউর জানান আমার ৩ বিঘা, জিল্লুরের ৪ বিঘা, ওমরের ৬ বিঘা এবং মুকবুলের ৬ বিঘা সহ প্রায় মাঠে রোগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা জানায় টানা বৃষ্টি আবার কখনো ভ্যাপসা গরমসহ বৈরী আবহাওয়ার কারনে রোগ দূর হচ্ছেনা।

কৃষি কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর বিজি পাওয়ার কারনে আলী রেজা নামক কৃষি অফিসের কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাব জানিয়ে দেন আমাদের কাছে প্রজ্ঞাপন এসেছে মিডিয়ার সাথে কথা বলতে হলে কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে বলতে হবে। এজন্য আমি কোন কথায় বলতে পারবনা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ধানের বয়স অল্প এধরনের রোগ না হওয়ার কথা। আর হলেও আমার জানা নেই। এবারে উপজেলা রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২২ হাজার ৪০০ মত হেক্টর জমিতে রোপণ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে এক কৃষিবিদকে রোগ সম্পর্কে কৃষি অফিসারের কথা জানালে তিনি বলেন তারাতো মাঠে ঘুরেনা। উপজেলার প্রতিটি মাঠের জমিতে প্রচুর হারে দেখা দিয়েছে পোকা। কৃষকরা রোগ দূর করতে কীটনাশক প্রয়োগে মরিয়া হয়ে পড়েছে। আর কর্মকর্তা কি ভাবে বলেন এসময় রোগ বালা হয়না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451