বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

খুলনার দৌলতপুর সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবার মান বাড়ছে

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মানুষের জীবনের মৌলিক মানবিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা সেবা অন্যতম। সমাজের দরিদ্র শ্রেনী সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা উন্নতিকরণে ১৮৬৩ সালে দৌলতপুর বাজারে মুহসিন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থান। যেটি নিয়ন্ত্রণাধীন দিঘলিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের। দৌলতপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা হতে প্রতিদিনই স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্য শতাধিক রোগী ভীড় জমায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। চরম অবহেলায় চলছিল হাসপাতালটি যেখানে সময় বা নিয়মের বালাই ছিল না।

হাসপাতালের সামনে ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। যা ডেঙ্গুর বংশ বিস্তার মাধ্যম। হাসপাতালের মেডিকেল, সাব-এ্যাসিস্টেন্ড কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সকাল সাড়ে ৮টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত অফিস করার কথা থাকলেও ১০টা হতে ১টা পর্যন্ত-এমই মন্তব্য করেছিলেন হাসপাতালের সামনের ব্যবসায়ীবৃন্দসহ ভূক্তভোগীরা। এ বিষয়টি দিঘলিয়া উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলমকে জানালে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

হাসপাতালের এমন করুনদশার তদারকির পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন দৈনিক প্রবাহে ‘দৌলতপুর সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র বেহাল, চিকিৎসক আসেন দেরিতে যান আগে, এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে হাসপাতালের অভাবনীয় পরিবর্তনসহ টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। ব্যবসায়ী আল হেরা বলেন, কিছু দিন আগে দেখে ছিলাম হাসপাতালের দুর্দশার কথা তুলে প্রবাহে একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে। আমি কাগজটি নিয়ে হাসপাতালের স্টাফদের দেখাই।

প্রকাশিত এ খবরের পর থেকে সবাই যথা সময়ে অফিস করেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সকলকেই প্রায় দুপুরের খাবার সঙ্গে করে আনতে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের মধ্যকার আবর্জনা যথারীতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ইসমত জাহান খুলনা সিভিল সার্জনের নির্দেশে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে করোনা চিকিৎসা সেবার জন্য ১০ জুলাই হতে ১৭ আগষ্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বপালন করতে পারেননি। তিনি ১৮ আগষ্ট হতে নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন।

সাব-এ্যাসিস্টেন্ড কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার প্রীতি লেখা মৃধা, নিলুফা ইয়াসমিন ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট নাসরিনা যথা সময়ে অফিসে প্রবেশ করলেও মেডিকেল অফিসার আসছেন একটু দেরিতে। দেয়ানা মুকুল ভান্ডার হতে মেয়ে আয়শা (১৬) কে নিয়ে আসেন জ্বর আর চর্ম রোগ দেখাতে। তিনি বলেন, আগের আসলে ভালো সেবা পেতাম না তবে বর্তমানে ভালো ভাবে ডাক্তারা রুগী দেখছেন। মুচিপাড়া হতে হাটু ব্যাথা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসেন পেয়ারা বেগম। তিনি বলেন, শুনেছি এখানে ভালো চিকিৎসা হয়। তাই আসলাম।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে খাবার স্যালাইনসহ সকল প্রকার ঔষুধ সরবরাহ রয়েছে। কেবলমাত্র আয়রন ট্যাবলেট নেই। ফার্মাসিস্ট জানান, আয়রন ট্যাবলেটের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। দ্রুত চলে আসবে। তবে নাবিলা ভান্ডারের শ্রমিক নজরুল,মনিরুল বলেন, ১০ থেকে ১১টার পর ঔষুধ আনতে গেলে আর পাওয়া যায় না। কেবলমাত্র ¯ি¬প করে দেয়, যা বাইরে হতে কিনতে হয়। এ বিষয়ে মেডিকেল অফিসার অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, সরবরাহকৃত ঔষুধ শেষের পর যদি কেউ দেরিতে আসেন তবে ঔষুধ পাবে না এটাই স্বাভাবিক।

দিঘলিয়া উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের জন্য যা করা দরকার তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। রোগীরা যে ঔষুধ পাচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় কম। তিনি বলেন, রোগীর চাহিদা অনুসারে ঔষুধ দেয়া যায় কিনা তা নিয়ে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone