সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

তালাক প্রাপ্ত স্বামী বশিরের অত্যাচারে কলেজ শিক্ষার্থীর পরিবার শঙ্কিত

বাগেরহাট প্রতিনিধি :
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পড়ালেখার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকে চাকুরী নেয় হুমায়রা আক্তার নুপুর। চাকুরীর সুবাদে নিজ এলাকা বাগেরহাট ছেড়ে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালন করতেন হুমায়রা। সেখানে চাকুরীরত অবস্থায় ঋণ গ্রহিতা নলছিটি উপজেলার জুরকাঠি গ্রামের লুৎফুন্নেচ্ছা বেগমের ছেলে বশির মৃধার লোলুপ দৃষ্টি পরে হুমায়রার উপর।বিষয়টি বুঝতে পেরে অফিসের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নলসিটি উপজেলার বোয়ালিয়া শাখা থেকে বদলি হয়ে বাগেরহাটে চলে আসেন হুমায়রা। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি হুমায়রার।

ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে গেলে হুমায়রাকে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করেন এবং আটকে রাখেন বশির মৃধা। জোর পূর্বক বিয়ে করায় হুমায়রা ও তার পরিবার মেনে নিতে পারেন নি বশির মৃধাকে। পরবর্তীতে জুরকাঠি থেকে পালিয়ে বাগেরহাট এসে বশিরকে তালাক দেয় হুমায়রা। এরপর থেকেই বশির বেপরোয়া হয়ে ওঠে। হুমায়রা ও তার পরিবারকে নানা ভাবে হয়রানি শুরু করে বশির।হুমায়রা বশিরের পরিবারে ফিরে না গেলে পরিবারের সকলকে দেখে নেওয়া এবং হুমায়রাকে এসিড মারার হুমকীও দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়রা আক্তার নুপুর।

হুমায়রা আক্তার নুপুর কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৯ সালের প্রথম দিকে কোডেকে চাকুরী নিয়ে নলছিটি উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালন শুরু করি। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় উপজেলার জুরকাঠি গ্রামের মোঃ ইউছুপ মৃধা ও আমার ঋণগ্রহিতা লুৎফুন্নেচ্ছা বেগমের ছেলে বশির আমাকে বিভিন্নভাবে উত্তক্ত করতে থাকে।

এক পর্যায়ে আমার অফিসের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানার পরে আমি বদলি হয়ে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দিগরাজ ব্রাঞ্চে চলে আসি। ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে জুরকাঠি গ্রামের পাশর্^বর্তী বাকেরগঞ্জ ব্যাংকে যাই। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বশির ও তার আত্মীয়রা আমাকে ধরে নিয়ে যায় একটি বাড়িতে। ওই বাড়িতে বসেই রাতে কাজী ডেকে আমাকে বিয়ে করে। আমি কাবিন নামায় স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে বশিরসহ তার আত্মীয়রা আমাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে আমি জীবন বাঁচাতে কাবিন নামায় স্বাক্ষর করি। পরবর্তীতে আমাকে আরও নানা ধরণের অত্যাচার করে বশির।

এই জোরপূর্বক বিয়ে মানতে না পেরে পালিয়ে চলে আসি বাগেরহাটে। ২০২০ সালের ৬ মে আমি বিবোহ রেজিষ্ট্রারের (কাজী) মাধ্যমে বশিরকে তালাক দেই। এর পর থেকে বশির আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমার নামে চুরির মামলা করেছেন বশির। এছাড়া ২২ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম খুলনার চিঠি, সিআইএন২৪নেট, আপননিউজবিডি, সমাজের কথা পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে “স্বামীর অর্থ সম্পদ লুটে নিয়ে তথ্য গোপন করে পুনরায় নুপুরের বিয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাস”সহ বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে বশির মৃধা।

এছাড়াও নাজমুল হোসাইন বশির মৃধা নামক ফেসবুক আইডি থেকে আমার নামে নানা প্রকার আপত্তিকর কথা লিখে পোস্ট দিয়েছে। শুধু তাই নয় এখন আমাকে হেয় প্রতিপন্য করা এবং আমার পরিবারকে শেষ করার জন্য হুমকী দিচ্ছে। আমি এসব বিষয় উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি। আমি বশিরের হাত থেকে মুক্তি চাই। আমি স্বাভাবিক জীবন জাপনের নিশ্চয়তা চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

হুমায়রা আক্তার নুপুর আরও বলেন, বশির মৃধা একজন বিবাহিত উশৃঙ্খল প্রকৃতির মানুষ। তার আগের বউ রয়েছে। তারপরও শুধুমাত্র খারাপ মনবাসনা পূর্ণ করতে আমাকে জোর করে বিয়ে করেছেন। আমি তাকে তালাক দিয়েছি। এরপরে আমার পিছু ছাড়ছেন না। আমি ওর সংসার না করলে আমাকে এসিড মারবে এবং আমাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবে বলে হুমকী দিচ্ছে বশির।

হুমায়রার বাবা মুদি ব্যবসায়ী মোঃ হুমায়ুন কবির জোমাদ্দার বলেন, বশির মৃধা আমাকে ফোনে একাধিকবার হুমকী দিয়েছে। এক পর্যায়ে বলেছে আমি ওর বাড়িতে আমার মেয়েকে না পাঠালে আমাকে মাদক মামলায় ফাসাবে। বশিরের হুমকীতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

অভিযুক্ত বশির মৃধার বলেন হুমায়রার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরে সে আমার বাড়ি থেকে চলে গেছে। আমি শুনেছি আমাকে সে তালাক দিয়েছে। তার কাছে আমার কিছু পাওনা রয়েছে, সে জন্য আমি চুরির মামলা করেছি।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone