সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

ডুমুরিয়ায় গণধর্ষন: বেরিয়ে আসছে মেম্বর ও যুবলীগ নেতার অজানা কাহিনী

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বরূনা গ্রামে গৃহবধূ ও আরাজি ডুমুরিয়া গ্রামে জুটমিল শ্রমিককে গণধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ধামালিয়া ইউনিয়নের মেম্বর নুর ইসলাম ও যুবলীগ কর্মী পরিচয়দানকারী মাহবুর রহমান মোল্লার অজানা কাহিনি প্রকাশ শুরু করেছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ তারা ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজোয়ান হোসেন মোল্লার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তার পরিচয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম চালিযে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকালে সরেজমিনে বরূনা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ইউপি মেম্বর নুর ইসলাম শেখ ও মাহবুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে এলাকায় চাঁদাবাজি, সাধারন মানুষ হয়রানি, নারীদের শ-ীলতাহানির শিকার হতে হয় হর হামেশা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে ফুলতলার ডাউকোনা গ্রামের জনৈক গৃহবধূ স্বামীর বাড়ি থেকে দেবরকে সাথে নিয়ে রুদাঘরা গ্রামে পিতার বাড়ি যাওয়ার সময়ে বরূনা গ্রামে গণধর্ষনের শিকার হন। মারপিট করে বরূনা বাজারের নৈশ প্রহরীদের জিম্মায় তুলে দেয়া দেবর বাচ্চু সরদারকে। কেড়ে নেয়া হয় মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।

এলাকাবাসী জানান, যেদিন গণধর্ষনের ঘটনা ঘটে তার পরদিন ওই এলাকার খয়ের বাওয়ালীর ছেলে রাসেল বাওয়ালী প্রতিবেশি এক নারীর বাড়িতে গেলে অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে ঘরে আটকে রেখে কাজী ডেকে বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে কাজী মাওলানা হাবিবুর রহমানকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় দেয়।

রাসেলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তাকে ছেড়ে দেয়ার শর্তে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। মাওলানা হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেম্বর নুর ইসলাম ও মাহবুর রহমান আমাকে একটি বিয়ে পড়াতে হবে বলে সোমবার রাত ২টার দিকে জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি রাসেলকে ওরা আটকে রেখেছে। পরে ৫০০ টাকা দিয়ে বলে তোমাকে আরও টাকা দেব তুমি চলে যাও বিয়ে পড়াতে হবে না। বাজারের নৈশ প্রহরী মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতার বিবরণ তুলে ধরেন।

এ ছাড়া তাদের অপকর্মের কথাও জানান। বরূনা বাজার কমিটির সভাপতি মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাটি পরদিন শুনেছি। বাজারের নৈশপ্রহরীরা সেদিন রাতে আমাকে কিছু বলেনি। ধামালিয়া ইউনিযন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রেজোয়ান হোসেন মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার বলে বলেন, নুর ইসলাম আমার ভায়রা এবং মাহবুর চাচা সম্পর্কে কিন্তু তাদের এ সকল অবৈধ ও অনৈতিক কাজের সমর্থন আমি করি না। তাদের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে অনেকবার আমি শালিস করেছি। আমি চাই অন্যায়কারীরা শাস্তি পাক।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো: এমদাদ হোসেন জানান বরূনা গ্রামে ফুলতলার গৃহবধূ গণধর্ষনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মাহবুর রহমান মোল্লাকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরাজি ডুমুরিয়ায় বেড়াতে যাওয়া জুট মিল শ্রমিক এবং বরুনা গ্রামে গৃহবধু গণধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের দ্রুত গেফতার ও বিচার দাবিতে শনিবার নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানব বন্ধন করেছে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই ঘটনায় দুজন ধর্ষক গ্রেফতার হলেও অপর আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি।

অপরদিকে ডুমুরিয়ার একর পর এক গণধর্ষনের ঘটনার খবরটি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় উপজেলা যুবলীগের আয়বয়ক গোবিন্দ কুমার ঘোষ জানিয়েছেন জনৈক মাহবুর রহমান মোল্লা যুবলীগের নেতা তো নয়ই সে কর্মীও নয়। কোন অন্যায়কারীকে যুবলীগে আশ্রয় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।

 

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone