বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

খুলনা পাওয়ার হাউজ মোড়ে সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের জীবনে অসহাত্ব

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খুলনা পাওয়ার হাউজ মোড়ে বসে অপেক্ষায় আছেন কয়েকশত গরীব অসহায় নারী ও পুরুষ। যাদের মধ্যে রয়েছে ত্রিশ জনের মতই পথ শিশু। এই পথ শিশুদের প্রত্যেকে ছেড়া প্যান্ট, ময়লা যুক্তটি শাট, জামা, কেউ হাফ প্যান্ট চুলে ময়লা জমে জট বেধে গেছে। তারা অপেক্ষায় আছে দুপুরের খাবারে প্যাকেটের জন্য।

করোনা সংক্রামক পর থেকে প্রতিদিন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির’র ব্যাক্তি গত উদ্দ্যেগে নগরীর গরীব অসহায় ও ছিন্নমুলদের মাঝে প্রতিদিন প্রায় দুইশ জনকে প্রতি একজনকে এক প্যাকেট করে বিরিয়ানি ভাত, মাংস দেয়া হয়। এবং এই খাবার পাওয়ার আশায় দুপুর থেকে ছিন্নমুল পথ শিশু ছাড়া ও গরীব অসাহায় ব্যাক্তি সকলে বসে থাকেন।

পথ শিশু হৃদয়, সাগর, সাকিব, আসিফ, ইয়ামিন, নাজিম, ফয়সাল আব্দুল¬াহ সহ অনেকে কখন পুিলশের সেই খাবার বহনকারী পিকআপ গাড়ীটি কখন আসবে তাদের মাঝে। কথা হয় পথ শিশু হৃদয়ের সাথে সুন্দর মিষ্টি চেহারাটির মাঝে রোদ্রে পুড়ে লাল হয়ে গেছে। চুলে ময়লা হয়ে জট হয়ে গেছে ছেলেটির সাথে কথা বলতেই বলে আমরা প্রায় ত্রিশ জনের মত শিশু আছি প্রত্যেকে খুলনা পুরানো রেল স্টেশনে থাকি। তাছাড়া করোনার সময়ে কোন আয় রোজগার নেই রাস্তায় স্টেশনে মানুষ। তেমন বের হতো না। তাই অনেক কষ্টের মধ্যে জীবন চলছে।

এখন রেল স্টেশন খোলা আছে। তাই কিছু বাড়তি আয়ও হয়। জন্মের পর থেকে বাবাকে দেখিনি। শুনেছি বাবা মাকে ফেলে চলে গেছে। তাই মা তাকে নিয়ে পথে, পথে স্টেশনে থাকতো। এখনও তার মা ভিক্ষা করেন। তার সাথে থাকে না। তাই সে এখন একা জীবন কাটাচ্ছে। মাঝের মধ্যে স্টেশনে দেখা করতে আসে। রাত্রে ঘুমায় পুরানো প¬ট ফার্মে বন্ধুদের সাথে। কখনও রাত্রে খাবার জোটে, আবার কখনও না খেয়ে থাকতে হয়। তবে উপার্জন হয় যদি কখনও স্টেশনে যাত্রীদের ব্যাবহারিত কিছু ফেলে দেয়া জিনিসপত্র বা যখন স্টেশনে গাড়ী থামে, সব যাত্রী চলে গেলে সেই গাড়ী পরিস্কার করে সেই স্থানে ফেলে রাখা বর্জ্য ভাঙ্গারি, জিনিস পত্র মালামাল বিক্রি করে।

বা মাঝের মাধ্যে সুযোগ পেলে ভিক্ষা করি। তাছাড়া আমাদের নতুন স্টেশনে দেখলে স্টেশনের দ্বাক্তিরত আনসার সদস্যরা চলে যেতে বলে। যদি না যাই তাহলে মারধর করেন। আমারা করোনাকালিন সময়ে শুধু পুলিশের দেয়া খাবার ছাড়া কিছুই পাইনা। তবে মাঝের মধ্যে কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা আসতো। তারা আমাদের খাবার দিত এবং ছবি তুলে চলে যায়। এখন আপনি আমাদের কিছু দিবেন। এভাবে নগরীর খুলনায় বর্তমান সময়ের পথ শিশুদের জীবনের হালচাল সম্পর্কে বর্ননা জানালেন এক পথ শিশু।

তাছাড়া খোজ নিয়ে জানা যায় খুলনায় যে সকল পথশিশু আছে, যারা কেউ বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাট, নিউ মার্কেট বা খালিশপুর ঘাট এলাকা ও রেললাইনের বস্তিতে, খুলনা কাচা বাজার এলাকা, কাষ্টম ঘাট, রূপসা ঘাট এলাকায় বসাবাস করে। রেল স্টোসন এলাকার স্থানিয় কতিপয় বাসিন্দারা আজ সকালে এই প্রতিবেদক কে বলেন, আমি দির্ঘদিন ধরে দেখছি এবং আমার অভিজ্ঞতায় মনে করি এখানে যতগুলো পথ শিশু বসবাস করে এরা অধিকাংশ একটা সময়ে মাদক আসক্ত, চুরি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কারণ এখানে প্রত্যেক ছিন্নমূল পথশিশু। এরা নিয়ন্ত্রণহীন। তাদেরকে গাইড দেয়ার জন্য কোন অবিভাবক নেই।

তাদের এখন যে বয়স প্রত্যেকে হাতে বই খাতা থাকার বদলে হাতে থাকে সিগারেট। আবার কেউ কেউ ড্যান্ডি আঠা ও শলুষন, জাতীয় এক ধরনের আঠার ঘ্রান নিয়ে নেশা করে এবং এক সময়ে তারা নেশার টাকা যোগাড় করতে যেয়ে বিভিন্ন অপরাধের কারণে হয় কারাগারে থাকতে হয়। না হলে অতিরিক্ত নেশার কারণে পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় চলা ফেরা করে। খুলনায় পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন দির্ঘদিন ধরে (জে,জে,এস) জাগ্রত যুব সংঘ নামের একটি এনজিও। এর পরিচালক এম এম চিশতি বলেন, খুলনা চারশ’র মত পথ শিশু আছে।

এই পথ শিশুদের মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। এই পথ শিশুদের প্রথমত কারণ, যে সকল শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে একা একা বসবাস করতে পারে। দ্বিতীয়ত কারণ পথে কর্মরত শিশু বা যেসব শিশু জীবিকার জন্য তাদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই রাস্তায় ব্যয় করে রাস্তায় বসবাস করে তারাও পথশিশু। তৃতীয়ত কারণ পরিবারের শিশু বা যেসব শিশু তাদের পরিবারের সঙ্গে রাস্তায় বসবাস করে, তারাও পথশিশু। চতুর্থ কারণ সারাদিন রাস্তা ঘাটে ঘোরা ফেরা করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং রাস্তায় সময় কাটিয়ে রাত হলে বাসায় ফেরে তারা ও পথ শিশু।

তাছাড়া আমাদের এনজিওর কার্যক্রম ছিল প্রতিদিন সর্ব্বেচ্চ পঞ্চাশ জন পথশিশুর সকালে ও দুপরে খাবার দেওয়া, তাদের নিয়ে বিভিন্ন প্রকার বিনোদোন দেয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থাকা প্রতিদিন তাদের গোসল করানো এবং শিশুদের মানুষিকভাবে সচেতনাতা বৃদ্ধি করা। তবে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের সকল কার্যক্রম স্থগিত আছে। আমরা আবারো ছিন্নমূল পথ শিশুদেরকে নিয়ে কাজ করব। সেই বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন আছে। তাছাড়া আমার অভিজ্ঞাতায় মনে করি অধিকাংশ পথ শিশুরা সমাজ ব্যাবস্থার কারণে তার ভুল পথে ধাবিত হচ্ছে।

তাদের জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত সরকারে। তা না হলে এরাই এক সময়ে সমাজের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাই সরকারী সহোযোগীতা ছাড়াও সমাজের যেসকল বিত্তবান ব্যাক্তি আছে তারাও যেন পথ শিশুদের ভবিষ্যৎ উজ্জল করার জন্য এগিয়ে আসেন। খুলনা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজ সেবার পরিচালক রকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা বেশ কয়েকজন ছিন্নমূল বালক ও বালিকাদের থাকা খাওয়া ও পড়া লেখার পাশাপাশি মানষিক বিকাশ বৃদ্ধি করছি।

তাছাড়া আমরা সরসরি তাদেরকে নিয়ে কাজ করতে পারছি না বা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে রাখতে পারি না। যেসকল ছিন্নমূল পথশিশু আদালত এর মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে আমরা তাদের জন্য কাজ করি। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনায় যেসকল সুবিধা বঞ্চিত, ছিন্নমুল পথশিশু আছে তাদেরকে সমাজে আলোকিত এবং আদর্শ নাগরীক হিসেবে তৈরি করার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে। পথশিশুদের স্কুলে শিক্ষা ব্যাবস্থা, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা ব্যাবস্থাসহ তাদের থাকা খাওয়ার পাশাপাশি একটি আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে একটি প্রজেক্ট এর চাহিদা সং¯ি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষর নিকট পাঠিয়েছি। মনে হয় পরবর্তি সপ্তাহে অনুমোদোন কার্যকর হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone