শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৫:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

তানোরে কাজের আগেই টাকা উত্তোলন

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১০৭ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে ৫৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সাংস্কারের জন্য গত অর্থ বছরে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু সাংস্কারের আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষ বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে নামমাত্র কাজের নামে পুরো টাকা হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । আবার এই ৫৪ টি স্কুলসহ প্রতিটি স্কুলে স্পি প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকাও বরাদ্দ আসে। সেই টাকাও লুটে নেয়া হয়েছে ।

স্কুল বন্ধ থাকলেও বরাদ্দের টাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না করে বেশির ভাগ টাকা তসরুপ হয়েছে এমন অভিযোগ অহরহ। তারপরেও এসব অভিযোগ মানতে নারাজ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সানাউল্লাহ। তিনি দম্ভক্তি প্রকাশ করে বলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নামীদামী পত্রিকায় কাজ করে এসেছে।রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কর্মরত থাকা কালিন আমার বিরুদ্ধে তদন্ত আসে তাদেরকেও দুপুরের খাবার পর্যন্ত খাওয়াইনি। যে বরাদ্দ স্কুলে এসেছে তাঁর কাজ পাই টু পাই করে বুঝে নেয়া হবে। কাজ মান সম্পন্ন হলেই টাকা ছাড় করা হবে না হলে জবাব দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। এভাবেই সততার বলায়ের কথাগুলো জোর গলায় তিনি ।

জানা গেছে, ২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরে উপজেলার ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিইডিপি-৪ এর আওতায় ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য স্কুল প্রতি বরাদ্দ আসে ২ লাখ টাকা করে। এর মধ্যে ভ্যাট কর্তন ১৫ হাজার ও আইটি কর্তন ৪ হাজারসহ ১৯ হাজার টাকা কর্তন করে প্রতি স্কুলে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকার কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়। এমনকি কাজের আগেই জুন মাসে প্রত্যেক স্কুল বরাদ্দের টাকা তুলে ইচ্ছেমত কাজ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে ।

কিন্তু গত ১৩ জুলাই সোমবার সততার বলায় কারী শিক্ষা কর্মকর্তা সরাসরি জানিয়ে দেন কাজ দেখার পরে টাকা ছাড় করা হবে। অথচ ১৪ জুলাই মঙ্গলবার তিনি স্বীকার করেন অর্ধেক টাকা উত্তোলন হয়েছে। শুধু এই বরাদ্দই না এই ৫৪টি স্কুলসহ উপজেলার ১২৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্পি প্রকল্পের ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য এবং কমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন করোনা থেকে নিরাপদে থাকতে পারেন একারনে গত মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতেই সারা দেশের ন্যায় তানোরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ছুটি ঘোষণা করেন। যা এখনো অব্যাহত আছে। দীর্ঘ লম্বা ছুটির মধ্যে উপজেলার ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাংস্কার করার জন্য ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। ভ্যাট আইটি কর্তন বাদে ৫৪টি স্কুলের বিপরীতে প্রায় ১০ কোটি টাকার সাংস্কারের কাজ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সচেতন মহলের দাবি, মহামারী করোনা ভাইরাসের এই সময় এবং দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ৫৪ টি স্কুলে এত বরাদ্দ দেয়া কতটা সঠিক সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে চিন্তা ভাবনা করা উচিৎ ছিল যে কতটা কাজ হবে নাকি লুটপাট হবে। কারন এই সময়ে মানুষের ব্যাপক হারে কমে গেছে আয়। অপর দিকে বেড়েছে ব্যয়।

কৃষি প্রধান এলাকা উপজেলাটি। এসময় সব চেয়ে কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেয়া কৃষকের জন্য ব্যাপক প্রণোদনা দেয়া উচিৎ ছিল। কারন দেশের খাদ্য উৎপাদনের মুল চালিকা শক্তিই কৃষি। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন এক ইঞ্চি জমি ফেলে রাখা যাবেনা। প্রতি বছরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারের দেয়া নানা প্রকল্প আসে। কিন্তু দেখভালের অভাবে বরাদ্দের অনেক কিছুই তসরুপ করা হয়।

বেশ কিছু স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনার নির্মাণ করতে এবং অনেক স্কুল দীর্ঘদিনের ছুটিতে থাকার কারনে ভবন বাদে ফাকা জায়গায় আবর্জনায় ভরা। শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা মত খরচ হবে কাজ করা মিস্ত্রিরা নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশ না করে একাধিক শিক্ষকরা জানান এসব বরাদ্দের টাকা কাজের চেয়ে কমিটি প্রধান শিক্ষকসহ তাঁর মতের শিক্ষকরা হাতিয়ে নেয়। যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে এসব অনিয়ম দুর্নীতি।শুধু মাত্র শহীদ মিনার নির্মাণ এবং অল্প কিছু স্কুলে রং করা ছাড়া কোন কাজ করা হয়না। স্কুল কমিটির সভাপতি সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ার কারনে লুটপাট হলেও বলার কেউ নেই। জুন মাসে টাকা উত্তোলন হলেও তিন মাসেই অনেক স্কুলে কাজ চলমান এবং অনেকেই কাজ শুরু করেননি।

শিক্ষা অফিসারও স্বীকার করে জানান যে সব স্কুলে শহীদ মিনার নেই সেই সব স্কুলে শহীদ মিনার তৈরিতে রুয়েট থেকে ডিজাইনের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451