বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার দখল বিক্রয়ের ধুম

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সৈয়দপুর রেলওয়ের কজন কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের কারণে রেলওয়ে জমি ও কোয়ার্টার দখল বিক্রয়ের ধুম পড়েছে। অসাধু ওইসব কর্মকর্তার লেলিয়ে দেয়া উপ সহকারি প্রকৌশলী কার্যালয়ের নাইট গার্ড দুলাল নামের এক ব্যক্তির দ্বারা দখলবাজদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করায় দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রায় প্রকাশ্যেই চলছে রেলের জমি ও কোয়ার্টার দখল সহ বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ। গতকাল এইসব অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগে প্রকাশ ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা গড়ে উঠে সৈয়দপুরে। ওই সময়ে রেল বিভাগ প্রায় সাড়ে ৮শ একর ভূ-সম্পত্তি এ্যাকোয়ার করে নেয়। দেশের বৃহৎ রেলওয়ে কারখানা স্থাপনার কারণেই সৈয়দপুর রেলের শহরে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এ শহরের প্রায় ৩ ভাগ জমি ও কোয়ার্টার দখলে চলে যায় দখলদারদের হাতে।

২০১৮ সালে উপসহকারি এক প্রকৌশলী যোগদানের পর কোনো দখলবাজই রেলের কোনো জমি বা কোয়ার্টার দখল করতে পারেন নি। প্রায় ২ বছর বন্ধ থাকে রেলের জমি দখল বিক্রয় বা স্থাপনা নির্মাণ। পরে ওই প্রকৌশলীকে অন্যত্রে বদলি করে শহরের অবশিষ্ট রেলের জমি ও কোয়ার্টার দখলসহ বহুতল ভবন নির্মাণে ধুম পড়েছে।

খোজ নিয়ে দেখা গেছে সৈয়দপুর শহরের হাওয়ালদারপাড়া চাল মার্কেট সংলগ্ন মুন্না নামের এক ব্যক্তি প্রায় প্রকাশ্যেই দুই কোটি টাকা মূল্যের রেলের জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখেছেন। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় উপসহকারি প্রকৌশলী কার্যালয় সহ সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ে এলাকাবাসি অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পান নি।

এ বিষয়ে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণকারী মুন্না জানান রেলওয়ে কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়ে কেউই রেলের জমিতে ভবন নির্মাণ করতে পারবেন না। এছাড়া স্থানীয় এক রেল কর্মকর্তা, দুলাল নামের এক নাইট গার্ডকে পাঠিয়েছিল কথা বলার জন্য। তার সাথে লেনদেনের মাধ্যমেই তিনি তার বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখেছেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া শহরের পাইলট বাংলা হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন, সাহেব পাড়া মিস্ত্রিপাড়াসহ অফিসার্স কলোনীর বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণ কাজ অব্যহত রয়েছে। রেলওয়ে কারখানার জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে কর্মরত পলি ও আনন্দ নামের দুজন কর্মচারি মিস্ত্রিপাড়ার নবি-নগর এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের জমির উপর অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখেছেন।

আতিয়ার কলোনী এলাকায় রেলওয়ের ২২৩নং কোয়ার্টারটি সম্প্রতি রায়হান নামের এক ব্যক্তি দখল করে মানিক নামের ওপর এক ব্যক্তির কাছে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছেন। কিন্তু স্থানীয় রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তাই সেদিকে নজর দিচ্ছেন না। স্থানীয় রেলওয়ের উপসহকারি প্রকৌশলী কার্যালয়ের নাইট গার্ড দুলালের দ্বারা মোটা অঙ্কের অর্থে ম্যানেজ হয়ে তারা চোখ কান বন্ধ রেখেছেন বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলেন এখনই বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কমকর্তা ও রেল মন্ত্রনালয় কঠোর হস্তে দমন না করলে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করা সম্ভবন হবেনা বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন জানান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ সম্ভবন না বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone