বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা উপকূলে জ্বালানি কাঠের তীব্র সংকট; ব্যবহৃত হচ্ছে ‘সুন্দরবনের ফল’

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সাতক্ষীরা উপকূলে জ্বালানি কাঠের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে নদ-নদী দিয়ে ভেসে আসা সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের ফল।

উপকূলের মানুষ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী দিয়ে ভেসে আসা ফল সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর পরিমানে গাছ-গাছালি মারা যাচ্ছে। আবার লবণাক্ততার কারণে নতুন গাছ জন্মাচ্ছেও কম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি বৈচিত্র্য। ফলে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

এছাড়া আগে সুন্দরবন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারলেও বর্তমানে বন থেকে কাঠ সংগ্রহের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এতে উপকূলের মানুষ তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন লাগোয়া একাধিক গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফলই এখন উপকূলের মানুষের জ্বালানি সংকট নিরসনের একমাত্র উপকরণ। এজন্য নারী, পুরুষ, শিশু সবাই নদীতে জাল দিয়ে সংগ্রহ করে ভেসে আসা ফল।

তারপর তা ঘরের চালে কিংবা রাস্তার উপর রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দি করে সংগ্রহ করে মাসের পর মাস। পরে তা দিয়েই চলে রান্না বান্না। খুলনার কয়রা উপজেলার শেষ গ্রাম গোলখালীর স্থানীয়রা এই প্রতিবেদক কে জানান, আইলার আগে গ্রামে বিভিন্ন রকম গাছপালা হতো। তা থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে আমাদের মা বোনরা রান্নাবান্না করত। আইলার পরে আর তেমন গাছপালা হয় না। তারপর পর বুলবুল ঝড়ে যা ছিল তাও শেষ করে দিয়ে গেছে। তাই জ্বালানি কাঠের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার হাসিনা বেগম বলেন, “দুটো খাতি গিলি তো রান্না কোরা লাগবে। তা কি দে রান্না করব? চুলো যে জ্বালাবো তা কি দে? কোন কাঠ নেই। গ্যাস কেনার টাকাও নেই! আমরা তো বাস করি মরুভূমিতে। গাঙদে যে ফল পাতা ভাসি আসে তাই ধুরি শুকুই রান্দি। তাই ছাড়া তো কিছু করার নি।

পরিবেশ গবেষক পীযুষ বাউলিয়া পিন্টু বলেন, সরকারকে সুন্দরবন উপকূলবর্তী মানুষের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে এবং তা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তা না হলে সুন্দরবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কেননা নদী দিয়ে ভেসে আসা ফল থেকে চরে বা বেড়িবাঁধে গাছ জন্মে বনায়ন সৃষ্টি হয়। যা বেড়িবাঁধ রক্ষায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভেসে আসা ফল এলাকাবাসী জ্বালানির জন্য সংগ্রহ করলে প্রাকৃতিকভাবে বনায়ন সৃষ্টি ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone