বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

তানোরে ভেজাল কীটনাশকে ভরা বাজার প্রতারিত হচ্ছে কৃষক

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজশাহীর তানোরে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বালাই নাশকের দোকান। আর এসব দোকানে ভেজাল কীটনাশকে ভরে গেছে। কোনটি আসল কোনটি নকল বোঝার উপায় নেই। আবার ভারত থেকেই কীটনাশক এনে মোড়ক পালটিয়ে দেদারসে বিক্রি হলেও একেবারেই নিরব অবস্থায় কৃষি বিভাগ।

এতে করে কৃষকরা না জেনে মোড়ক দেখেই এবং দোকানীর পরামর্শে দেদারসে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিটি বালাই নাশকের দোকানে অভিযান চালিয়ে যারা নকল পণ্যে মোড়ক লাগিয়ে বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, এউপজেলাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে চলছে আমনের ভরা মৌসুম। ক্ষেতের ফসলে রোগ-বালাই দমনে নানা পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম কীটনাশক। ফসলের মোট খরচের বেশি অর্ধেকটাই যায় কীটনাশক প্রয়োগে। বর্তমানে বাজারে বেশির ভাগ কীটনাশক প্রয়োগ করে পোঁকা দমন হচ্ছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ।

কীটনাশক উৎপাদনকারী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানী নকল ব্র্যান্ডের ভেজাল কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে অবাধে। এতে শুধু যে কৃষক ঠকছে ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তা নয়, সরকারও বঞ্চিত হ”েছ বিপুল রাজস্ব থেকে।

মূলত বাজারে তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম ও মোড়ক দেখে আসল না নকল চেনতে না পারাই কীটনাশক কেনে থাকেন কৃষকেরা। যার ফলে বাজার এখন ভেজাল কীটনাশকের রমরমা ভাবে চলছে ব্যবসা। যার কারনে পকেট পাকা হচ্ছে পা ফাটা কৃষকের অপর দিকে পকেট ভরছে দোকানীর।

সুত্র মতে , এসব ভেজাল কীটনাশকের একাধিক কারখানা ও সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে নওগাঁ জেলা বিভিন্ন এলাকা। ওই এলাকা থেকে চৌবাড়িয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন দোকানে ছড়িয়ে পড়ছে এসব ভেজাল কীটনাশক। এসব প্রয়োগ করে এক দিকে রোগ বালা তো দূর হচ্ছে বরং দিনের দিন জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

তবে মাঠ পর্যায়ের একাধিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ ছাড়াই যততত্র কীটনাশক বিক্রি করছেন অনেক অসাধু ডিলার। আর ভেজাল ও নকল কীটনাশক গুলো পরীক্ষা করা ল্যাব উপজেলা পর্যায়ে না থাকায় ও তাদের হাতে ভেজাল বিরোধী অভিযানের কোন ক্ষমতা না থাকায় সহজে ধরা যাচ্ছে না বলে তারা দাবি করেছেন।

কৃষকদের অভিযোগ- বাজারে সব চেয়ে বেশি নকল ও ভেজাল কীটনাশক সিনজেন্টা এমিস্টর টপ। এ কীটনাশক ধানের পচন রোগ সারাতে বেশ কার্যকারী। তাই কৃষকদের চাহিদাও বেশি। আর এ সুুযোগে প্রায় কীটনাশক ডিলার সিনজেন্টা কোম্পানীর মোড়কে ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করতে শুর“ করেছেন।

সরকারের কাছে কৃষকদের দাবি, বিশেষ করে ভেজাল ও নকল কীটনাশকের বিষয়ে যেন নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের কীটনাশকের বাজার মনিটরিং করা হয়।

ভেজাল কীটনাশ বিক্রি করেন এমন কয়েকজন দোকানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ভেজাল কারখানায় প্রতিনিয়ত সিনজেন্টা, অটোসহ দেশের নামিদামি কীটনাশক কোম্পানী ব্যান্ডের মোড়কের বোতলে ভরা এসব ভেজাল কীটনাশক দেদারসে বাজারে বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে। এখান থেকে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় ডিলারদের কাছে কার্টুনের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হচ্ছে যা বোঝার কোন উপায় নাই ভেজাল নাকি আসল।

এসব ভেজাল কীটনাশক চেনার কোন উপায় থাকেনা কৃষকের। তারা ক্ষেতে প্রয়োগ করে পোকা দমন করতে পারছেন না। যার কারণে কৃষকেরা আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতির মধ্যে পড়ছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা বাজারে প্রায় ১০টির মত কীটনাশক দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার ৭টি কীটনাশক দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাতটি দোকানের মধ্যে মেসার্স জামান ট্রেডার্স, মেসার্স শিবলী ট্রেডার্স, মেসার্স হাফিজ ট্রেডার্স ও মেসার্স মাসুম ট্রেডার্সে সিনজেন্টা কোম্পানীর ভেজাল ও নকল ইমিস্টর টপ বিক্রি অনেকটা প্রকাশ্যে। এ চারটি দোকানের সিনজেন্টা কোম্পানীর এজেন্ট কোন পত্র নেই।

তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার গোরাঙ্গাপুর গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, তার আমন ক্ষেতে পচন রোগ দেখা দেয়। মুন্ডুমালা বাজারে মেসার্স জামান ট্রেডার্স এর মালিক বাবুর কাছে গিয়ে ক্ষেতে পচনের কথা জানালে তিনি এমিস্টর টপ নামের একটি বড় কীটনাশক বোতল কিনতে বলে।

বোতলের গায়ে ১৬৫০ টাকা মুল্য থাকলেও দোকানী তাকে ১২০০ টাকায় দেন। কম দামে পাওয়া নিয়ে গিয়ে ক্ষেতে প্রয়োগ করি। কিন্ত এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও পচন কোন প্রকার দমন করতে পারিনি।

বাজারে নকল ও ভেজার কীটনাশক পাওয়ার কথা স্বীকার করে তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী বলেন, এসব ভেজাল কীটনাশকগুলো পরীক্ষা করার জন্য কোন ল্যাব উপজেলা পর্যায়ে নেই।

একইভাবে এ গুলো প্যাকেটজাত হয়ে থাকে, ব্যান্ডের মোড়ক দেখে চেনার উপায় থাকে না এগুলো নকল কিনা আসল। তবে কৃষকেরা এসব কীটনাশক ব্যাবহার করে কোন কাজে আসছেনা বলে ভরি ভরি অভিযোগ রয়েছে। আমরা বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে জানিয়েছি।

এছাড়াও অধিক টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাপকহারে কীটনাশকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে উপজেলায়। কেন এত লাইসেন্স না জেনে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দেয়া হল সে ব্যাপারে জোরালো অভিযানের দাবি উঠেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম বলেন, বাজারে ভেজাল ও নকল কীটনাশক ও বীজ পাওয়া যাচ্ছে- এমন সংবাদের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে কৃষকদের কীটনাশক কেনার সময় অবশ্যই সে কীটনাশক ডিলারের কাছ থেকে মেমু সংগ্রহ করতে হবে। কারণ কীটনাশক ব্যবহার করে কোন কাজ হচ্ছেনা পরে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

আর মেমু নেওয়ার পরে যদি কাজ না হয় সে ক্ষেত্রে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারবো। এজন্য কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে।

Surfe.be - Banner advertising service

https://www.facebook.com/gnewsbd24

Leave a Reply

More News Of This Category
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-3423136311593782"
     crossorigin="anonymous"></script>
© All rights reserved © 2011 Live Media
কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
freelancerzone